বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ওয়ানডে দলের অধিনায়ক হিসেবে মেহেদী হাসান মিরাজকে ২০২৭ সাল পর্যন্ত রেখে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। একইভাবে টি-টোয়েন্টি দলের নেতৃত্বে ২০২৮ বিশ্বকাপ পর্যন্ত থাকছেন লিটন কুমার দাসও। এছাড়া বিসিবিতে সুযোগ পেয়েছেন বাংলাদেশের সেরা স্পিনার মোহাম্মদ রফিক। নানা সময়ে বিপিএল কিংবা ঘরোয়া ক্রিকেটের অন্যান্য আসরে রফিককে দেখা যেত। কিন্তু এবার তাকে নিয়োগ দিয়েছে বিসিবি। বিসিবির স্পিন বোলিং কোচ হিসেবে কাজ করবেন তিনি। দেশের নানা পর্যায়ের স্পিনাররা পাবেন তার তালিম। ক্রিকেট বোর্ডের চতুর্থ বোর্ড সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয় বিসিবি। গত বছরের জুনে এক বছরের চুক্তিতে অধিনায়কত্ব পাওয়া মিরাজ ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা দুটি হোম সিরিজ জয়ের মাধ্যমে বোর্ডকে সন্তুষ্ট করতে সক্ষম হয়েছেন। সেজন্যই তাকে দীর্ঘমেয়াদে দায়িত্বে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিবি। বিসিবির ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের চেয়ারম্যান নাজমুল আবেদীন ফাহিম জানান, ‘আমাদের টি-টোয়েন্টি অধিনায়কের মেয়াদ ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর শেষ হয়েছে। তাই বর্তমান অধিনায়ক ও সহ-অধিনায়ককে ২০২৮ বিশ্বকাপ পর্যন্ত রাখা হচ্ছে। একই সময়ে ওয়ানডে অধিনায়কের মেয়াদও শেষের পথে। আমরা মনে করি, অধিনায়কদের নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়া এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’

এদিকে কোচিং স্টাফ শক্তিশালী করতে সাবেক বাঁহাতি স্পিনার মোহাম্মদ রফিককে এক বছরের চুক্তিতে স্পিন বোলিং পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে বিসিবি। স্পিনারদের নিয়েই মূলত কাজ করবেন তিনি। ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান নাজমুল আবেদীন ফাহিম বলেছেন, ‘মোহাম্মদ রফিকের যে পারফরম্যান্স দেখি... ওর ক্যারিয়ারের পারফরম্যান্স এবং এখনও ওর খেলা যখন আমরা দেখি, তখন মনে হয় না যে অবসর নেওয়া একজন খেলোয়াড়। ওর যে ইনটেন্ট থাকে, মাঠের মধ্যে বড় বড় ব্যাটসম্যানদের বিরুদ্ধে সাধারণ একটা খেলায়ও... কাজেই আমাদের মনে হয়েছে, অনেক কিছু দেওয়ার আছে। ও যদি আমাদের জুনিয়র লেভেলের ক্রিকেটার, এমনকি সিনিয়র লেভেলের ক্রিকেটার, যারা স্পিন বোলিং করে, তাদের সাথে যদি কাজ করে, ওর কাছ থেকে যে টিপসগুলো ওরা পাবে, সেটা ওদের জন্য খুব উপকারী হবে।’

বাংলাদেশের হয়ে ৩৩ টেস্ট, ১২৫ ওয়ানডে ও ১টি টি-টোয়েন্টি খেলেছেন রফিক। ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই রফিক ছিলেন নিবেদিতপ্রাণ। খেলাই ছিল সব তার। খেলা ছাড়ার পর তাকে সেভাবে কাজে লাগানো হয়নি। তবে বিশেষায়িত একজন স্পিন কোচ যে বাংলাদেশের জন্য প্রয়োজন তা অনেক দেরিতে বুঝেছে বোর্ড। নাজমুল আবেদীন বলেছেন, ‘সত্যি বলতে, আমরা যদি একটু হিসাব করি, আমাদের প্রায় ৮-১০ জন পেস বোলিং কোচ আছেন। কিন্তু আমরা পিছন ফিরে তাকালে দেখব, ৩ জন স্পিন কোচ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না আমাদের দেশের ক্ষেত্রে। ওই জায়গাটা খুব অ্যালার্মিং। আমাদের নিজস্ব কিছু স্পিন কোচ তৈরি করতে হবে।’ রফিক প্রায় তৈরি একজন কোচ, যে এখনই সার্ভ করতে পারবে। এর পাশাপাশি আরও আমরা ৪-৫ জনকে ভবিষ্যতে হয়তো দেখতে পাব, যাদেরকে আস্তে আস্তে গড়ে তোলার চেষ্টা করব। কারণ আস্তে আস্তে আমরা যখন বিকেন্দ্রীকরণে যাচ্ছি, আমরা কিন্তু এইগুলোর মুখোমুখি হচ্ছি যে, আমাদের যথেষ্ট লোকবল নেই, স্পেশালাইজড লোকবল নেই।

ওটা খুব প্রয়োজন হবে আমাদের। ওইটা মাথায় রেখেই রফিককে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।’ এছাড়া সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার সুমনের নেতৃত্বে নতুন নির্বাচক প্যানেল অনুমোদন দিয়েছে বোর্ড। পাশাপাশি খেলোয়াড়দের জন্য অ্যাওয়ার্ড নাইট পুনরায় চালু করা, ক্রীড়া সাংবাদিকদের বিদেশে স্কলারশিপের সুযোগ তৈরি এবং প্রতি তিন মাসে একটি ক্রীড়া জার্নাল প্রকাশের পরিকল্পনাও রয়েছে বোর্ডের।