বিসিবির অ্যাডহক কমিটির দ্বিতীয় সভায় নবনিযুক্ত কমিটির ১১ সদস্যকে বিভিন্ন কমিটির দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। বোর্ড সভা শেষে মিডিয়া ব্রিফিংয়ে কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্তদের নাম ঘোষণা করেন বিসিবির নতুন সভাপতি তামিম ইকবাল। বিসিবির পরিচালনা পর্যদের যেহেতু অ্যাডহক কমিটির এই ১১ জনকেই আগামী ৩ মাস বিসিবি চালাতে হবে, তাই প্রত্যেককেই একাধিক কমিটির দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। সভাপতি তামিম নিজে রেখেছেন দুটি বিভাগের দায়িত্ব- ওয়ার্কিং কমিটি এবং ফ্যাসিলিটিজ। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ আর গেম ডেভেলপমেন্ট বিভাগের দায়িত্ব পেয়েছেন ফাহিম সিনহা। এছাড়া রফিকুল ইসলাম বাবু গ্রাউন্ডস কমিটি, আতহার আলী খানকে দেয়া হয়েছে আম্পায়ার্স কমিটির দায়িত্ব। আর মিনহাজুল আবেদীন নান্নু পেয়েছেন টুর্নামেন্ট কমিটির দায়িত্ব। তবে ক্রিকেট বোর্ডের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির দায়িত্ব আপাতত কাউকে দেয়া হয়নি। এ প্রসঙ্গে তামিম বলেন, ‘আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি সবাই মিলে ক্রিকেট অপারেশন্সে এখন কাউকে নিয়োগ দিব না। যদি কোনো প্রশ্ন আসে ক্রিকেট অপারেশন্স থেকে, তখন সেটা আমরা বসে বোর্ডে সিদ্ধান্ত নেব।’ এছাড়া ঘরোয়া ক্রিকেটে নারী ও পুরুষ ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফি ও মাসিক বেতন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফি ও মাসিক বেতন বাড়ানোর সিদ্ধান্তের কথা জানান বোর্ড সভাপতি তামিম ইকবাল।
তিনি বলেন, ‘কয়েকটা জিনিস দেখে আমি খুবই অবাক হয়েছি। আমাদের নারী ক্রিকেটার যারা ঘরোয়া ক্রিকেট খেলেন, তাদের ম্যাচ ফি সম্পর্কে আপনাদের ধারণা আছে? আমি জানি না আপনারা জানেন কি না। এটা একটা সময় ১ হাজার টাকা ছিল। তারপর এটাকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত করা হয়েছে। আমার কাছে মনে হয় এটা কোনোভাবেই ঠিক না। অ্যাডহক কমিটির নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে নারী ক্রিকেটাররা টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ১০ হাজার, ওয়ানডেতে ১৫ হাজার এবং লঙ্গার ভার্সন (চার দিনের ম্যাচ) ক্রিকেটে ২০ হাজার টাকা করে ম্যাচ ফি পাবেন। এছাড়া চুক্তিবদ্ধ ৩০-৩৫ জন নারী ক্রিকেটারের মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪০ হাজার টাকা করা হয়েছে। কেবল নারী ক্রিকেটেই নয়, পুরুষদের ঘরোয়া লঙ্গার ভার্সন ক্রিকেটেও পারিশ্রমিক বাড়ানো হয়েছে। আগে যেখানে একজন ক্রিকেটার প্রতি ম্যাচের জন্য ৭০ হাজার টাকা পেতেন, এখন থেকে তা বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, বিসিবি নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগে আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেয় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। এরপরই তামিম ইকবালকে প্রধান করে এই অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়। দায়িত্ব নেয়ার দ্বিতীয় দিনেই এমন জনবান্ধব সিদ্ধান্ত নিলো নতুন কমিটি।
এক নজরে বিসিবির নতুন স্ট্যান্ডিং কমিটি
তামিম ইকবাল- ওয়ার্কিং কমিটি এবং ফ্যাসিলিটিজ
ফাহিম সিনহা- গেম ডেভেলপমেন্ট এবং বিপিএল
রফিকুল ইসলাম বাবু- গ্রাউন্ডস
তানজিল চৌধুরী -এইজ গ্রুপ
সালমান ইস্পাহানী- মার্কেটিং এবং ডিসিপ্লিন
রাশনা ইমাম- উইমেন্স উইং, মেডিকেল এবং কমপ্লেইন কমিটি
ইসরাফিল খসরু- ফিন্যান্স এবং ওয়েলফেয়ার
সায়েদ ইব্রাহিম আহমেদ- সিকিউরিটি এবং টেন্ডার ও পারচেজ
মিনহাজুল আবেদীন নান্নু- টুর্নামেন্ট কমিটি
মির্জা ইয়াসির- লজিস্টিকস