ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ খবর পত্রিকান্তরে প্রকাশিত হয়েছে বুধবার। খবরে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে একটি বিশেষ সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আমরা সরকারের এ উদ্যোগের খবরে সাধুবাদ জানাই। রাজধানী ঢাকাকে যানজটের শহর বলা হয়। আর এই যানজটের সমস্যাটি অনেক পুরনো এবং এ থেকে নিস্তার মিলছে না। যানজটের কারণে ক্ষতির পরিমাণও অনেক।
বিশ্বব্যাংকের এক পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, ঢাকায় যানজটের কারণে প্রতিদিন ৩২ লাখ কর্মঘণ্টা নষ্ট হয়। এর ফলে বছরে যে আর্থিক ক্ষতি হয়, তার পরিমাণ প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা। কোন কোন সূত্রে এ ক্ষতির পরিমাণ ৫০ হাজার কোটি টাকা আর কর্মঘন্টা নষ্টের পরিমাণও বেশি বলে দাবি করা হয়। তবে আর্থিক ক্ষতির বাইরেও যানজটের আরও ক্ষতি আছে এবং সেসবও কম উদ্বেগজনক নয়। যানজটে আটকে রোগী মারা যায় হাসপাতালে পৌঁছার আগেই। তাই এ সমস্যা নিরসন করা জরুরী।
প্রকাশিত খবরে আরো বলা হয়েছে, ‘ঢাকা শহরের যানজট নিরসন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন’ সংক্রান্ত বিশেষ সভায় বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজধানী ঢাকার যানজট নিরসনে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বেশকিছু নির্দেশনা দিয়েছেন। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে আধুনিকায়ণ ও যুগোপযোগী করে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। বৈঠকে অংশ নেয়া সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করতে পারলে এপ্রিলের শেষ নাগাদ ঢাকা শহরে যানজট অনেকটা নিরসন সম্ভব হবে। মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করলে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক উন্নয়ন হবে। বৈঠকের সিদ্ধান্তের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব জানান, ট্রাফিক সিগন্যালগুলো দেশীয় পদ্ধতিতে অটোমেশনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে ঢাকার ১২০টি সিগন্যাল অটোমেশন করা হবে। ঢাকা শহরের চারপাশে নতুন বাইপাস সড়ক এবং শহরের ভেতরে ওভারপাস ও আন্ডারপাস নির্মাণ করার উদ্যোগ নেয়া হবে।
এছাড়াও ঢাকা শহর থেকে যত্রতত্র বাস কাউন্টার অপসারণ করা হবে। অতিদ্রুত ঢাকা মহানগরের ভেতরে থাকা পাঁচটি আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল সরিয়ে শহরের বাইরে স্থাপন করা হবে। এই পাঁচটি বাস টার্মিনাল ‘সিটি সার্ভিসের’ জন্য চালু করা হবে। রাস্তার দু’পাশের সড়ক দখলমুক্ত করা হবে। রাস্তার মাঝে থাকা বিদ্যুতের খুঁটি সরিয়ে ফেলা হবে। ঢাকা শহরের ভেতরে রেল ক্রসিংয়ে ম্যানুয়াল ব্যবস্থার পাশাপাশি অটো সিগন্যাল লাইটিং সিস্টেম চালু করা হবে। সিটি বাসকে জিপিএস সিস্টেমের আওতায় আনা হবে। তিনি আরো জানান, ঢাকার অধিকাংশ ফুটওভার ব্রিজে চলন্ত সিঁড়ি স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি শহরের হাসপাতাল এলাকায় ফুটওভার ব্রিজে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি লিফট স্থাপন করা হবে। আগামী ৭ এপ্রিলের মধ্যে অধিকাংশ প্রস্তাবিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের প্রশাসক। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।
আমরা মনে করি নবনির্বাচিত বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের কাছে দেশবাসীর অনেক চাওয়া রয়েছে। আর সেগুলো পূরণ করাও সরকারের দায়িত্ব। অতীতে এ ধরনের বহু উদ্যোগ নেয়া হলেও সেগুলো পুরোপুরি সাফল্যের মুখ দেখেনি। আমরা আশা করবো সরকারের এই নতুন উদ্যোগ যেন অতীতের মতো না হয়, যেন সাফল্যমণ্ডিত হয়। আমাদের যানজটের অভিশাপ থেকে মুক্ত হওয়া জরুরী। ট্রাফিক ব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর এ উদ্যোগকেও সফল করতে হবে।