বিপিএলে ফিক্সিং ও বেটিং সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগে ৪ কর্মকর্তা ও ১ ক্রিকেটারসহ পাঁচজন ব্যক্তিকে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।তদন্তে প্রাপ্ত প্রমাণের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিসিবির অ্যাডহক কমিটির সভাপতি তামিম ইকবাল খান। নিষেধাজ্ঞা পাওয়া’রা হলেন- চট্টগ্রাম রয়্যালসের টিম ম্যানেজার মো. লাবলুর রহমান, নোয়াখালী এক্সপ্রেসের সহ-মালিক তৌহিদুল হক তৌহিদ, রংপুর রাইডার্সের সাবেক ক্রিকেটার এবং চলমান ডিপিএলে রূপগঞ্জ টাইগার্সের হয়ে খেলা অমিত মজুমদার, সিলেট ফ্র্যাঞ্চাইজির ম্যানেজার রেজওয়ান কবির ও চট্টগ্রাম রয়্যালসের টিম ম্যানেজার সামিনুর রহমান।
গতকাল বৃহস্পতিবার মিরপুরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন ও প্রমাণ যাচাই করে বোর্ডকে সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। তার ভাষায়, আমি দায়িত্বপ্রাপ্তদের প্রশ্ন করেছিলাম আমাদের (বিসিবি) কাছে কি যথেষ্ট প্রমাণ আছে ? উত্তর পাওয়ার পর আমি বলেছি, এক্সিকিউট করেন। ফিক্সিং সংক্রান্ত তদন্ত চলাকালীন সময়ে তামিম ইকবাল বোর্ডে দায়িত্বে ছিলেন না। তবে দায়িত্ব নেয়ার পর তিনি পুরো বিষয়টি পর্যালোচনা করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা কার্যকর করার অনুমোদন দিলেন।
বিসিবির ইন্টেগ্রিটি ইউনিটের তদন্তে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগকে (বিপিএল) কেন্দ্র করে বেটিং, দুর্নীতির প্রস্তাব, তদন্তে অসহযোগিতা এবং তথ্য গোপনের মতো একাধিক অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায় বলে জানানো হয়েছে।বোর্ডের ব্যাখ্যায় বলা হয়, আইসিসির দুর্নীতি দমন বিধিমালার একাধিক ধারা ভঙ্গ হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বেটিংয়ে অংশ নেয়া, ডিমান্ড নোটিশে সাড়া না দেয়া, তদন্তে সহযোগিতা না করা এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও যোগাযোগ গোপন বা ধ্বংস করার অভিযোগ ও রয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন দুইজন টিম ম্যানেজার, একজন ফ্র্যাঞ্চাইজি সহ-মালিক এবং একজন দেশি ক্রিকেটার অমিত মজুমদার। অভিযোগ অনুযায়ী, অমিত মজুমদার ম্যাচের ফলাফল বা অগ্রগতির ওপর বেটিংয়ে অংশ নেন বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে, মো. লাবলুর রহমান ও রেজওয়ান কবির সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে তদন্তে সহযোগিতা না করা, ডিমান্ড নোটিশ উপেক্ষা করা এবং তথ্য গোপনের অভিযোগ আনা হয়েছে। ফ্র্যাঞ্চাইজি সহ-মালিক মো. তৌহিদুল হক তৌহিদের বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযোগ রয়েছে, যার মধ্যে তদন্তে বাধা সৃষ্টি ও প্রাসঙ্গিক তথ্য ধ্বংসের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে বলে জানানো হয়। বিসিবি জানিয়েছে, অভিযুক্ত পাঁচজনকেই সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের জবাব দেয়ার জন্য ১৪ দিন সময় দেয়া হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে তারা লিখিত ব্যাখ্যা দিতে পারবেন। একই সঙ্গে বিসিবির নীতিমালা অনুযায়ী সামিনুর রহমানের বিরুদ্ধে পৃথক নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। বিপিএলের একাধিক আসর ঘিরে বেটিং, দুর্নীতির প্রস্তাব দেয়া এবং আন্তর্জাতিক বেটিং চক্রের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ তদন্তে উঠে এসেছে বলে জানায় বোর্ড। নোটিশের পর তিনি নীতিমালা অনুযায়ী জবাব দেওয়ার অধিকার ত্যাগ করেন এবং নিষেধাজ্ঞা মেনে নেন।
এর আগে বিপিএল ২০২৫ মৌসুমকে ঘিরে একাধিক দল, খেলোয়াড় ও কোচের বিরুদ্ধে ফিক্সিংয়ের অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে তৎকালীন সভাপতি ফারুক আহমেদের বোর্ডের নির্দেশে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছিলেন। আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দারকে প্রধান করে গঠিত সেই তদন্ত কমিটিতে আরও ছিলেন আইনজীবী ড. খালেদ এইচ চৌধুরী ও সাবেক ক্রিকেটার শাকিল কাসেম। তাঁদের প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে সেসব অভিযোগ নিয়েও অধিকতর তদন্ত করছেন বিসিবির ইন্টেগ্রিটি ইউনিট প্রধান অ্যালেক্স মার্শাল। তবে সেই তদন্ত এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। তিনি স্বাধীনভাবে প্রতিবেদন যাচাই করে কয়েকজনের বিরুদ্ধে ফিক্সিংয়ে জড়িত থাকার প্রাথমিক প্রমাণ পান বলে জানা যায়।