রাজশাহীতে ওয়ানডে সিরিজে বাংলাদেশকে হারিয়ে সমতা এনেছে শ্রীলংকান মেয়েরা। প্রথম ওয়ানডেতে শ্রীলংকাকে ৩ উইকেটে হারিয়ে তিন ম্যাচ সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ নারী দল। কিন্তু দ্বিতীয় ম্যাচে জয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে পারল না নিগার সুলতানা জ্যোতির দল। আগামী শনিবার সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হবে দুদল। গতকাল রাজশাহীর শহিদ কামরুজ্জামান স্টেডিয়ামে আগে ব্যাট করতে নেমে ৪৫.৩ ওভারে ১৬৫ রানে অলআউট হয়ে যায় বাংলাদেশের মেয়েরা। লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৬ উইকেট হারালেও ৩৮.২ ওভারে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় শ্রীলংকা নারী দল। অলরাউন্ড নৈপুণ্যে ম্যাচসেরা নির্বাচিত হয়েছেন লঙ্কান অধিনায়ক চামারি আত্তাপাত্তু। ১৬৬ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ৫ রান করে সাজঘরে ফেরেন ওপেনার হাসিনি পেরেরা। আর আউট হওয়ার আগে ৮ রান করেন ইমেশা দুলানি।
এদিকে আগ্রাসী ভঙ্গিমায় ব্যাট করতে থাকা ওপেনার ও দলনেতা চামিরা আতাপাতু ব্যাট হাতে করেন ৪০ রান। ৩৯ বলে খেলা তার ইনিংসটি আটটি চারে সাজানো। চতুর্থ উইকেটে হারশিথা সামারাবিক্রমা ও হানসিমা করুনারতেœর ৭৭ রানের জুটিতে জয়ের ভিত পেয়ে যায় সফরকারীরা। তবে জয় নিয়ে ফিরতে পারেননি এই দুই ব্যাটারের কেউই। ৪০ রানে করুনারতেœ ও ৫০ রানে সামারাবিক্রমা আউট হয়ে সাজঘরে ফেরেন। আর ৪ রানে ফেরেন কৌশানি। এরপর জয় নিয়ে মাঠ ছাড়েন কাভিশা ও নীলাক্ষী। বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ চারটি উইকেট নেন নাহিদা আক্তার। আর একটি করে উইকেট নেন সুলতানা খাতুন ও রিতুমনি। এর আগে, টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশের অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি। কিন্তু অধিনায়কের নেয়ার সিদ্ধান্তের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি বাংলাদেশের টপঅর্ডাররা। মাত্র ৪ রানের মাথায় সাজঘরে ফেরেন দুই ব্যাটার। ২ রানে জুয়াইরিয়া ফেরদৌস ও শূন্য রানে শারমিন আক্তার আউট হন। দলনেতা জ্যোতি একপ্রান্ত আগলে রাখলেও তাকে সঙ্গ দিচ্ছিলেন না কেউই। সময়ের পরিক্রমায় বাংলাদেশ হারাতে থাকে একের পর এক উইকেট। ফিফটির দেখা পেয়েছেন জ্যোতি। আউট হওয়ার আগে করেন ৫৮ রান। ১০১ বলে খেলা তার এই ইনিংসটি চারটি চারে সাজানো। এছাড়া শারমিন সুলতানা ২৫, সোবহানা মোস্তারি ৫, স্বর্ণা আক্তার ১৬, রিতুমনি ১৭, নাহিদা আক্তার ২০, রাবেয়া খান ১৫, মারুফা আক্তার ১ ও সুলতানা খাতুন ১ রান করেন। আর বাংলাদেশের ইনিংস থামে ১৬৫ রানে। শ্রীলঙ্কার হয়ে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন দলনেতা চামারি আতাপাতু। আর দুটি করে উইকেট নেন তিনজন বোলার।