ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ফুটপাথ ও সড়ক অবৈধভাবে দখলের বিরুদ্ধে সমন্বিত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছে। বৃহস্পতিবার পত্রিকান্তরে এ খবর প্রকাশিত হয়েছে। এতে বলা হয়, দিনব্যাপী পরিচালিত এসব অভিযানে ফুটপাথ ও সড়কের অবৈধ দখল উচ্ছেদ, জরিমানা আদায়, মালামাল জব্দ এবং আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়। অভিযানে এক লাখ ৯২ হাজার টাকা জরিমানা ও ২৩ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

ট্রাফিক লালবাগ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, কোতোয়ালি ট্রাফিক জোনের গোয়ালঘাট-নারিন্দা এলাকায় পরিচালিত অভিযানে আইন অমান্য করায় ১৩ জনকে গ্রেফতার করা হয় এবং সড়ক পরিবহন আইনে মামলা দায়েরসহ বিভিন্ন মালামাল জব্দ করা হয়। গ্রেফতার ব্যক্তিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। ট্রাফিক ওয়ারী বিভাগ সূত্রে জানা যায়, যাত্রাবাড়ী জোনে ধোলাইপাড় থেকে যাত্রাবাড়ী মোড় এবং শহীদ ফারুক সরণি এলাকায় রাস্তার পাশে অবৈধভাবে স্থাপিত দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান উচ্ছেদ করা হয়। আইন অমান্য করায় সাত ব্যবসায়ীকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং অন্যদের সতর্ক করা হয়। এছাড়া অন্যান্য জোনেও অভিযান পরিচালনার খবর পাওয়া গেছে। আমরা রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ফুটপাথ ও সড়ক অবৈধভাবে দখলের বিরুদ্ধে সমন্বিত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার বিষয়টিকে স্বাগত জানাই।

রাজধানী ঢাকাকে যানজটের শহর বলা হয়। ফুটপাথ ও যত্রতত্র সড়ক দখল এই যানজটের একটি বড় কারণ। অতীতে স্বৈরাচারী আমলে সরকারী দলের বিভিন্ন সংগঠনের নাম নিয়ে সড়ক দখল আর ফুটপাথ দখল করে চাঁদাবাজি চলেছে। আমরা মনে করি সেই ধারা বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের আমলে বন্ধ হওয়া উচিত।

আর এ যানজটের সমস্যাটি অনেক পুরণো এবং এ থেকে নিস্তার মিলছে না। দেশে যানজটের কারণে ক্ষতির পরিমাণও অনেক। বিশ্বব্যাংকের এক পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, ঢাকায় যানজটের কারণে প্রতিদিন ৩২ লাখ কর্মঘণ্টা নষ্ট হয়। এর ফলে বছরে যে আর্থিক ক্ষতি হয়, তার পরিমাণ প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা। কোন কোন সূত্রে এ ক্ষতির পরিমাণ ৫০ হাজার কোটি টাকা আর কর্মঘন্টা নষ্টের পরিমাণও বেশি বলে দাবি করা হয়। তবে আর্থিক ক্ষতির বাইরেও যানজটের আরও ক্ষতি আছে এবং সেসবও কম উদ্বেগজনক নয়। যানজটে আটকে রোগী মারা যায় হাসপাতালে পৌঁছার আগেই। রাজধানীকে ফুটপাথ দখল ও সড়ক দখলের এই কালচার সমস্যাকে বাড়িয়ে তুলেছে। তাই এই সমস্যা নিরসন করা জরুরী।

আমরা মনে করি নবনির্বাচিত বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের কাছে এবং সে সাথে ডিএমপি সিটি কর্পোরেশনসহ সরকারী বিভিন্ন সংস্থার কাছে দেশবাসীর অনেক চাওয়া রয়েছে। আর সেগুলো পূরণ করাও তাদের দায়িত্ব। অতীতে এ ধরনের বহু উদ্যোগ নেয়া হলেও সেগুলো পুরোপুরি সাফল্যের মুখ দেখেনি। আমরা আশা করবো ডিএমপির এ নতুন উদ্যোগ যেন অতীতের মতো না হয়, যেন সাফল্যমণ্ডিত হয়। আমাদের যানজটের অভিশাপ থেকে মুক্ত হওয়া জরুরী। রাজধানীকে যানজটমুক্ত করতে হবে যে কোন মূল্যে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানেরও নির্দেশনা রয়েছে।

আমরা মনে করি জনসাধারণের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে এবং সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে রাজধানীতে এ ধরনের উচ্ছেদ অভিযানসহ প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে ট্রাফিক বিভাগের। তবে এ বিষয়ে আগেভাগে ঘোষণা দিয়ে কাজটি করা দরকার, যাতে সংশ্লিষ্টরা ক্ষতির মুখে না পড়েন বা কোন আইনগত বাধা সৃষ্টি না হয়। আমরা ট্রাফিক বিভাগের এই কার্যক্রমের সাফল্য কামনা করি।