ঢাকার শীর্ষ ক্লাবগুলো গত ৬ মাস ধরে ঘরোয়া লিগ বয়কট করে আসছে। দুই পক্ষই নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকায় স্থবির হয়ে পড়ছিল ঘরোয়া ক্রিকেট। আসন্ন ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ মাঠে গড়ানো নিয়েও দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। এবার সংকট নিরসনে সরাসরি আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী ৮ এপ্রিল ঢাকার প্রতিটি ক্লাবকে নিয়ে একটি বিশেষ সভার আয়োজন করা হয়েছে। মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দুপুর ১২টায় এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। প্রিমিয়ার লিগ মাঠে গড়ানোর জন্য ক্লাবগুলোকে এক টেবিলে আনতে এটিই বিসিবির প্রথম বড় পদক্ষেপ। এর আগে আগামী ৫ এপ্রিল তৃতীয় বিভাগ ক্রিকেট আয়োজনের জন্যও ক্লাবগুলোর সঙ্গে মিটিং করবে সিসিডিএম। বিসিবি পরিচালক মোকছেদুল কামাল বাবু জানালেন লিগ আয়োজনের কথা। বাবু বলেন, ‘বিসিবি তো চাচ্ছে যে প্রিমিয়ার লিগসহ সমস্ত লিগগুলোই হোক। আমরা কিন্তু চেষ্টাও করেছি প্রত্যেকটা ক্লাবের সাথে বসার জন্য এবং আমি আবারও বলব যে, ক্লাবগুলোকেও আমার দিক থেকে আহ্বান জানাব। সমালোচনা চলুক, প্রতিযোগিতা চলুক- কিন্তু ক্রিকেট বন্ধ না হোক।’ ‘বিসিবির ওপরে, বোর্ডের ওপরে তাদের কোনো অভিমান থাকতে পারে, অভিযোগ থাকতেই পারে। কিন্তু সেটা খেলা বন্ধ করে না। খেলা চালু অবস্থাতেই কিন্তু সে অভিযোগগুলো নিয়ে আমরা আলোচনা করতে পারি, কথা বলতে পারি। চাইলে অনেক কিছুই হতে পারে। আমি আশাবাদী যে, আগের চাইতে এখন বোধহয় পরিস্থিতির কিছুটা পরিবর্তন হবে।’ বাবু আরো বলেন, ‘আমি আসলে যেটা খুব মনে প্রাণে চাই যে, প্রত্যেকটা ক্লাবই এখানে অংশগ্রহণ করুক। কারণ ক্লাবগুলো তো ক্রিকেটের বিরুদ্ধে না। আপনি যদি খেলতে না আসেন, তাহলে তো আসলে জোর নিয়ে আসা যায় না। আমার কাছে মনে হয় যে, এই প্রত্যেকটা লিগের ক্ষেত্রে বিসিবি খুবই আন্তরিক এবং এই লিগগুলো হোক সেটা আমরা চাই।’ ঢাকা লিগ সময়মতো শুরু না হওয়ায় দেশের সাধারণ ক্রিকেটারদের মধ্যে তীব্র হতাশা বিরাজ করছে। কারণ, প্রতিবছর তাদের আয়ের একটি বিশাল অংশ আসে এই লিগ থেকে। এই সংকটের সুরাহা করতে গত ১ এপ্রিল বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল এবং সিসিডিএম চেয়ারম্যান আদনান রহমান দীপন বরাবর আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়েছিল ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (কোয়াব)। মাঠের ক্রিকেট দ্রুত ফেরানোর জন্য কোয়াবের সেই আবেদনের পর বিসিবির পক্ষ থেকে এই বৈঠকের ঘোষণা এল। বিসিবি নির্বাচন নিয়ে ক্লাব সংগঠকদের একাংশের ক্ষোভ এখনও প্রশমিত হয়নি। এই দ্বন্দ্বের মাঝেই ৮ এপ্রিলের বৈঠকে ক্লাবগুলো শেষ পর্যন্ত অংশ নেয় কি না এবং লিগ শুরুর ব্যাপারে কোনো ঐক্যমতে পৌঁছানো যায় কি না, তাই এখন দেখার বিষয়। গত বছরের ৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হয় বিসিবির সবশেষ নির্বাচন। তবে স্বেচ্ছাচারিতা ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান একাধিক প্রার্থী। এরপর নির্বাচন হলেও নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ এনে তখন থেকেই ঘরোয়া লিগ বয়কট করে আসছে ঢাকার শীর্ষ ক্লাবগুলো। যে অবস্থা এখনো অপরিবর্তিত। প্রথম, দ্বিতীয় বিভাগ ক্রিকেট দায়সারা হলেও আসন্ন প্রিমিয়ার লিগ ও তৃতীয় বিভাগ ক্রিকেট আয়োজন নিয়ে রয়েছে বড়সড় অনিশ্চয়তা। ঘরোয়া ক্রিকেটারদের আয়ের অন্যতম উৎস প্রিমিয়ার লিগ। এই টুর্নামেন্ট মাঠে গড়ানো নিয়েই অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় ক্রিকেটারদের মধ্যে বাড়ছে অস্থিরতা ও ক্ষোভ। সামাজিক যোগাগোগমাধ্যমে কয়েকদিন ধরেই ক্রিকেটাররা প্রিমিয়ার লিগ নিয়ে পোস্ট দিচ্ছেন। সরাসরি ক্ষোভ না ঝাড়লেও তাদের স্ট্যাটাসে স্পষ্ট, কতটা হতাশ ও ক্ষুব্ধ তারা। ব্যাটার জাকের আলি আক্ষেপ প্রকাশ করে স্ট্যাটাস দিয়েছেন, ‘আগে আমরা ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ (ডিপিএল)খেলতাম।’ এর সঙ্গে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে খেলার সময়ে তার কিছু ছবিও দিয়েছেন পোস্টে। লিগ নিয়ে এই অনিশ্চয়তায় ক্রিকেটাররাও মানসিকভাবে অস্থির সময় কাটাচ্ছেন। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ আয়োজন নিয়ে ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াব অবশ্য শুরু থেকেই সোচ্চার। সংগঠনটি ইতিমধ্যে বিসিবি ও সিসিডিএম বরাবর চিঠিও দিয়েছে। ক্রিকেটাররাও নানা সময়ে বলেছেন এই টুর্নামেন্টটি মাঠে গড়ানো কতটা গুরুত্বপূর্ণ। এতকিছুর মধ্যেও বিসিবি নিজেদের দিক থেকে ক্লাবগুলোর উপর দায় চাপাতেই ব্যস্ত। যদিও তারা আগামী ৮ এপ্রিল প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবগুলোকে মিটিংয়ের জন্য চিঠি দিয়েছে। তবে ক্লাবগুলো সেই মিটিংয়ে যাবে না, এমনটাই সূত্রের খবর। মূলত গত নির্বাচন কেন্দ্র করেই গত ৬ মাস ধরে ক্লাব ও বিসিবি মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে। নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ এনে এরই মধ্যে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে তদন্তের দাবিতে চিঠিও দিয়েছেন ক্লাব ও বিভাগীয় ক্লাউন্সিলররা। ক্রীড়া পরিষদ এ নিয়ে তদন্ত কমিটিও গঠন করেছে। তার বিরুদ্ধে বিবৃতি দিয়েও সমালোচনার মুখে পড়েছে বিসিবি। সবমিলিয়ে দেশের ঘরোয়া ক্রিকেট ও ক্রিকেটাররা পড়েছেন বিপাকে।
ক্রিকেট
লিগ আয়োজনে ক্লাবগুলোকে আলোচনার প্রস্তাব বিসিবির
ঢাকার শীর্ষ ক্লাবগুলো গত ৬ মাস ধরে ঘরোয়া লিগ বয়কট করে আসছে। দুই পক্ষই নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকায় স্থবির হয়ে পড়ছিল ঘরোয়া ক্রিকেট। আসন্ন ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ মাঠে গড়ানো নিয়েও দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।
Printed Edition