সাধারণ মানুষ যুদ্ধ চায় না, বড় বড় নেতারাও যুদ্ধের বিরুদ্ধে কথা বলে থাকেন। তবুও যুদ্ধ হয় এবং এর পেছনে দেখা যায় বড় বড় নেতাদেরই। কথা ও কাজে মিল না থাকায় বর্তমান সভ্যতায় বিশ্বের শীর্ষ নেতারা মর্যাদার পাত্র নন, বরং নৈতিক মানদণ্ডে তারা এখন নিন্দিত। এমন বিবেচনায় এখন শীর্ষে অবস্থান করছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফিলিস্তিনের দৃশ্যপট ট্রাম্পকে নিন্দিত করেছে। ইউক্রেনের দৃশ্যপট নিন্দিত করেছে রুশ প্রেেিসডন্ট পুতিনকে। এই তো আমাদের বিশ্বব্যবস্থা, এই তো আমাদের সভ্যতা; যেখানে ‘জোর যার মুল্লুক তার’। এতো বিজ্ঞান-প্রযুক্তি, এতো আবিষ্কার, এতো সম্পদ-তারপরও আমরা প্রকৃত অর্থে সভ্য হতে পারলাম না, পারলাম না সাধারণ নৈতিক মানুষ হতেও। নৈতিকতা না থাকলে মানুষ ও পশুতে পার্থক্য কোথায়? একদিক থেকে বিবেচনা করলে এখন মানুষের চাইতে পশুর মর্যাদা বেশি। কারণ, ওরা ওদের স্বভাবে আছে, শৃংখলায় আছে। অযৌক্তিকভাবে ওরা কারো ওপর হামলা করে না। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প ও ইসরাইলের নেতানিয়াহু অযৌক্তিক ও নৃশংস হামলা চালায় ফিলিস্তিনের ওপর, কখনো বা ইরানের ওপর। ওরা ভুল পথের পথিক। তবে ইরান ভুল পথের পথিক হতে গেল কেন? পথিক তুমি কি পথ হারিয়েছ? এ কথাটাই যেন ইরানকে বলতে চাইলো হামাস।

আমেরিকা ও ইসরাইলের যৌথ হামলার প্রতিশোধ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে আমেরিকান স্থাপনায় হামলা চালাচ্ছে ইরান। এতে প্রতিদিনই বাড়ছে ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের সংখ্যা। এ অবস্থায় প্রতিবেশী দেশগুলোকে হামলার লক্ষ্যবস্তু না করতে তেহরানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। শনিবার এক বিবৃতিতে হামাস বলেছে, আন্তর্জাতিক রীতি ও আইন অনুযায়ী যে কোনো উপায়ে আগ্রাসনের জবাব দেওয়ার অধিকার রয়েছে ইরানের। তবে হামাস ইরানের ভাইদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে, তারা যেন প্রতিবেশী দেশগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা থেকে বিরত থাকে। তেহরানের প্রতি এটিই তাদের প্রথম প্রকাশ্য আবেদন। গাজায় ইসরাইলের সঙ্গে দু’বছরের ধ্বংসাত্মক যুদ্ধে লিপ্ত হামাস আন্তর্জাতকি সম্প্রদায়কে চলমান যুদ্ধ অবিলম্বে বন্ধে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে।

ইরান যুদ্ধ শুরুর দিন গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যার ঘটনাকে ‘নৃশংসা অপরাধ’ হিসেবে আখ্যায়িত করে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছিল হামাস। এক বিবৃতিতে হামাস বলেছিল, ‘তিনি আমাদের জনগণ, উদ্দেশ্য ও প্রতিরোধ যোদ্ধাদের সব ধরনের রাজনৈতিক, কূটনৈতিক এবং সামরিক সহায়তা দিয়েছিলেন।’ ইরান যুদ্ধের এই জটিল বাস্তবতায় হামাসের বিবৃতি ও বক্তব্য ভেবে দেখার মতো। হামাসের বক্তব্যে আগ্রাসীগোষ্ঠীর নৃশংস আগ্রাসনের বিষয়টি উঠে এসেছে। আগ্রাসনের জবাব দেওয়ার ব্যাপারে ইরানের অধিকারের বিষয়টিও জোরালোভাবে তুলে ধরা হয়েছে। সাথে যুক্ত করা হয়েছে আর একটি বিষয়, যেন মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিবেশী দেশগুলোকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করা না হয়। যথাবিষয়ে যথাবক্তব্য রাখার এমন উদাহরণ বর্তমান সভ্যতায় খুব কমই দেখা যায়। এই ‘অন্ধ সভ্যতায়’ ‘অন্ধসমর্থনের’ প্রবণতাই প্রবল। বিচার-বিবেচনা ও ন্যায়বোধের সংস্কৃতি এখন ম্রিয়মান। এমন বাতাবরণে বিধ্বস্ত মজলুম সংগঠন ‘হামাস’ যথাবিষয়ে যথাবক্তব্য রাখার যে সাহস ও নৈতিকতা প্রদর্শন করেছে, তা এক অনন্য উদাহরণ। উপলব্ধি করা যায়, এমন উন্নত চেতনার কারণে হামাসের অভিযাত্রা এগিয়ে যাবে এবং তারা সফলও হবে ইনশাআল্লাহ।