৪০ দিন চলার পর ইরানে আমেরিকা ও ইসরাইলের আগ্রাসন আপাতত বন্ধ হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের অন্যায় আচরণ ও গোয়ার্তুমির ফলে এ সময়ে হাজার হাজার নিরপরাধ মানুষের প্রাণ গেছে। আহত হয়েছেন বিপুল সংখ্যক মানুষ। স্থাপনার ক্ষতি হয় বেশুমার। ইরান যুদ্ধের নামে এটা ছিল ইরানের ওপর চাপিয়ে দেয়া অন্যায় যুদ্ধ। এ হামলা ছিল নিন্দনীয় ঘটনা।

অবশেষে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় পক্ষকালের জন্য যুদ্ধ বন্ধ করতে রাজি হন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। আগের দিন তিনি ইরানকে ধুলোর সাথে মিশিয়ে দেয়ার হুমকি দিয়েছিলেন, আর পর দিনই তিনি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হন বলে বার্তা মাধ্যমের খবর। পত্রিকান্তরে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, গত মঙ্গলবার ইরানি ‘সভ্যতা ধ্বংস’ করে দেয়ার হুমকির পর টানটান উত্তেজনার মধ্যে অবশেষে পূর্বঘোষিত বড় ধরনের হামলা থেকে সরে এসেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

আমরা মনে করি এর মাধ্যমে তার দম্ভ পরাস্ত হয়েছে। কিন্তু হাজার হাজার মানুষকে হত্যার দায় কে নেবে? ইরানকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেয়ার যে বাসনা নিয়ে ট্রাম্প হামলা শুরু করেছিলেন সে লক্ষ্য অর্জিত হয়নি। তবে আমেরিকা ও ইসরাইলের হামলায় তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

খবরে বলা হয়েছে, এ ভয়াবহ যুদ্ধে প্রাণহানির তালিকা প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ। তাদের দেয়া তথ্য মতে ইরানে ৩,৬৩৬ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ১,৭০১ জনই বেসামরিক নাগরিক, যার মধ্যে অন্তত ২৫৪ জন শিশু। শহীদ হয়েছেন ইরানের সোর্বচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনিসহ বহু সংখ্যক সামরিক কর্মকর্তা ও জেনারেল। ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অফ রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি হামলায় ইরানে অন্তত ১,৯০০ জন নিহত এবং ২০ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। শ্রীলঙ্কা উপকূলে ইরানি যুদ্ধজাহাজে মার্কিন হামলায় আরও ১০৪ জন নিহতের দাবি করেছে দেশটির সেনাবাহিনী।

লেবানন কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইসরাইলি হামলায় অন্তত ১,৫৩০ জন প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের মধ্যে ১২৯ জন শিশু। ইরাকের স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, সংকটের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত দেশটিতে ১১৭ জন নিহত হয়েছেন। ইসরাইলের অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস জানিয়েছে, ইরান ও লেবানন থেকে ছোড়া মিসাইলে দেশটিতে ২৩ জন নিহত হয়েছেন। ইসরাইলি সামরিক বাহিনী দক্ষিণ লেবাননে তাদের ১১ জন সৈন্য নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এছাড়া নিজস্ব বাহিনীর গুলিতে এক ইসরাইলি কৃষক নিহত হন। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, যুদ্ধে তাদের ১৩ জন সামরিক সদস্য নিহত এবং ৩০০-এর বেশি আহত হয়েছেন। এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতে ১২ জন, কাতারে ৭ জন, কুয়েতে ৭ জন, বাহরাইনে ২ জন, ওমানে ২ জন ও সৌদি আরবে ২ জন নিহত হয়েছেন। এটা প্রাথমিক তালিকা মাত্র। প্রকৃত তালিকায় হয়তো নিহতের সংখ্যা আরো বৃদ্ধি পাবে। এই বিপুলসংখ্যক প্রাণহানির দায় নিতে হবে ট্রাম্পকে।

আমরা মনে করি যুদ্ধ কোন সমাধান বয়ে আনে না। এ ঘটনায় তা আবার প্রমাণিত হলো। যে কোন মূল্যে যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধ হওয়া উচিত। আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের কোন বিকল্প নেই। যতখানি অগ্রগতি হয়েছে তা ধরে রেখে আমরা স্থায়ী যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানাই।