অন্তত দশজন নিয়মিত ক্রিকেটার ছাড়াই সিরিজ খেলতে সোমবার ঢাকায় এসেছে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট দল। আইপিএল ও পিএসএলের ব্যস্ততার কারণে তারকাদের অনুপস্থিতিতে এই সফরটিকে কিউইদের জন্য একটি ‘কৌশলগত আশীর্বাদ’ হিসেবে দেখছেন এই সিরিজের অধিনায়ক টম ল্যাথাম। তার মতে, এটি দলের ভবিষ্যৎ গভীরতা ও শক্তি বাড়ানোর এক দারুণ সুযোগ। ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে নিউজিল্যান্ড দল দুটি আলাদা ফ্লাইটে বাংলাদেশে আসছে। একটি ছোট গ্রুপ বিকেলে পৌঁছালেও দলের মূল অংশটি নামবে রাতে আসবে। ভ্রমন ক্লান্তি কাটাতে আজ মঙ্গলবার কোন অনুশীলন সেশন রাখেনি কিউইরা। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সুত্রে জানা গেছে, আগামীকাল বুধবার থেকে মিরপুরের ইনডোরে প্র্যাকটিস সেশনে নামবে নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেটাররা।

নিউজিল্যান্ড থেকে রওয়ানা দেওয়ার আগে সেখানে সিরিজ নিয়ে কথা বলেন ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক ল্যাথাম। অভিজ্ঞ তারকাদের ছাড়াই এই চ্যালেঞ্জিং সফরের পরিকল্পনা নিয়ে তিনি বলেন, ‘বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় আইপিএল এবং পিএসএলে থাকায় এই সফরটি তরুণ বা তুলনামূলক কম অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের জন্য দারুণ এক সুযোগ। তবে আমাদের স্কোয়াডের প্রত্যেকেরই নিউজিল্যান্ডের হয়ে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি বা ওয়ানডে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে। এই অভিজ্ঞতা আসন্ন সিরিজে আমাদের ভালো করতে সাহায্য করবে। পাশাপাশি এটি দলের লাইনআপে নতুন খেলোয়াড় তৈরি করে গভীরতাও বাড়াবে।’

বাংলাদেশের কন্ডিশনে স্পিন যে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে, সেটি ল্যাথাম বেশ ভালো করেই জানেন। কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া প্রসঙ্গে তার মন্তব্য ছিল এমন, ‘আমরা জানি বাংলাদেশে স্পিন একটা বড় ভূমিকা পালন করে এবং এখানকার কন্ডিশন নিউজিল্যান্ডের চেয়ে অনেক আলাদা। বিদেশের কন্ডিশনে ভালো শুরুর জন্য প্রস্তুতির সময়টা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের জন্য দ্রুত মানিয়ে নেয়াটা জরুরি এবং আশা করি আমরা সেটা কার্যকরভাবে করতে পারব।’

উল্লেখ্য আগামী ১৭ এপ্রিল মিরপুরের শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথম ওয়ানডের মাধ্যমে মাঠের লড়াই শুরু হবে। এরপর ২০ এপ্রিল একই ভেন্যুতে দ্বিতীয় ওয়ানডে খেলে দুই দল বন্দরনগরী চট্টগ্রামে যাবে। সেখানে ২৩ এপ্রিল সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে। ওয়ানডে সিরিজ শেষে শুরু হবে কুড়ি ওভারের লড়াই। চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে ২৭ ও ২৯ এপ্রিল সিরিজের প্রথম দুটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ১ মে ঢাকায় সিরিজের শেষ টি-টোয়েন্টি খেলে ২ মে বাংলাদেশ ছাড়বে নিউজিল্যান্ড দল।স্বাগতিক বাংলাদেশ অবশ্য নিউজিল্যান্ডের মতো পরীক্ষা-নিরীক্ষার পথে হাঁটেনি। পাকিস্তান সিরিজের জয়ী দলটিকেই এই সিরিজের জন্য অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। বিশ্বকাপের সরাসরি জায়গা নিশ্চিত করতে ও ঘরের মাঠে জয়ের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে মুখিয়ে আছে স্বাগতিক দল।