টেস্ট ক্যারিয়ারের নবম সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। গতকাল পাকিস্তানের কিপক্ষে প্রথম টেস্টের প্রথম দিনে মাত্র ১২৯ বলে সেঘঞ্চুরি করেন শান্ত। সর্বশেষ ৮ ইনিংসে শতকের সংখ্যা ৪। অর্থাৎ সর্বশেষ পাঁচ টেস্টের চারটিতেই তিনি সেঞ্চুরি করেছেন। পেস-স্পিনের মোকাবিলায় শান্ত’র শট বাছাই থেকে শুরু করে প্রতিটি কদম ছিল নিখুঁত। এমন ইনিংস সেঞ্চুরিতে রূপ দিতে না পারলেই বরং অপূর্ণ থেকে যেত। তবে সেঞ্চুরি করেও বেশিক্ষণ অপেক্ষা করলেন না। পরের বলেই লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়ে ক্রিজ ছাড়লেন এই তারকা।তার বিদায়ে ২০১ রানে তৃতীয় উইকেট হারাল বাংলাদেশ। গত কয়েক বছর সাদা পোশাকে বরাবরই উড়ন্ত ফর্মে ছিলেন শান্ত। আর হাফসেঞ্চুরিকে তিন অঙ্কে রূপ দিতে বাংলাদেশের কেউ সম্ভবত তারচেয়ে ভালো জানেন না। তাইতো টেস্টে ৫ হাফসেঞ্চুরির বিপরীতে তার শতক ৯টি। মুহাম্মদ আব্বাসের বল কাভার ড্রাইভ অঞ্চল দিয়ে সীমানাছাড়া করতেই ব্যাট ও হেলমেট হাতে শূন্যে লাফিয়ে সজোরে চিৎকার। সেঞ্চুরির পর যাকে নিজের ট্রেডমার্ক উদযাপনে পরিণত করেছেন নাজমুল হোসেন শান্ত। এর আগে পাকিস্তানের বিপক্ষে তার টেস্টে কোনো ফিফটি ছিল না। গতকাল প্রথমে হাফসেঞ্চুরির সেই শূন্যতা কাটালেন।

এরপর ইনিংসটাকে ম্যাজিক ফিগারে রূপ দিতে কোনো কার্পণ্য করলেন না বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক। অধিনায়ক হিসেবে এটি ছিল শান্তর পঞ্চম সেঞ্চুরি। তাতে ইতিহাস গড়লেন তিনি। বাংলাদেশের ক্যাপ্টেন হিসেবে মাত্র ১৭ ম্যাচ খেলে সবচেয়ে বেশি শতকের মালিক হলেন শান্ত। ৩৪ ম্যাচে চার সেঞ্চুরিতে পেছনে পড়ে গেলেন মুশফিক। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে নেতৃত্ব দিয়ে প্রথম সেঞ্চুরি করেন তিনি। তারপর গত বছর জুনে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে গলে জোড়া সেঞ্চুরি করেন। এরপর আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে একই বছর নভেম্বরে শতক হাঁকান শান্ত। আজ মিরপুরে গড়লেন ইতিহাস। পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে বাংলাদেশ শুরুতে ব্যাকফুটে চলে যায় ৩১ রানে ২ উইকেট হারিয়ে। এরপর দুই অভিজ্ঞ তারকা শান্ত-মুমিনুল মিলে গড়লেন ১৭০ রানের দারুণ এক জুটি। যা পাকিস্তানের বিপক্ষে তৃতীয় উইকেটে সর্বোচ্চ রান। যদিও ঢাকা টেস্টের শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। প্রথম ঘণ্টার মধ্যেই দুই ওপেনারকে হারিয়ে চাপে পড়ে যায় স্বাগতিকরা। তবে সেই চাপ সামলে ধীরে ধীরে ম্যাচে ফিরে আসে বাংলাদেশ। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও অভিজ্ঞ ব্যাটার মুমিনুল হকের দৃঢ় ব্যাটিংয়ে গড়ে ওঠে গুরুত্বপূর্ণ জুটি, যা ম্যাচে বাংলাদেশকে শক্ত অবস্থানে নিয়ে যায়।

মিরপুরে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই পাকিস্তানি পেসারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। ইনিংসের প্রথম ঘণ্টাতেই ফিরে যান দুই ওপেনার। দলীয় ১৮ রানের মাথায় প্রথম উইকেট হারায় বাংলাদেশ। সপ্তম ওভারে শাহিন শাহ আফ্রিদির বলে উইকেটকিপার রিজওয়ানকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন মাহমুদুল হাসান জয়। কিছুক্ষণ পরই হাসান আলীর বলে আউট হন সাদমান ইসলাম। দ্রুত দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে স্বাগতিকরা। চাপের সেই পরিস্থিতিতে ইনিংস গড়ার দায়িত্ব নেন অধিনায়ক শান্ত ও মুমিনুল হক। তৃতীয় উইকেটে তাদের জুটিতে প্রথমে আসে ধীরে ধীরে রান, এরপর সেটি বড় জুটিতে রূপ নেয়। শুরুতে কিছুটা সময় নিয়ে খেললেও পরে আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে যান শান্ত। অন্যদিকে স্বভাবসুলভ ধৈর্যশীল ব্যাটিংয়ে ইনিংস গুছিয়ে নেন মুমিনুল। তৃতীয় উইকেটে তাদের জুটি দ্রুতই ৫০ রানে পৌঁছায়, যা আসে মাত্র ৭০ বলে। লাঞ্চের পর পাকিস্তানি বোলাররা লাইন-লেন্থে নিয়ন্ত্রণ আনলেও উইকেট না হারিয়ে চাপ সামাল দেন দুই ব্যাটার। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জুটি আরও বড় হতে থাকে। ৩৫তম ওভারে শাহিন আফ্রিদির বলে চার মেরে জুটিকে ১০০ রানে নিয়ে যান শান্ত। এরপর দুই ব্যাটারের ব্যাটে আসে আরও স্থিতি। তৃতীয় উইকেটে ১৩৩ রানের জুটি গড়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের হয়ে নতুন রেকর্ডও গড়ে তারা। ১০২ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন মুমিনুল হক। অন্যদিকে ৭১ বলে হাফ সেঞ্চুরি স্পর্শ করেন শান্ত। লাঞ্চ বিরতির পর আরও আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করতে থাকেন শান্ত। দ্রুত রান তুলে ক্যারিয়ারের নবম সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি মাত্র ১২৯ বলে। তবে সেঞ্চুরির পরের ওভারেই আব্বাসের বলে উইকেট বিলিয়ে দিয়ে ফিরে যান তিনি। তার ইনিংসে ছিল ১২টি চার ও ২টি ছক্কা। শান্তর ইনিংস শেষ হয় ১০১ রানে। সেঞ্চুরি পূরণের পর নাজমুল হোসেন শান্ত সাজঘরে ফিরলে মুমিনুল হকও ছিলেন সেঞ্চুরির পথেই। কিন্তু শেষ পর্যন্তু শতক আর পূরণ করতে পারলেন না এই বাঁহাতি ব্যাটার। ৯ রানের আক্ষেপ নিয়েই মাঠ ছাড়লেন তিনি। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে শেষবার সেঞ্চুরি করেছিলেন মুমিনুল। এরপর আরও ছয় ইনিংসে পঞ্চাশোর্ধ ইনিংস খেললেও শতকের দেখা পাননি তিনি। তাই পাকিস্তানের বিপক্ষে গতকাল ফিফটি পূরণের পর দেখে-শুনেই খেলে যাচ্ছিলেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। কিন্তু নোমান আলি করা বলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়ে যান মুমিনুল। আম্পায়ারও তার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেন। তৎক্ষণাৎ সতীর্থ মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে পরামর্শ করে রিভিউ নেন মুমিনুল। তাতে কোনো লাভ হয়নি। ৯১ রানেই ফিরতে হলো তাকে। ২০০ বলে খেলা মুমিনুলের এই ইনিংসটি ১০টি চারে সাজানো।