নতুনদের ঝালিয়ে দেখার লক্ষ্য নিয়ে আয়োজিত টি-টোয়েন্টি সিরিজে শেষ পর্যন্ত দারুণ লড়াইয়ের পর দক্ষিণ আফ্রিকা ৩-২ ব্যবধানে সিরিজ জিতে নিয়েছে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। পাঁচ ম্যাচের এই সিরিজের শেষ ও নির্ধারণী ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয় ক্রাইস্টচার্চে। যেখানে ৩৩ রানের জয়ে শিরোপা নিশ্চিত করে প্রোটিয়ারা। গতকাল বুধবার সিরিজের শেষ ম্যাচে টসে হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকা ২০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে তোলে ১৮৭ রান। শুরুটা খুব একটা ভালো ছিল না তাদের। ওপেনার টনি জর্জি দ্রুত আউট হয়ে গেলে কিছুটা চাপে পড়ে দল। তবে উইয়ান মুল্ডার ও রুবিন হারমান মিলে মাঝের দিকে গুরুত্বপূর্ণ একটি জুটি গড়ে তোলেন। মুল্ডার ৩১ রান করে ফিরলেও হারমান ৩৯ রানের কার্যকর ইনিংস খেলেন, যা দলকে স্থিতিশীলতা এনে দেয়। এরপর ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন কনর ইস্টারহাউজেন। ১১তম ওভারে ক্রিজে এসে তিনি একেবারে বিধ্বংসী ব্যাটিং শুরু করেন। মাত্র ৩৩ বলে ৫টি চার ও ৬টি ছক্কার সাহায্যে ৭৫ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন এই তরুণ ব্যাটসম্যান। তার আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের ওপর ভর করেই দক্ষিণ আফ্রিকা বড় সংগ্রহ গড়তে সক্ষম হয়। ডিয়ান ফরেস্টার ২১ রান করে কিছুটা অবদান রাখলেও শেষ দিকে বড় স্কোর দাঁড় করানোর কৃতিত্ব পুরোপুরি ইস্টারহাউজেনের।
নিউজিল্যান্ডের বোলারদের মধ্যে বেন সিয়ার্স দুটি উইকেট নেন, আর জ্যাক ফোলস ও জশ ক্লার্কসন একটি করে উইকেট শিকার করেন। তবে ফিল্ডিংয়ে বেশ কিছু সহজ ক্যাচ মিস করায় চাপ বাড়ে কিউইদের ওপর, যা ম্যাচের ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলে। ১৮৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় নিউজিল্যান্ড। দ্বিতীয় ওভারেই কেটেন ক্লার্ক আউট হয়ে গেলে চাপ বাড়তে থাকে। পাওয়ার প্লের মধ্যেই দুই উইকেট হারিয়ে ফেলে স্বাগতিকরা। টিম রবিনসন ২৫ এবং ডেন ক্লিভার ২২ রান করলেও কেউই বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। নিক কেলিও ১৪ রান করে বিদায় নেন। মাঝের দিকে বেভন জ্যাকবস কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। ১৯ বলে ৩৬ রানের ইনিংস খেলে তিনি হারের ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করেন। অধিনায়ক জিমি নিশাম ২৪ বলে ২৪ রান করলেও ম্যাচে ফেরার মতো বড় কোনো জুটি গড়ে ওঠেনি। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৫৪ রানে থেমে যায় নিউজিল্যান্ডের ইনিংস।
দক্ষিণ আফ্রিকার বোলিং আক্রমণে জেরাল্ড কোয়েৎজি, উইয়ান মুল্ডার ও ওটনিল বার্টম্যান দুটি করে উইকেট নেন। এছাড়া অধিনায়ক কেশভ মহারাজ একটি উইকেট শিকার করেন এবং দলকে নেতৃত্ব দেন দারুণভাবে।এর আগে সিরিজের প্রথম ও চতুর্থ ম্যাচে জয় পেয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা, আর দ্বিতীয় ও তৃতীয় ম্যাচ জিতে সমতায় ফেরে নিউজিল্যান্ড। ফলে শেষ ম্যাচটি হয়ে ওঠে সিরিজ নির্ধারণী। সেই ম্যাচেই দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে জয় তুলে নেয় প্রোটিয়ারা।