মুন্সী আবু আহনাফ
২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব পরবর্তী বাংলাদেশে রাষ্ট্র সংস্কারের যে আকাক্সক্ষা তৈরি হয়েছে, সেখানে গণভোট এবং জুলাই সনদ (বা সংস্কার প্রস্তাবনাগুলো) বাস্তবায়ন করা বিএনপি’র সরকারের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত লাভজনক হবে। বিএনপি যদি তাদের ‘৩১ দফা’ সংস্কার প্রস্তাবনার সাথে জুলাই বিপ্লবের স্পিরিট ও সনদকে সমন্বয় করে এগোতে পারে, তবে তা কেবল দেশের জন্যই নয়, দল হিসেবে তাদের দীর্ঘমেয়াদী ইমেজ এবং স্থিতিশীলতার জন্যও বড় হাতিয়ার হবে। এটি প্রমাণ করবে যে, তারা কেবল ক্ষমতায় থাকার জন্য নয়, বরং রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্যেই রাজনীতি করছে। গণভোট (Referendum), সরাসরি গণতন্ত্র এবং জনরায়ের প্রভাব ও ইতিহাস বুঝতে Matt Qvortrup লেখা Referendums Around the World–বইটি পড়তে পারেন। এছাড়াও সুইজারল্যান্ড যেখানে ঘনঘন গণভোট হয়; সুইজারল্যান্ডের গণভোটের মডেল সম্পর্কে জানতে “The Swiss Confederation: A Typical Case of Direct Democracy” বইটি পড়তে পারেন।
এক. সরকারি দল বিএনপি গণভোট বা জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে যে লাভগুলো হবে তার কয়েকটি নির্দিষ্ট দিক থেকে বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করবো। ১. নৈতিক ও রাজনৈতিক বৈধতা বৃদ্ধি পাবে বিএনপি’র সরকারের। জুলাই বিপ্লবের মূল চেতনা ছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচার। বিএনপি যদি শুরু থেকেই এই বিপ্লবের অংশীদারদের প্রস্তাবিত সংস্কারগুলো (জুলাই সনদ) বাস্তবায়ন করে এবং তা কার্যকর করে, তবে তারা ছাত্র-জনতার ব্যাপক সমর্থন ধরে রাখতে পারবে। এতে করে দলটির প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা এবং আন্তর্জাতিক মহলে গ্রহণযোগ্যতা বহুগুণ বেড়ে যাবে। ২. গণভোট বাস্তবায়ন করলে স্বৈরাচারী কাঠামোর বিলোপ ও ক্ষমতার ভারসাম্য ফিরে আসবে। বিএনপি দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষমতার বাইরে থেকে রাষ্ট্রকাঠামোর যে দমন-নিপীড়নমূলক রূপ দেখেছে, জুলাই সনদের সংস্কারগুলো সেই কাঠামোর পরিবর্তন চায়। বাংলাদেশের মতো তৃতীয় বিশ্বের দেশে সংবিধানে গণভোটের বিধান থাকা খুব জরুরি। সরাসরি গণতন্ত্র বা জনগণের সরাসরি গণভোটের (Direct Democracy) কার্যকারিতা এবং সীমাবদ্ধতা নিয়ে David Altman লেখা Direct Democracy Worldwide বইটিতে চমৎকার আলোচনা রয়েছে। আধুনিক রাষ্ট্রে গণভোট কীভাবে কাজ করে, তা বুঝতে বইটি সহায়ক।
৩. জবাবদিহিতা ও সুশাসন নিশ্চিতকরণে গণভোট বাস্তবায়ন দরকার। জুলাই সনদে সাধারণত বিচার বিভাগ, দুদক, পুলিশ ও নির্বাচন কমিশনের মতো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয় প্রভাবমুক্ত করার কথা বলা হয়। বিএনপি যদি এগুলো বাস্তবায়ন করে, তবে প্রশাসনের প্রতি জনগণের ভয় দূর হবে। দুর্নীতি কমলে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা আসবে, যার সরাসরি ক্রেডিট পাবে ক্ষমতাসীন দল। দলের অভ্যন্তরে থাকা সুযোগসন্ধানীদের নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হবে। যেমন: ব্রিটিশ ব্রেক্সিট (Brexit) বা কলম্বিয়ার শান্তি চুক্তির মতো বড় বড় গণভোট কেন অনেক সময় অপ্রত্যাশিত ভালো ফলাফল নিয়ে আসে এবং জনরায়ের রাজনৈতিক গুরুত্ব কী সেই বিষয়ে জানতে Borja García Duarte লেখা The Populist Signal বইটি পড়তে পারেন। ৪. গণভোট বাস্তবায়ন তরুণ প্রজন্মের সাথে সংযোগ বাড়াবে, যারা আওয়ামী ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্র ব্যবস্থা ভেঙ্গে নতুন বাংলাদেশ গড়তে জীবন দিয়েছিল। বাংলাদেশের বর্তমান ভোটার তালিকার বড় একটি অংশ তরুণ। এই তরুণরাই জুলাই বিপ্লবের অগ্রভাগে ছিল যার ফলে ইতিহাসের কুখ্যাত ফ্যাসিস্ট ও গণহত্যাকারী শেখ হাসিনা ক্ষমতা ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। ৫. বিরোধীদের প্রতিবাদের সুযোগ কমানো যাবে গণভোট বাস্তবায়নের মাধ্যমে। যখন কোনো সরকার স্বচ্ছতা এবং সংস্কারের এজেন্ডা নিয়ে কাজ করে, তখন বিরোধী দলগুলোর জন্য অযৌক্তিক আন্দোলন করা কঠিন হয়ে পড়ে। জুলাই সনদ ও গণভোটের মতো ব্যবস্থাগুলো কার্যকর থাকলে রাজপথের রাজনীতির চেয়ে আলোচনার রাজনীতি বেশি গুরুত্ব পায়, যা সরকারকে স্বস্তিতে কাজ করার সুযোগ দেয়। গণভোটের মাধ্যমে যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে যে আমূল পরিবর্তন এসেছে, তার একটি সংক্ষিপ্ত ও তথ্যসমৃদ্ধ আলোচনা জানতে The British
Constitution: A Very Short Introduction–Martin Loughlin এই বইটি পড়তে পারেন। বাংলাদেশের সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদে বর্ণিত গণভোটের (জবভবৎবহফঁস) বিধানটি ২০১১ সালে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার গণভোটের বিধান আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্ত করে। যার ফলে আওয়ামী লীগ একটি ফ্যাসিস্ট দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে এবং এখন পলাতক ও নিষিদ্ধ। বিএনপি যদি আওয়ামী লীগের পথেই হাঁটে তবে তাদের পরিণতি একই হবে। বাংলাদেশের সরকার, সংবিধান ও রাষ্ট্র ব্যবস্থা বুঝতে তিনটি বই পড়া খুব জরুরি। জনগণ ও রাষ্ট্রের ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা এবং সংবিধান সংশোধনে গণভোটের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানের লেখা ‘‘সংবিধান ও রাজনীতি: বাংলাদেশ প্রেক্ষাপট’’ বইটি বেশ সমৃদ্ধ। গণতন্ত্রে জনগণের রায়ের গুরুত্ব এবং শাসকগোষ্ঠী যখন তা উপেক্ষা করে তখন কী ধরণের সংকট তৈরি হয়, তা নিয়ে ‘‘গণতন্ত্রের সংকট ও উত্তরণ’’ লেখক: প্রখ্যাত মার্কসবাদী চিন্তাবিদ বদরুদ্দীন উমর লেখা বইটি পড়তে পারেন। এছাড়াও আইনি ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণ নিয়ে ড. শাহদীন মালিকের লেখা ‘‘বাংলাদেশের সংবিধান: বিবর্তন ও ভবিষ্যৎ’’ এই বইটিতেও অনেক আইনি বয়ান পাওয়া যাবে।
দুই. গণভোটের জনরায় বাস্তবায়ন না করার কারণে বিশ্বের অনেক দেশে বিপর্যয় দেখা দিয়েছিল। গণভোটের ফলাফল বা জনরায় উপেক্ষা করা, জালিয়াতি করা অথবা তা বাস্তবায়ন না করার ফলে বিশ্বের অনেক দেশেই রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, গৃহযুদ্ধ এবং চরম অর্থনৈতিক বিপর্যয় নেমে এসেছিল। যেমন: ১. আলজেরিয়ার (১৯৯১-৯২) ইতিহাসে এটি একটি ভয়ংকর উদাহরণ। ১৯৯১ সালে দেশটিতে প্রথম বহুদলীয় সংসদীয় নির্বাচন (যা একাধারে একটি জনরায় ছিল) অনুষ্ঠিত হয়। যখন দেখা গেল ইসলামপন্থীরা বড় ব্যবধানে জিততে যাচ্ছে, তখন সেনাবাহিনী হস্তক্ষেপ করে নির্বাচনী প্রক্রিয়া বন্ধ করে দেয়। এই জনরায় অস্বীকার করার ফলে দেশটিতে এক ভয়াবহ গৃহযুদ্ধ শুরু হয়, যা প্রায় ১০ বছর স্থায়ী হয়েছিল। ২. ১৯৯০ সালে মিয়ানমারে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে অং সান সু চির দল এনএলডি ভূমিধস জয় পায়। সামরিক জান্তা এই জনরায় মেনে নিতে অস্বীকার করে এবং ক্ষমতা হস্তান্তর না করে দমন-পীড়ন শুরু করে। এর ফলে মিয়ানমার কয়েক দশকের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে একঘরে হয়ে পড়ে। ৩. জিম্বাবুয়ে (২০০০ ও ২০০৮) ২০০০ সালে একটি সাংবিধানিক গণভোটে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবে পরাজিত হন। তিনি জনরায়কে গুরুত্ব না দিয়ে উল্টো বিরোধী দলের ওপর দমন-পীড়ন শুরু করেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনেও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে। জনরায় উপেক্ষা করার ফলে জিম্বাবুয়েতে চরম মুদ্রাস্ফীতি (Hyperinflation) দেখা দেয়। ৪. ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ২০১৭ সালে একটি বিতর্কিত সংবিধানিক পরিবর্তনের চেষ্টা করেন, যা জনগণ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় প্রত্যাখ্যান করেছিল। তিনি গণভোটের দাবি তোয়াক্কা না করে ক্ষমতা কুক্ষিগত করেন। এর ফলে দেশটিতে নজিরবিহীন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হয়। ৫. গাজা উপত্যকা, ফিলিস্তিন ২০০৬ সালে ফিলিস্তিনের সংসদীয় নির্বাচনে হামাস জয়লাভ করে। কিন্তু আন্তর্জাতিক মহলের চাপ এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে সেই জনরায়ের পূর্ণ বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। এর ফলে ফাতাহ ও হামাসের মধ্যে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়, যার ফলে ফিলিস্তিনী শাসনব্যবস্থা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে (গাজা ও পশ্চিম তীর)। ৬. সুদানে (২০১৯ পরবর্তী পরিস্থিতি) দীর্ঘদিনের স্বৈরশাসক ওমর আল-বশিরের পতনের পর জনগণ বেসামরিক শাসনের পক্ষে রায় দিয়েছিল। কিন্তু সামরিক বাহিনী সেই আকাক্সক্ষা পূর্ণ না করে ক্ষমতা ধরে রাখার চেষ্টা করে। বর্তমানে সুদান একটি ভয়াবহ গৃহযুদ্ধের কবলে পড়ে আছে।
তিন. গণভোটের পুনঃপ্রবর্তন এবং জুলাই সনদ (বিপ্লবোত্তর সংস্কার প্রস্তাবনা) বাস্তবায়ন করা হলে তা রাষ্ট্র, নাগরিক এবং সরকার সবার জন্যই একটি নতুন যুগের সূচনা করতে পারে। দক্ষিণ এশিয়ায় (পাকিস্তান ও বাংলাদেশসহ) বিভিন্ন সময়ে সামরিক শাসকদের দেওয়া ‘হ্যাঁ-না’ ভোটের (Referendum) প্রকৃতি এবং এর মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের অপচেষ্টা নিয়ে Democracy and Dictatorship in South Asia – Robert Oberst এই বইটিতে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য রয়েছে। বিএনপি তাদের ৩১ দফার অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার হিসেবে ঘোষণা করেছে যে, আওয়ামী লীগ সরকার সংবিধান থেকে যে গণভোট (Referendum) ব্যবস্থা বাতিল করেছিল, তা পুনরায় সংবিধানে ফিরিয়ে আনা হবে। একজন ব্যক্তি দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না, এই ঐতিহাসিক সংস্কারের অঙ্গীকার বিএনপি করেছে। সংসদে বিশেষজ্ঞ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে ‘উচ্চকক্ষ’ (Upper House) গঠনে বিএনপি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। জুলাই সনদের স্পিরিট অনুযায়ী বিএনপি অঙ্গীকার করেছে যে; তারা বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে সম্পূর্ণ আলাদা এবং স্বাধীন করা হবে। পুলিশ ও সিভিল প্রশাসনকে দলীয় রাজনৈতিক প্রভাব থেকে মুক্ত করে একটি পেশাদার কাঠামোতে রূপান্তর করা হবে। গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও অমানবিক নির্যাতনের অবসান ঘটিয়ে মানবাধিকার নিশ্চিত করা হবে।
চার. বাংলাদেশে স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত মোট ৩টি গণভোট (Referendum) অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রথম গণভোট (৩০ মে, ১৯৭৭) তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ও প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান। উদ্দেশ্য ছিল জিয়াউর রহমানের প্রতি জনগণের আস্থা যাচাই এবং তার ঘোষিত ১৯-দফা কর্মসূচির প্রতি সমর্থন আদায়। ঐ গণভোটে সরকারি হিসেবে ৯৮.৯% ভোটার তার পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছিল। দ্বিতীয় গণভোট (২১ মার্চ, ১৯৮৫) তৎকালীন সামরিক শাসক লেফটেন্যান্ট জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। ঐ গণভোটের উদ্দেশ্য ছিল রাষ্ট্রপতি হিসেবে তার ক্ষমতা বহাল রাখা এবং তার গৃহীত নীতিমালার প্রতি জনগণের সমর্থন নিশ্চিত করা। গণভোটের অফিসিয়াল ফলাফল অনুযায়ী ৯৪.১৪% ভোটার এরশাদের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ রায় দিয়েছিল। রাজনৈতিক দলগুলো এই ভোট বর্জন করেছিল এবং একে একটি ‘প্রহসন’ হিসেবে অভিহিত করেছিল। তৃতীয় গণভোট (১৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৯১) অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি বিচারপতি শাহাবুদ্দীন আহমদের সময় (তিন জোটের রূপরেখা অনুযায়ী)। ঐ গণভোটের উদ্দেশ্য ছিল দেশের শাসনব্যবস্থা ‘রাষ্ট্রপতি শাসিত’ থেকে পরিবর্তন করে ‘সংসদীয় পদ্ধতি’তে ফিরিয়ে আনা। এটি ছিল সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনী অনুমোদনের জন্য। সেই গণভোটের ভোটারদের ৮৪.১% সংসদীয় পদ্ধতি প্রবর্তনের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেয়। এটি বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য ও গণতান্ত্রিক গণভোট হিসেবে পরিচিত, কারণ এতে প্রায় সব রাজনৈতিক দলের ঐকমত্য ছিল।
পাঁচ. এবার আসি আসল কথায়। ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোট হয়েছিল কীসের ওপর? গণভোটের প্রথম কথাটাই ছিল, “আপনি কি জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ-২০২৫ এবং জুলাই সনদে লিপিবদ্ধ সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত নিম্নলিখিত প্রস্তাবের প্রতি আপনার সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন?” মানে গণভোট হয়েছে জুলাই আদেশের ওপর। গণভোটে আদেশ ও সনদের যতটুকু অনুমোদন হয়েছে, এর পুরোটা বাস্তবায়ন হলেও সরকার বা বিএনপির কিছুই হবে না।
পরিশেষে, গণভোট বা জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়টি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি মাইলফলক হতে পারে। বিএনপি যদি এটি কার্যকর করার পক্ষে অবস্থান নেয়, তবে তারা প্রধানত তিনটি স্তরে লাভবান হবে: রাজনৈতিক বৈধতা, সাংবিধানিক সংস্কার এবং দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা।