বিশ্ববাসীর এখন স্পষ্ট করে বলা প্রয়োজন যে, ইসরাইলের কারণেই বিশ্বে এত যুদ্ধ ও অশান্তি। যুদ্ধাপরাধী এই রাষ্ট্রটিকে আর চাতুর্যের সুযোগ দেওয়া যায় না। যুক্তরাষ্ট্রের জনগণও বিষয়টি উপলব্ধি করতে পারছে। তবে দাম্ভিক ও স্থ’ূলবুদ্ধির শাসক ডোনাল্ড ট্রাম্প যেন বুঝেও বুঝে উঠতে পারছেন না, নিজের কর্মকৌশলও ঠিক করতে সমর্থ হচ্ছেন না। ইরান যুদ্ধের বিষয়টি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এখানে যুদ্ধবিরতির ক্ষেত্রে আসল বাধা ইসরাইল। আরো স্পষ্ট করে বলতে হয়, নেতানিয়াহু গ্রেটার ইসরাইল রাষ্ট্রের স্বপ্নে এখন বিভোর।

দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এর বিশ্লেষণে বলা হয়, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধচলাকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে যে সুসম্পর্ক ছিল, তাতে এখন টানাপোড়েন দেখা যাচ্ছে। ইরানের সঙ্গে ট্রাম্পের শান্তিচুক্তির প্রচেষ্টায় নেতানিয়াহু ও ট্রাম্পের স্বার্থগুলো আলাদা হয়ে উঠছে। ট্রাম্পের সঙ্গে মতপার্থক্যে নেতানিয়াহুকে লেবানন ও ইরান বিষয়ে উচ্চাকাক্সক্ষা বাদ দিয়ে আপস করতে বাধ্য করতে পারে। আর তা না হলে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর সম্পর্কে ফাটল দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ট্রাম্প গত বৃহস্পতিবার বলেন, তিনি নেতানিয়াহুকে লেবাননে ইসরাইলের সামরিক অভিযান কমিয়ে আনতে বলেছেন। এ অভিযান ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিকে হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছিল। ট্রাম্প গত বুধবার নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনালাপে নিজের অবস্থান শক্তভাবে তুলে ধরেন। পরে এনবিসি নিউজকে বলেন, তিনি ইরানের সঙ্গে তার কূটনীতিকে বিপন্ন না করতে চাপ দিয়েছেন। তার এই চাপের পর নেতানিয়াহু ঘোষণা দেন, লেবাননের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা শুরু করবে ইসরাইল। তবে মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ ফেলো নাথান স্যাক্স বলেন, নেতানিয়াহুর লক্ষ্য হলো লেবাননে তার সামরিক লক্ষ্য ত্যাগ না করেই যুক্তরাষ্ট্রের চাপ এড়িয়ে চলা। স্যাক্স আরও বলেন, নেতানিয়াহু মার্কিন প্রেসিডেন্টের ধৈর্য্য কতটা পরীক্ষা করবেন, তারও একটা সীমা আছে।

উল্লেখ্য, ইসরাইলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বেশ জনপ্রিয়। ফলে এ বছর ইসরাইলের জাতীয় নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের সঙ্গে অংশীদারিত্ব নেতানিয়াহুর বড় রাজনৈতিক সম্পদ। নেতানিয়াহু প্রসঙ্গে স্যাক্স বলেন, তার মাথায় এখন ট্রাম্পের চেয়ে আর বড় কিছু নেই। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের দাবি উপেক্ষা করার জন্য নেতানিয়াহুকে দেশে কোনো মূল্য দিতে হয়নি। কারণ, বাইডেন ইসরাইলীদের কাছে জনপ্রিয় ছিলেন না। সেখানে এখন পরিস্থিতি সম্পূর্ণ উল্টো। ট্রাম্প জনপ্রিয়, বিশেষ করে নেতানিয়াহুর সবচেয়ে রক্ষণশীল সমর্থকদের মধ্যে। বিশ্লেষকরা বলেছেন, ট্রাম্পের সঙ্গে প্রকাশ্যে বিরোধে না জড়িয়ে নেতানিয়াহু সম্ভবত মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছে ব্যক্তিগতভাবে তেহরানের সঙ্গে কঠোর দর-কষাকষি এবং প্রয়োজনে আবার যুদ্ধে ফেরার পক্ষে জোরালো যুক্তি তুলে ধরবেন। স্যাক্স আরও যোগ করেন, নেতানিয়াহুর কাছে খুব বেশি নমনীয় মনে হবে, ট্রাম্প এমন একটি চুক্তি করলেও ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী হয়তো সুযোগের অপেক্ষায় থাকবেন। সংঘাত থেকে যখন মানুষের মনোযোগ সরে যাবে, তখন নেতানিয়াহু ইরানের কথিত অপতৎপরতা সম্পর্কে নতুন কোনো গোয়েন্দা তথ্য বা আবার সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য অন্য কোনো যুক্তি নিয়ে ট্রাম্পের কাছে হাজির হতে পারেন। এ জন্যই বলা হচ্ছে, যুদ্ধবিরতিতে বাধা ইসরাইল। বিষয়টি উপলব্ধি করছেন যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ। বিভিন্ন জরিপ ও প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে দেখা যাচ্ছে, ইহুদি রাষ্ট্রটিকে ঘৃণা করে যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ।

রাজনৈতিক প্রার্থীরা আজ প্লেগ থেকে দূরে থাকার মতো ইসরাইলের সঙ্গে যে কোনো সম্পর্ক এড়িয়ে চলছেন। আর যুক্তরাষ্ট্রের রিপ্রেজেন্টেটিভ ও সম্ভাব্য ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট প্রার্থী আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও কোর্তেজ সম্প্রতি বলেছেন, তিনি ইসরাইলকে সব ধরনের সামরিক সহায়তা-এমন কি রক্ষণাত্মক সহায়তাও দেওয়ার বিরোধিতা করবেন। এমন প্রবণতা রিপাবলিকান পার্টির মাগা আন্দোলনের মধ্যেও বিস্তৃত হচ্ছে। মার্কিন জনগণের মধ্যে এখন বড় প্রশ্ন-ইরানের বিরুদ্ধে ইসরাইলের এই যুদ্ধ কেন? নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে মার্কিন নাগরিকসহ বিশ্ববাসীর ঘৃণার মাত্রা বাড়ছে, এ পথেই হয়তো পতন হবে তার।