টেস্ট সিরিজ খেলতে বাংলাদেশ সফরে এসেছে পাকিস্তান ক্রিকেট দল। আগামীকাল ৮ মে মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে মাঠে নামবে টাইগাররা। এর আগে গতকাল সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন প্রধান কোচ ফিল সিমন্স। ২০২৪ সালে পাকিস্তানের মাটিতে ঐতিহাসিক সিরিজ জয়ের স্মৃতি থাকলেও সেটিকে পেছনে ফেলেই সামনে তাকাতে চান সিমন্স। তার ভাষায়, ‘পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করাটা অতীত। সেটা গত হয়ে গেছে। আমরা এই সিরিজে নতুন ইতিহাস গড়তে চাই।’ দলের তরুণ পেসার নাহিদ রানাকে নিয়েও ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন কোচ। তিনি বলেন, ‘নাহিদ রানার সব থেকে ভালো ব্যাপার হলো তার বুঝার সক্ষমতা। সে জানে সে কোথায় আছে এবং তার কী কাজ।’ এদিকে দেশের হয়ে শততম টেস্ট পেরিয়ে ১০১তম ম্যাচ খেলতে যাওয়া অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিকুর রহিমকেও বিশেষভাবে মূল্যায়ন করেছেন সিমন্স। তিনি বলেন, ‘মুশফিককে আমি অল্প সময় ধরে চিনি। তবে এই সময়েই বুঝেছি তার জন্য এটি ১ নম্বর টেস্ট হোক, ৫০তম হোক বা ১০০তম- সবই সমান। সে যেভাবে টেস্ট ম্যাচের আগে প্রস্তুতি নেয়, সেভাবেই চালিয়ে যাবে। সে তার ১০১তম ম্যাচটিকেও আগের সব ম্যাচের মতোই গুরুত্ব দিয়ে দেখবে।’ সাদা বল থেকে লাল বলে মানিয়ে নেওয়ার প্রসঙ্গেও আত্মবিশ্বাসী এই কোচ। তিনি বলেন, ‘টেস্ট ক্রিকেট মূলত একটি মানসিক পরিবর্তন। তবে একই সঙ্গে দলে এমন অনেক খেলোয়াড় আছে যারা সাদা বলের ক্রিকেটে ছিল না এবং গত কয়েক মাস ধরে লাল বল (টেস্ট ক্রিকেট) নিয়েই কাজ করছে। তাই আমি মনে করি ফরম্যাট পরিবর্তনের এই প্রক্রিয়াটি আপনার ধারণার চেয়েও সহজ হবে।’ পরে সাদা বল থেকে লাল বলে খেলা নিয়ে সিমন্স বলেন, 'টেস্ট ক্রিকেট মূলত একটি মানসিক পরিবর্তন। তবে একই সঙ্গে দলে এমন অনেক খেলোয়াড় আছে যারা সাদা বলের ক্রিকেটে ছিল না এবং গত কয়েক মাস ধরে লাল বল (টেস্ট ক্রিকেট) নিয়েই কাজ করছে। তাই আমি মনে করি ফরম্যাট পরিবর্তনের এই প্রক্রিয়াটি আপনার ধারণার চেয়েও সহজ হবে।' সিলেটে ১৫ মে শুরু হবে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট। এই সিরিজ দিয়েই শেষ হতে যাচ্ছে কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের জাতীয় দলের অধ্যায়। এরপরই এই সহকারী কোচ যোগ দেবেন বিসিবির হাইপারফরম্যান্স (এইচপি) বিভাগের প্রধান কোচ হিসেবে। বিসিবির কাছ থেকেই এমন প্রস্তাব দেওয়া হয়। সালাউদ্দিন প্রস্তাব পেয়ে সেটি লুফেও নিয়েছেন। তিনি ভবিষ্যতের ক্রিকেটার তৈরির কাজটা করতে মুখিয়ে আছেন। এই বিষয়ে মঙ্গলবার বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালের সাথে ছোটখাটো একটা মিটিংও হয়েছে সালাহউদ্দিনের। জাতীয় দলের এই কোচের নতুন ভূমিকা নিয়ে জাতীয় দলের প্রধান কোচ ফিল সিমন্স বুধবার সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘যদি সে (সালাউদ্দিন) সেখানে (এইচপিতে) কাজ করে।
আমরা দল হিসেবে (জাতীয় দল) কী করতে চাই সে সেটা খুব ভালোভাবেই জানে। ফলে সেখানে গিয়ে (এইচপি) সে সেসবই খুঁজে বের করার চেষ্টা করবে। এখানে অনূর্ধ্ব-১৯ এবং জাতীয় দলের মাঝের যে লাইনটা তৈরি করার সুযোগ পাবে। এখানে আমি দলের লাভই দেখছি।’ ২০২৪ সালের নভেম্বরে জাতীয় দলের সিনিয়র সহকারী কোচের দায়িত্ব পান সালাহউদ্দিন। বিসিবির সাথে তার বর্তমান চুক্তির মেয়াদ ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ পর্যন্ত। পাকিস্তান সিরিজের পর এইচপির প্রধান কোচের পদে যোগ দিলেও চুক্তির মেয়াদ বিশ্বকাপ পর্যন্তই থাকবে। আর এইচপির বর্তমান দায়িত্বে থাকা প্রধান কোচ ডেভিড হেম্পকে দেয়া হবে অন্য দায়িত্ব।