# সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা গায়ের জোরে বিসিবি দখল করেছিল : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

# বিসিবি এখন বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ড: সংসদে হাসনাত

‎# প্রধানমন্ত্রীকে শিশু মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতির দাবি বিএনপি এমপির

# স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কেন প্রধানমন্ত্রীর পাশে বসছেন, প্রশ্ন জামায়াত এমপির

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নতুন কমিটি গঠন নিয়ে জাতীয় সংসদে সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের মধ্যে বিতর্ক হয়েছে। গতকাল বুধবার একটি বিল পাসের সময় বিষয়টি নিয়ে সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, বিসিবি এখন বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ডে পরিণত হয়েছে। জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তৎকালীন ক্রীড়া উপদেষ্টা গায়ের জোরে সারা বাংলাদেশের জেলা কমিটিগুলোকে প্রভাবিত করেছিলেন। এসময় বিরোধী দলের আরও একজন সংসদ সদস্য বিসিবির কমিটি নিয়ে সমালোচনা করেন।

সম্প্রতি বিসিবির পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি গঠন করেছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। বিসিবির নতুন কমিটির প্রধান হয়েছেন তামিম ইকবাল। তার এই কমিটিতে ১১ জনের ৩ সদস্য বিএনপির তিন শীর্ষস্থানীয় নেতার ছেলে। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে মনোনীত সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ সংসদ অধিবেশনে বিসিবিকে অবহিত করেছেন ‘বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ড’ হিসেবে।

কমিটিতে আছেন মির্জা ইয়াসির আব্বাস, যিনি প্রধানমন্ত্রীর মন্ত্রী পদমর্যাদার রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাসের ছেলে, সৈয়দ ইব্রাহিম আহমদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের ছেলে এবং ইসরাফিল খসরু অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরুর ছেলে। রাশনা ইমাম প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের স্ত্রী। তামিমের কমিটির ১১ সদস্যের পাঁচজনই চট্টগ্রামের।

সংসদ অধিবেশনে গতকাল কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত বলেন, আমরা যদি দেখি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে যেভাবে নগ্নভাবে দলীয়করণ করা হচ্ছে, এরই মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক যেভাবে দখল করা হয়েছে, যেভাবে বিসিবিকে দখল করা হয়েছে, তাতে এটা বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ড পরিণত হয়েছে। হাসনাত এই কথা বলার সময় টেবিল চাপড়েছেন তার সমমনা সাংসদরা। মুচকি হাসতে দেখা যায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে।

হাসনাতের ‘বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ড’ বলার পরিপ্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ বিসিবি, মানবাধিকার কমিশন ও বিগত সরকারের অনিয়ম নিয়ে পাল্টা সমালোচনা করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তৎকালীন ক্রীড়া উপদেষ্টা গায়ের জোরে সারা বাংলাদেশের জেলা কমিটিগুলোকে প্রভাবিত করেছিলেন। হাইকোর্টের আদেশকে তোয়াক্কা না করে, সর্বোচ্চ ক্ষমতা প্রয়োগ করে একতরফাভাবে ক্রিকেট বোর্ড দখল করেছিলেন।

তিনি বলেন, ক্রীড়ামন্ত্রীর নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটি জঘন্য সব অনিয়ম খুঁজে পেয়েছে। সেই পকেট কমিটি ভেঙে দিয়ে আমরা তামিম ইকবালকে এনেছি। আমরা এখানে কোনো ‘বাপের দোয়া’ কমিটি করতে আসিনি; বরং দেশের ক্রিকেটকে বিশ্বমঞ্চে অনন্য উচ্চতায় নিতে চাই। বিসিবি কোনো পরিবহনের স্ট্যান্ড নয় যে এখানে ‘বাপের দোয়া’ বা ‘মায়ের দোয়া’ মার্কা পকেট কমিটি চলবে।

বিসিবির অ্যাডহক কমিটির সমালোচনা করে নারায়ণগঞ্জ-৪ এনসিপির সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিন বলেন, যে সকল ব্যাপারে আমরা একমত হয়েছিলাম সেসব ব্যাপারে রাজনীতিবিদদের বা সরকারি দলের এক ধরণের অনীহা আমরা দেখছি। আমরা শুধু দলীয়করণ না, আমরা বিসিবি তে দেখলাম পরিবারকরণ হচ্ছে। আমরা দেখেছি ব্যাংকগুলোতে, আমরা দেখেছি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে, আমরা দেখেছি সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে, বাংলাদেশ ব্যাংকে দলীয় ব্যবসায়ীকে নিয়োগ করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীকে শিশু মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতির দাবি বিএনপি এমপির

‎প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার প্রয়াত ভাই আরাফাত রহমানকে ‘শিশু মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন গাজীপুর-১ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য (এমপি) মুজিবুর রহমান। একই সঙ্গে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকেও মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি তুলেছেন। গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এই দাবি জানান। মুজিবুর রহমান বলেন, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধে খালেদা জিয়া তার দুই সন্তানসহ পাকিস্তানিদের হাতে বন্দী ছিলেন। তিনি বলেন, যদি কোনো দিন সুযোগ হয়, তবে স্বাধীনতাযুদ্ধে বেগম খালেদা জিয়ার যে অবদান, তার জন্য তাকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি এবং আমাদের প্রধানমন্ত্রী (তারেক রহমান) ও তার ভাইকে (আরাফাত রহমান) ৯ মাস বন্দী থাকার কারণে শিশু মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতির দাবি করছি।

সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান উল্লেখ করেন, তিনি এই প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীকে খুশি করার জন্য করছেন না, বরং ইতিহাসের সত্য তুলে ধরার জন্য করছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করে মুজিবুর রহমান বলেন, নির্যাতিত-নিপীড়িত একটি বিপ্লবের নাম তারেক রহমান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কেন প্রধানমন্ত্রীর পাশে বসছেন, প্রশ্ন জামায়াত এমপির

এদিকে সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ কেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পাশে বসেছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য ও দলটির নায়েবে আমির অধ্যাপক মজিবুর রহমান। বুধবার পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি এ প্রশ্ন তোলেন। সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান তার বক্তব্যে বলেন, সংসদ বেশ কিছুদিন ধরে প্রাণবন্তভাবে চলছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংবিধানের ধারা এবং কার্যপ্রণালি বিধি সুন্দরভাবে ব্যাখ্যা করছেন। কিন্তু গত দুদিন ধরে দেখা যাচ্ছে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার নির্ধারিত আসন ছেড়ে প্রধানমন্ত্রীর পাশের আসনে গিয়ে বসেছেন। তিনি এক লাফে সর্বোচ্চ আসনের পাশে চলে গেছেন। প্রধানমন্ত্রী তাকে কোনো বিশেষ ছাড় দিয়েছেন কি না, সেই প্রশ্ন রেখে মজিবুর রহমান আরও বলেন, ‘যদি কোনো বিশেষ ছাড় দেওয়া না হয়ে থাকে, তবে সংসদের রুলস অব প্রসিডিউর অনুযায়ী আসন বিন্যাস সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করার জন্য আমি স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

জামায়াত এমপির এমন প্রশ্নের জবাবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ জানান, সংসদে আসন পরিবর্তন হতেই পারে। কে কোথায় বসবেন তা সংসদ নেতার ইচ্ছার ওপরও নির্ভর করে। এটি কোনো পয়েন্ট অব অর্ডারের বিষয় হতে পারে না।