আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বর্তমান পরিচালন পর্ষদ ভেঙে তামিম ইকবালকে প্রধান করে ১১ সদস্যের এডহক কমিটি গঠন করেছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানিয়েছেন এনএসসির ক্রীড়া পরিচালক আমিনুল এহসান। নতুন সরকারের অধীনে পাঁচ সদস্যের স্বাধীন তদন্ত কমিটি নিজেদের প্রতিবেদন জমা দেয় গত ৫ এপ্রিল। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বুলবুলের বোর্ড ভেঙে দিয়েছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। শুরুতে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন তুলে ধরা হয়। এরপরই জানানো হয় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। আইসিসিকেও ইমেইলে বিষয়টি জানানো হয়েছে বলেও জানান এনএসসির ক্রীড়া পরিচালক।

সংবাদ সম্মেলনে আমিনুল বলেন, 'আপনারা এতটুকু উপলব্ধি করতে পেরেছেন যে বিসিবি নির্বাচনটিতে কমিটি অনেকগুলো অনিয়ম হয়েছে। আপনারা জানেন এনএসসি বা জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ বাংলাদেশের সকল ক্রীড়াকে সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করার জন্য ফেডারেশনগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। কোন অনিয়ম দেখা যায় সেক্ষেত্রে এনএসসি বিভিন্ন রকমের পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে।' এরপর আমিনুল ইসলাম বুলবুলের অধীন ক্রিকেট বোর্ড ভেঙে দেওয়া সিদ্ধান্ত জানিয়ে বলেন, 'বর্তমান বিসিবি কমিটি গঠনে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণের দুর্বলতা ছিল অনিয়ম ছিল। সেই প্রেক্ষিতে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ইতিমধ্যেই বিশ্ব ক্রিকেট নিয়ন্ত্রণ সংস্থা আইসিসির নিকট একটি ইমেইল পাঠিয়েছে। সেই ইমেইলে এই কমিটিকে ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।'

নিজেদের গৃহীত সিদ্ধান্ত আইসিসিও মেনে নেবে উল্লেখ করে বলেন, 'অত্যন্ত স্বচ্ছতার সাথে কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি রিপোর্ট দিয়েছে এবং ওই রিপোর্টকে যথাযথভাবে পর্যালোচনা করেই আইনি কাঠামোর ভেতরে থেকেই এই সিদ্ধান্তটি গ্রহণ করা হয়েছে। সুতরাং এই সিদ্ধান্তটি আশা করি অবশ্যই বলবৎ থাকবে।' এরপরই এডহক কমিটির ১১ সদস্যের নাম জানান তিনি। তামিম ছাড়া এডহক কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন: রাশনা ইমাম, মির্জা ইয়াসির আব্বাস, সৈয়দ ইব্রাহিম আহমেদ, ইসরাফিল খসরু, মিনহাজুল আবেদীন, আতহার আলী খান, তানজিল চৌধুরী, সালমান ইস্পাহানি, রফিকুল ইসলাম বাবু, ফাহিম সিনহা। এনএসসি গঠিত এডহক কমিটি আগামী তিন মাসের মধ্যে একটি নির্বাচিত কমিটি উপহার দিতে বাধ্য থাকবে। একই সাথে আগামী তিন মাস ক্রিকেটের স্বাভাবিক কার্য যেগুলো আছে সেগুলো পরিচালনা করার জন্য নির্বাচিত কমিটির মতই ক্ষমতাপ্রাপ্ত থাকবে বলে জানালেন বলেন ক্রীড়া পরিচালক।

প্রসঙ্গত, গত বছরের অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হয়েছিল বিসিবির নির্বাচন। আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন পরিচালনা পর্ষদ বয়স ছয় মাস হওয়ার মধ্যেই বিলুপ্ত হলো। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই অবশ্য চরম বিরোধিতার মুখে পড়েছেন বুলবুল। অনিয়মের অভিযোগ এনে নির্বাচনের পরপরই বিসিবিকে বয়কট করেছিলেন অনেক ক্লাব কাউন্সিলররা। প্রথম বিভাগ লিগেও অংশ নেয়নি ৮টি দল। একই কারণে এবার ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ নিয়েও দেখা দেয় অনিশ্চয়তা। তার ওপর আবার বিদ্রোহী কাউন্সিলরদের দেয়া চিঠির ভিত্তিতে বিসিবির সর্বশেষ নির্বাচনে অনিয়ম নিয়ে তদন্ত করেছে এনএসসি। তদন্তের পর বিলুপ্তই করা হলো কমিটি। সাবেক তারকা বুলবুলের নেতৃত্বে কমিটি গঠনের পর পদত্যাগই করেছিলেন ৭ জন পরিচালক। এর মধ্যে গত শনিবারের বোর্ড সভার দিনই পদত্যাগ করেন চারজন। বোর্ড সভা শেষেই পদত্যাগ করেন ফাইয়াজুর রহমান। পরে রাত ১০টার দিকে পদত্যাগপত্র দেন শানিয়ান তানিম ও মেহরাব আলম চৌধুরি। এরপর গভীর রাতে পদত্যাগ করেন মঞ্জুর আলমও। পদত্যাগ করা আগের ৩ পরিচালক হলেন- ইশতিয়াক সাদেক, ইয়াসিন ফয়সাল ও আমজাদ হোসেন।