পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) ১১তম আসরে শিরোপা জিতেছে নাহিদ রানাদের দল পেশোয়ার জালমি।রোববার লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে নবাগত ফ্র‍্যাঞ্চাইজি হায়দরাবাদ কিংসমেনকে ৫ উইকেটে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা জিতল পেশোয়ার জালমি। আগে ব্যাট করে ১৮ ওভারে মাত্র ১২৯ রানে অলআউট হয়ে যায় হায়দরাবাদ। জবাবে ২৮ বল বাকি থাকতেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় বাবর আজমের দল। টানা খেলতে পারেননি নাহিদ। নিউজিল্যান্ড সিরিজে বাংলাদেশে ফিরলেও ফাইনাল খেলার জন্য আবার পাকিস্তানে গিয়েছিলেন নাহিদ। তার সেই যাত্রা বিফলে যায়নি। শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে যথারীতি আগুনও ঝড়িয়েছেন এই উদীয়মান তারকা। ৪ ওভারে মাত্র ২২ রান দিয়ে তুলে নিয়েছেন ২টি উইকেট। একই সঙ্গে একটি পুরস্কারও জিতে নিয়েছেন নাহিদ। হয়েছেন ফাইনালের ‘সুপারপাওয়ার অব দি ম্যাচ’।

টুর্নামেন্টের পুরোটা সময় অবশ্য পেশোয়ারের হয়ে খেলতে পারেননি নাহিদ। মাঝে বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড সিরিজ থাকায় দেশে ফিরতে হয়েছিল তাকে। তবে ফাইনালের আগে বিসিবির সম্মতি সাপেক্ষে ঠিকই তাকে উড়িয়ে নেয় পেশোয়ার। আর নিজের ওপর রাখা আস্থার দারুণ প্রতিদান দিয়েছেন তরুণ এই তারকা। ৫ ম্যাচে অংশগ্রহণ করে ৯ উইকেট নিয়েছেন নাহিদ। এই ম্যাচগুলোতে ১৮ ওভার করে মাত্র ৯৮ রান দিয়েছেন তিনি, ইকোনমি মাত্র ৫.৪৪। তাছাড়া গতি দিয়ে তাক লাগিয়েছেন সবার। প্রায় বলই করেছেন ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটারের আশেপাশে। পাকিস্তান তথা বিশ্বেরই কিংবদন্তি বোলার ওয়াসিম আকরাম তো ভূয়সী প্রশংসাই করলেন নাহিদ রানার। ধারাভাষ্যকক্ষে ওয়াসিম আকরাম বলেন, ‘গতি বলতে এটাই বোঝায়। সে তাদের সবাইকে সমস্যায় ফেলেছিল। ঘণ্টায় ১৪৫-১৫০ কিলোমিটার গতিতে তার দৌড়ানোর ভঙ্গিটা দারুণ। সহজ অ্যাকশন। মোটেও জটিল নয়। তার সামনে রয়েছে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ।’

শিরোপা জয়ের পর উপস্থাপনার সময় আকরাম নাহিদ রানার বুদ্ধিমত্তার প্রশংসায়ও মশগুল ছিলেন। রোববার রাতে অনুষ্টিত ফাইনালে হুনাইন শাহকে ১৪৮ কিলোমিটার গতির একটি ইয়র্কারে বোল্ড করেন নাহিদ। ওই বলের আগে, ফিল্ডারদের হাতের ইশারায় পরিবর্তন করেন তিনি। মনে হচ্ছিল শর্ট লেন্থের বল দিতে পারেন তিনি। অথচ ওই বলটি দিলেন ফুল লেন্থের। এই বিষয়টিই নজর কেড়েছে ওয়াসিম আকরামের। গতির সঙ্গে বুদ্ধির মিশেলে নাহিদ যে ক্রিকেটেরই সম্পদ হয়ে উঠছেন সেটিই যেন স্মরণ করিয়ে দিলেন।

পিএসএল ১১ আসরের পুরস্কারজয়ীরা হলেন : সেরা খেলোয়াড়- সুফিয়ান মুকিম, সেরা ব্যাটার : বাবর আজম, সেরা বোলার : সুফিয়ান মুকিম,সেরা অলরাউন্ডার : শাদাব খান,সেরা উইকেটকিপার : কুশল মেন্ডিস,সেরা ফিল্ডার : ফারহান ইউসুফ,উদীয়মান ক্রিকেটার : হুনাইন শাহ, হানিফ মোহাম্মদ ক্যাপ : বাবর আজম (৫৮৮ রান),ফজল মাহমুদ ক্যাপ : সুফিয়ান মুকিম (২২ উইকেট),স্পিরিট অব ক্রিকেট : হায়দরাবাদ কিংসম্যান ও সেরা আম্পায়ার : আসিফ ইয়াকুব।