বাগেরহাটের রামপাল উপজেলায় বাস ও মাইক্রোবাস মুখোমুখি সংঘর্ষে বর-কনেসহ ১৪ জন নিহত হয়েছেন। গত ১২ মার্চ বিকেলে খুলনা-মোংলা মহাসড়কের বেলাইব্রিজ এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। খবরে বলা হয়েছে, পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, নৌবাহিনির একটি স্টাফ বাস মোংলার দিক থেকে খুলনার দিকে যাচ্ছিল। পথে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মাইক্রোবাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় মাইক্রোবাসটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই কয়েকজনের মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান চালায়। আহতদের উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। গুরুতর আহতদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পুলিশ জানায়, দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন দুটি জব্দ করা হয়েছে এবং দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে কাজ চলছে। পত্রিকান্তরে প্রকাশিত এ খবরে উদ্বিগ্ন না হয়ে উপায় নেই। বিয়ের আনন্দঘন অনুষ্ঠান শেষে এমন বিষাদময় ঘটনা ঘটলো। এতগুলো প্রাণ ঝরে যাওয়ার এ খবরে শোক জানাবার ভাষা নেই। এমন মৃত্যু কারোই কাম্য নয়। আমরা নিহতদের রূহের মাগফেরাত কামনা করি, শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোকে জানাই সমবেদনা। বাংলাদশে সড়ক দুর্ঘটনা মৃত্যুর একটি বড় কারণ। পরিসংখ্যান বলছে, শুধু গত ফেব্রুয়ারি মাসে দেশে ৫১৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৩২ জন নিহত হয়েছেন। এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন ১ হাজার ৬৮ জন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ৫৬ জন নারী ও ৬২ জন শিশু রয়েছে। নিহত ব্যক্তিদের ৪০ দশমিক ২৭ শতাংশই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রতিবেদনে সড়ক দুর্ঘটনার এ তথ্য উঠে এসেছে। বিগত কয়েক মাসের চিত্র পর্যালোচনা করলেও একই চিত্র দেখা যাবে। মোটকথা দুর্ঘটনার হাত থেকে নিস্তার মিলেছে না। আর বছরে মারা যায় অনন্ত ১০ থেকে ১২ হাজার মানুষ।
এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে হতাহতের সংখ্যা বেড়েছে। গত বছর (২০২৫ সালে) ৬ হাজার ৭২৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৯ হাজার ১১১ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১৪ হাজার ৮১২ জন। বাংলাদেশ যাত্রীকল্যাণ সমিতির এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, ২০২৫ সালে সবচেয়ে বেশি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ঘটেছে। ২ হাজার ৪৯৩টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ২ হাজার ৯৮৩ জন নিহত এবং ২ হাজার ২১৯ জন আহত হয়েছেন। এ সংখ্যা যথাক্রমে মোট দুর্ঘটনার ৩৭ দশমিক ৪ শতাংশ, নিহতের সংখ্যার ৩৮ দশমিক ৪৬ শতাংশ এবং আহতের সংখ্যার ১৪ দশমিক ৯৮ শতাংশ। আবার ঈদের সময়ে সড়ক দুর্ঘটনায় বহু লোকের প্রাণহানি ঘটে। ঈদুল ফিতরও আসন্ন। বাগেরহাটের এই ঘটনার পর ঈদ যাত্রার সড়ক দুর্ঘটনা বিষয়ে সতর্কতা জরুরী হয়ে দেখা দিয়েছে। ঈদকে কেন্দ্র করে প্রতিবছর দেশের মহাসড়কগুলোতে সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা বেড়ে যায়। এসব দুর্ঘটনায় বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটে।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) তথ্যমতে, গত বছর ঈদুল ফিতরের আট দিনের ছুটিতে সারা দেশে ১১০টি সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ১৩২ জন নিহত এবং ২০৮ জন আহত হন। এর আগে ২০২৩ সালের ঈদুল ফিতরে ১৫ দিনে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান ২৩৯ জন। বিআরটিএর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের তুলনায় ২০২৪ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা প্রায় ১৯ শতাংশ বেড়েছে। আমরা মনে করি সড়কে এ মৃত্যু রোধ করতে এখনই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার কথা ভাবতে হবে। ঈদ যাত্রায় দুর্ঘটনা রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও নিতে হবে। সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর কাছে আহ্বান জানাই যাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। বাগেরহাটের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার এবং নিহতদের পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর জন্যও আহ্বান জানাই।