ঢাকা টেস্টের প্রথম দিনে দাপট দেখিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু দ্বিতীয় দিনটি কাটল হতাশায় মোড়ানো। শেষ ৬ উইকেটে বাংলাদেশ যোগ করতে পারে মাত্র ১১২ রান। ফলে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৪১৩ রান। এরপর বোলিংয়ে নেমেও হতাশ করেছেন বাংলাদেশের বোলাররা। নাহিদ-তাসকিনদের দুর্বল বোলিংয়ের সুযোগ নিয়ে পাকিস্তান ১ উইকেটে তুলে ফেলে ১৭৯ রান। দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে দলের প্রতিনিধি হয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসে মোহাম্মদ সালাউদ্দিন জানালেন, তার দল ৫০ রান কম করেছে এবং বোলিংও ছিল এলোমেলো। আজ পাকিস্তান তৃতীয় দিনের খেলা শুরু করবে ২৩৪ রানে পিছিয়ে থেকে। তাদের হাতে এখনও ৯ উইকেট। সালাউদ্দিন ব্যাটিং ও বোলিং দুই বিভাগের ঘাটতির কথাই তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, ‘সকালে পাকিস্তান ভালো বোলিং করেছে। আমার মনে হয়, আমরা যদি আরও ৫০ রান করতে পারতাম, তবে অনেক ভালো হতো, যদিও আমরা ৪০০ রান অতিক্রম করেছি। বোলিংয়ের ক্ষেত্রে বলব, আজ আমরা একটু এলোমেলো বল করেছি। যেহেতু এটি টেস্ট ক্রিকেট, আমাদের বিশ্লেষণের সুযোগ আছে যে কোথায় বল করলে ব্যাটসম্যানরা বেশি চাপে থাকবে। আশা করি আমরা তা কাটিয়ে উঠতে পারব।’ ওভারপ্রতি প্রায় ৪ রান করে তুলেছে পাকিস্তান। লম্বা সময় পর টেস্ট খেলতে নামা তাসকিন আহমেদ ৮ ওভারে দিয়েছেন ৪০ রান, ইবাদত হোসেন ৮ ওভারে দেন ৩৮ রান। নাহিদ রানার ৯ ওভার থেকে এসেছে ৪৭ রান। তিনজনই বেশ আলগা বল করেছেন। সালাউদ্দিনের মতে, বোলারদের পরিকল্পনাহীন বোলিংয়ের সুযোগ নিয়েছে পাকিস্তান, ‘অনেক সময় বাজে বল করলে ব্যাটিং করা খুব সহজ হয়ে যায়। আজ (গতকাল) আমরা কিছুটা এলোমেলো বল করেছি, যার ফলে রান দ্রুত উঠেছে। আমরা যদি সঠিক চ্যানেলে বল করতাম, তবে হয়তো পাকিস্তান এত সহজে রান করতে পারত না।’ বাংলাদেশের পেসাররা নিয়মিত ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে বল করতে পারেন। গতির দিকে বেশি মন দিতে গিয়ে লাইন-লেন্থে গড়বড় হওয়া বিষয়টিকে উড়িয়ে দিচ্ছেন না সালাউদ্দিন। তার ভাষ্য, ‘উইকেটে ঘাস থাকলে ফাস্ট বোলাররা অনেক সময় উত্তেজিত হয়ে পড়ে এবং লাইন-লেন্থ হারিয়ে ফেলে। আমাদের ভালো জায়গায় বল করা খুব জরুরি ছিল। উইকেটে মুভমেন্ট থাকায় বোলাররা হয়তো ভেবেছিল জোরে বল করে ব্যাটসম্যানকে পরাস্ত করবে, কিন্তু ভালো জায়গায় বল করাই ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’ সালাউদ্দিনের আশা, তৃতীয় দিনেই বাংলাদেশের পেসাররা ঘুরে দাঁড়াবেন, ‘এই উইকেটে বোলারদের এখনও অনেক কিছু করার আছে। আমরা একটা সেশন ভালো করিনি, এটা সবাই বুঝতে পারছে। এটি দ্রুত সমাধান করা সম্ভব। আমাদের ফাস্ট বোলাররা অভিজ্ঞ এবং তারা আমাদের অনেক ম্যাচ জিতিয়েছেন। তারা নিশ্চয়ই ঘুরে দাঁড়াবেন। এখানে স্পিনারদের জন্য খুব বেশি কিছু নেই, কারণ বল এখনও ঘুরছে না।’ বাংলাদেশের বোলাররা নিয়ন্ত্রণহীন বোলিং করলেও পাকিস্তানের পেসার মোহাম্মদ আব্বাস ধারাবাহিকভাবে ভালো বোলিং করে গেছেন। পাকিস্তানের এই পেসারের প্রশংসাও করেছেন বাংলাদেশের এই কোচ, ‘সে এক জায়গায় ধারাবাহিকভাবে বল করতে পারে, যা তার প্রধান শক্তি। সে আগেও এটি করেছে। গতকাল (শুক্রবার) আমরা তাকে খুব ভালোভাবে সামলেছিলাম, কিন্তু আজকের কন্ডিশন সে ভালোভাবে কাজে লাগিয়েছে। লিটন দাস যদি আরেকটু দীর্ঘ সময় ব্যাটিং করতে পারত, তবে আমাদের জন্য ভালো হতো।’ পাকিস্তানের ইনিংসে স্লিপে দাঁড়িয়ে মাহমুদুল হাসান জয় ও সাদমান ইসলাম দুটি ক্যাচ মিস করেছেন। যদিও খুব সহজ ক্যাচ ছিল না। তারপরও স্লিপ ফিল্ডার হিসেবে এমন ক্যাচ ধরতে পারাটা দলকে এগিয়ে রাখে। বাংলাদেশের স্লিপ ফিল্ডিং নিয়ে সালাউদ্দিন বলেন, ‘আমাদের কিছু ক্ষেত্রে উন্নতির অনেক প্রয়োজন, বিশেষ করে স্লিপ ফিল্ডিংয়ে। এটি একটি বিশেষায়িত জায়গা। এই জায়গাগুলোতে কীভাবে উন্নতি করা যায়, তা নিয়ে আমরা কথা বলব।’
ক্রিকেট
এলোমেলো বোলিং করেছে বাংলাদেশ : কোচ সালাউদ্দিন
ঢাকা টেস্টের প্রথম দিনে দাপট দেখিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু দ্বিতীয় দিনটি কাটল হতাশায় মোড়ানো। শেষ ৬ উইকেটে বাংলাদেশ যোগ করতে পারে মাত্র ১১২ রান।
Printed Edition