সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূইয়া ফেসবুক পোষ্টের মাধ্যমে জানিয়েছেন কেন তিনি বিসিবি তদন্ত কমিটির সাক্ষাৎকারে সাড়া দেননি। পাশাপাশি আসিফ দাবি করেছেন সাম্প্রতিক সময়ে সাত পরিচালকের পদত্যাগের বিষয়ে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের ইন্ধন রয়েছে। তার দাবি, লোভ-ভয় দেখিয়ে বোর্ড পরিচালককে পদত্যাগ করানো হচ্ছে।

৬ আগস্ট অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচনে সরকারি হস্তক্ষেপ ও অনিয়মের অভিযোগে গঠিত তদন্ত কমিটি তাদের তদন্ত রিপোর্ট জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে জমা দেয়।

এরপর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে কমিটির প্রধান সাবেক বিচারপতি একেএম আসাদুজ্জামান, আসিফ মাহমুদের হাজির না হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন।

আসিফ লিখেন, ‘প্রথমত, একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান বিসিবির উপর এখতিয়ার বহির্ভূত ভাবে তদন্ত করছে মন্ত্রণালয়। দ্বিতীয়ত, তদন্ত কমিটির প্রজ্ঞাপনেই সিদ্ধান্ত দিয়ে দেওয়া হয়েছে। তৃতীয়ত, উচ্চ আদালতে বিচারাধীন একটি বিষয়ে তদন্ত করে তদন্ত কমিটি এবং সংশ্লিষ্ট সকলে আদালত অবমাননা করছেন।’

আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের ছয় মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই এ নিয়ে সাতজন পরিচালক সরে দাঁড়ালেন। এর আগে ২৪ জানুয়ারি গেম ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান ইশতিয়াক সাদেক ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন। ২৩ মার্চ মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যানের পদ হারানোর পর পরিচালক পদ থেকে সরে দাঁড়ান আমজাদ হোসেন।

শনিবার বোর্ড সভার দিনে করেছেন আরও চার পরিচালক।

সভা শেষ হওয়ার আগেই প্রথমে পদত্যাগ করেন ফাইয়াজুর রহমান। এরপর সভা শেষে দায়িত্ব ছাড়েন শানিয়ান তানিম ও মেহরাব আলম চৌধুরী। মধ্যরাতে পদত্যাগের তালিকায় যোগ দেন মঞ্জুর আলম। এই চারজনই বিসিবির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। ফাইয়াজুর রহমান ছিলেন ডিসিপ্লিনারি কমিটির চেয়ারম্যান ও সিসিডিএমের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান।

শানিয়ান তানিম দায়িত্বে ছিলেন ফ্যাসিলিটিজ ম্যানেজমেন্ট কমিটির, মেহরাব আলম চৌধুরী ছিলেন সিকিউরিটি কমিটির প্রধান এবং মঞ্জুর আলম দেখভাল করছিলেন মেডিকেল বিভাগ।

আসিফের দাবি এই সাত পরিচালক পদত্যাগ করেছেন লোভে পড়ে। আসিফ লিখেন, ‘চতুর্থত, ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বোর্ড ডিরেক্টরদের পরের বোর্ডে ডিরেক্টর পদের লোভ, লোভে রাজি না হলে ভয় দেখিয়ে পদত্যাগ করাচ্ছেন।’

একদশ শেষে সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা আরও লিখেন, ‘যখন আমাকে তদন্ত কমিটি থেকে সাক্ষাৎকাদের বিষয়ে জানানো হলো। উচ্চ আদালতে বিচারাধীন বিষয় এবং স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে তাঁরা তদন্ত করতে পারেন কিনা জানতে চেয়ে কোন সদুত্তর পাইনি। কিভাবে সরকার চালাতে হয়, কিভাবে প্রজ্ঞাপন দিতে হয়, কোনটা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, কোনটা বিচারাধীন বিষয়, কোনটা আদালত অবমাননা এটা হয়তো আপনারা বোঝেন না অথবা তোয়াক্কা করেন না।

‘আমি তো আর জেনে-বুঝে এসব নিয়মবহির্ভূত আর আদালত অবমাননার মতো কাজে শামিল হব না। এজন্যই বিসিবি সংক্রান্ত তদন্ত কমিটির সাক্ষাৎকারের নোটিশে আমি সাড়া দেইনি।’