ঢাকার পর সিলেট টেস্টেও জয়ের পথে বাংলাদেশ। জয়ের জন্য পাকিস্তানকে বিশাল টার্গেট দিয়েছে টাইগাররা। মুশফিকুর রহিমের রেকর্ড সেঞ্চুরিতে শেষ টেস্ট জয়ের জন্য পাকিস্তানকে ৪৩৭ রানের লক্ষ্য দেয় স্বাগতিক বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংস থেকে পাওয়া ৪৬ রানের লিডকে সাথে নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ১০২.২ ওভার ব্যাট করে ৩৯০ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। মুশফিক ১৩৭ রানের নান্দনিক ইনিংস খেলেন। টেস্টের প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ২৭৮ ও পাকিস্তান ২৩২ রান করেছিল। দ্বিতীয় দিন শেষে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ৩ উইকেটে ১১০ করেছিল বাংলাদেশ। তৃতীয় দিন বাংলাদেশকে বড় লিড এনে দিতে পঞ্চম উইকেটে লিটন দাসের সাথে ১২৩, সপ্তম উইকেটে তাইজুল ইসলামের সাথে ৭৭ রানের জুটি গড়েন মুশফিক। সেই সাথে টেস্টে ১৪তম সেঞ্চুরিও পূর্ণ করেন তিনি। এই শতকে মোমিনুল হককে টপকে বাংলাদেশের হয়ে টেস্টে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির মালিক হন মুশি। শেষ ব্যাটার হিসেবে মুশফিক আউট হলে ৩৯০ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। ১২টি চার ও ১টি ছক্কায় ২৩৩ বলে ১৩৭ রান করেন মুশফিক। এছাড়া লিটন ৬৯ ও মাহমুদুল হাসান জয় ৫২ ও তাইজুল ২২ রান করেন। পাকিস্তানের খুররাম শাহজাদ ৪টি, সাজিদ খান ৩টি ও হাসান আলি ২টি উইকেট নেন। টেস্টের তৃতীয় দিনে ব্যাটিং দাপট দেখানোর পর শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৯০ রানে অলআউট হয়েছে স্বাগতিকরা। প্রথম ইনিংসের সঙ্গে যোগ হয়ে সফরকারীদের সামনে এখন জয়ের লক্ষ্য দাঁড়িয়েছে ৪৩৭ রান। দিনের শুরুটা ছিল কিছুটা চাপের। ৩১ ওভারে ৪ উইকেটে ১১৬ রান নিয়ে দিন শুরু করা বাংলাদেশ প্রথম ঘণ্টার মধ্যেই হারায় অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তকে। পাকিস্তানের পেসার খুররম শাহজাদের বলে এলবিডব্লিউ হন তিনি। রিভিউ নিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি। পেস সহায়ক উইকেট ও মেঘলা আকাশের নিচে শুরুতে সতর্ক থাকলেও ধীরে ধীরে ইনিংস গুছিয়ে নেন তারা। বিশেষ করে লিটন শুরু থেকেই সাবলীল ব্যাটিং করেন। অন্যদিকে মুশফিক ছিলেন একেবারে ধৈর্যশীল ও টেকনিক্যাল। ম্যাচের ৪৬তম ওভারের দিকে তাদের জুটি বাংলাদেশের ইনিংসকে স্থিতিশীল করে তোলে। এরপর রান আউটের একটি সহজ সুযোগ হাতছাড়া করে পাকিস্তান, যা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারত। বাবর আজমের থ্রো স্টাম্পে না লাগায় বেঁচে যান লিটন। সেই জীবন পাওয়া ইনিংসকে আরও এগিয়ে নিতে সাহায্য করে। দ্বিতীয় সেশনে বাংলাদেশ আরও আক্রমণাত্মক ব্যাটিং শুরু করে। লিটন ৬৭ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন এবং রানের গতি বাড়িয়ে দেন। অন্যদিকে মুশফিকও পৌঁছে যান ফিফটিতে। যা ছিল তার টেস্ট ক্যারিয়ারের ৩০তম অর্ধশতক। দুইজনের ব্যাটে পাকিস্তানি বোলারদের ওপর চাপ বাড়তে থাকে। তবে সেঞ্চুরির পথে থাকা লিটনকে থামিয়ে দেন হাসান আলী। ৯২ বলে ৬৯ রান করে তিনি সৌদ শাকিলের হাতে ক্যাচ দেন। তার ইনিংসে ছিল ৫টি চার। লিটনের বিদায়ের পর কিছুটা ধাক্কা খেলেও ইনিংস থেমে থাকেনি। এরপর মেহেদী হাসান মিরাজকে সঙ্গে নিয়ে বড় জুটি গড়েন মুশফিক। দ্রুত রান যোগ করতে থাকেন তারা এবং বাংলাদেশের লিড ৩০০ রানের ঘরও ছাড়িয়ে যায়। তবে ব্যক্তিগত ১৯ রান করে মিরাজ বোল্ড হলে আবারও ভাঙে জুটি। এই পর্যায়ে এসে মুশফিক পৌঁছে যান এক ঐতিহাসিক মাইলফলকে। ৭৩তম ওভারে দুই রান নিয়ে তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১৬ হাজার রানের ক্লাবে প্রবেশ করেন। এর মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হিসেবেও নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেন। পাশাপাশি তিনি নিজের ১৪তম টেস্ট সেঞ্চুরিও আদায় করেন যা বাংলাদেশের মধ্যে সর্বোচ্চ। ইনিংসের শেষ দিকে দ্রুত রান তোলার চেষ্টা চালায় বাংলাদেশ। নিচের দিকের ব্যাটারদের আক্রমণাত্মক শট খেলার চেষ্টায় স্কোরবোর্ড দ্রুত এগোয়। তবে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে স্বাগতিকরা। তাইজুল ইসলাম এবং শরিফুল ইসলামের মতো ব্যাটাররা কিছুটা অবদান রাখলেও ইনিংস দীর্ঘ করা সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত ৩৯০ রানে থেমে যায় বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংস, পাকিস্তানের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ৪৩৭ রান।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ২৭৮
পাকিস্তান ১ম ইনিংস: ২৩২
বাংলাদেশ ২য় ইনিংস: (আগের দিন ১১০/৩) ২৬.৪ ওভারে ১১০/৩ (শান্ত ১৫, মুশফিক ১৩৭, লিটন ৬৯, মিরাজ ১৯, তাইজুল ২২, তাসকিন ৬, শরিফুল ১২, নাহিদ ০*; আব্বাস ২৩-২-৬৬-১, শাহজাদ ২০-৩-৮৬-৪, হাসান ২৩-২-৮৩-২, সাজিদ ৩৩.২-২-১২৬-৩, সালমান ১-০-৫-০, শাকিল ২-০-১৩-০)।