অনুবাদ : মুজতাহিদ ফারুকী
আজ আমি যে বিষয়ে কথা বলবো, সেটি সমগ্র মানবেতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এক ধারা। এটি বুঝতে পারলে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পুরো ঘটনাবলি স্পষ্ট হবে। ধারাটি হলো, ইরান বা পারস্য জয় করতে যাওয়া বিশ্বের মহাশক্তিধর সাম্রাজ্য বা পরাশক্তিগুলি হয় ভেঙে পড়েছে, পিছু হটেছে অথবা স্থায়ীভাবে হীনবল হয়ে পড়েছে। এর কোনও ব্যতিক্রম ঘটেনি, একবারও না। আজ আমি বলতে চাই, এরপর আমেরিকার পালা। সুতরাং চলুন, পেছনে ফেরা যাক। কারণ ইতিহাসের হুবহু পুনরাবৃত্তি ঘটে না। তবে মার্ক টোয়েন যেমন বলেছিলেন, ইতিহাসের আবর্তন ঘটে ছন্দোবদ্ধ নিয়মে (অর্থাৎ ইতিহাসের অন্তর্নিহিত ধরন, আচরণ ও পরিণতি প্রায়শই অতীতের নানা ঘটনার প্রতিধ্বনি জাগায়)। আর বর্তমান ইরানে, এ ছন্দের পুনরাবৃত্তি ঘটেছে প্রবলভাবে।
প্রথমে ইরান দখল করতে আসেন আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট। তিনি মিসর জয় করেন, মেসোপটেমিয়া জয় করেন, আর হ্যাঁ, পারস্যও জয় করেন। টেকনিক্যালি পারস্য জয় করলেও এরপর কী হলো? তিনি ৩২ বছর বয়সে মারা গেলেন। সঙ্গে সঙ্গে তার সাম্রাজ্য ভেঙে পড়লো। তার সেনাপতিরা পরস্পর যুদ্ধ করে নিঃশেষ হলেন। মেসিডোনীয় সাম্রাজ্যের অবসান ঘটলো। আর তার জায়গায় কারা ক্ষমতায় আসে? পার্থেশীয়রা- ইরানিরা, যারা পরবর্তী ৫০০ বছর ধরে মধ্যপ্রাচ্য নিয়ন্ত্রণ করে। সুতরাং শিক্ষাটা সহজ, ইরানকে সাময়িকভাবে পরাস্ত করা হয়তো সম্ভব, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে ইরানই আপনাকে পরাজিত করবে।
দ্বিতীয়ত, রোমান সাম্রাজ্য। রোমানরা ছিল প্রাচীন বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ সামরিক শক্তি। তাদের ধারেকাছেও কেউ ছিল না। রোমানরা ৩০০ বছরের বেশি সময় ধরে পার্থেশীয় বা ইরানিদের সাথে যুদ্ধ করে। জুলিয়াস সিজার পারস্য আক্রমণের পরিকল্পনা করেন, কিন্তু তার আগেই হত্যার শিকার হন। সম্রাট ক্যারাস (Marcus Aurelius Carus) পারস্য আক্রমণ করেন এবং ৫৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দে কারহের যুদ্ধে (Battle of Carrhae) সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যান। এটি ছিল পুরো রোমান সাম্রাজ্যের ইতিহাসে তাদের অন্যতম বৃহৎ সামরিক পরাজয়। সম্রাট ট্রাজানও আক্রমণ করেন, নামমাত্র জয়ীও হন, কিন্তু সর্বত্র বিদ্রোহের কারণে তাঁকে অবিলম্বে পিছু হটতে হয়। সম্রাট জুলিয়ান ৩৬৩ খ্রিস্টাব্দে আক্রমণ করেন এবং যুদ্ধে নিহত হন। ৩০০ বছরের যুদ্ধ। আর রোমের কী হলো? রোমের পতন ঘটল। কিন্তু ইরান, অর্থাৎ সাসানীয় পারস্য সাম্রাজ্য, তখনও স্বমহিমায় টিকে আছে।
তৃতীয়ত, আরব খিলাফত। এ বিষয়টি চমৎকার, কারণ অনেকেই এ পর্বটা ভুলে যান। আরবরা সপ্তম শতাব্দীতে ইরান জয় করে। কিন্তু তারপর কী ঘটে? ইরান আরব বিজয়ীদের আত্মস্থ করে নেয়। পারস্যবাসী ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে ঠিকই, কিন্তু তারা ইসলামের অতীন্দ্রীয়বাদী এক স্বতন্ত্র পারসীয় রূপ দেয়। তারা বিশ্বকে পারস্যের নিজস্ব শিল্পকলা, কাব্য, দর্শন ও বিজ্ঞান উপহার দেয়। আর কয়েক শতাব্দীর মধ্যেই, ইরানি রাজবংশগুলো- বিয়াদ, সালমনিদ, সাফাভিদরা- আবার শাসন ক্ষমতায় ফিরতে শুরু করে।
ইরানকে কখনোই পুরোপুরি অধিকার করা যায়নি। এ জাতি তার বিজয়ীদের আত্মস্থ করে নিয়েছে এবং তাদেরকে ইরানি করে তুলেছে।
চতুর্থত, মোঙ্গলরা। এটি সম্ভবত সবচেয়ে নাটকীয় উদাহরণ। ত্রয়োদশ শতকের মোঙ্গলরা ছিল মানব ইতিহাসের সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক সামরিক শক্তি। তারা বাগদাদ ধ্বংস করে, মধ্য এশিয়াজুড়ে সমৃদ্ধ শহরগুলো ধ্বংস করে; লাখ লাখ মানুষকে হত্যা করে। হ্যাঁ, তারা ইরানও জয় করেছিল। কিন্তু আবারও, কী ঘটল? বিজয়ী মোঙ্গলরাই ইসলাম গ্রহণ করল। পারস্য সংস্কৃতি গ্রহণ করে মনেপ্রাণে পারসিক হয়ে উঠল। ইরান মোঙ্গলদের আত্মসাৎ করে ফেলল।
পঞ্চম, সোভিয়েত ইউনিয়ন। অতি সম্প্রতি, বিংশ শতাব্দীতে, সোভিয়েত ইউনিয়ন দু’বার উত্তর ইরান দখল করে। একবার প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময়, আরেকবার দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে। দু’বারই তাদের বিতাড়িত করা হয়। ১৯৪৬ সালে, স্তালিন উত্তর ইরান থেকে সোভিয়েত সৈন্য প্রত্যাহার করতে অস্বীকার করেন। এটি ছিল ঠাণ্ডা যুদ্ধের প্রথম সংকটগুলোর একটি এবং পারমাণবিক পরাশক্তি সোভিয়েত শেষ পর্যন্ত বিতাড়িত হয়। সুতরাং, এটাই হলো ধারা।
ইরান শুধু একটি দেশ নয়। এটি একটি সভ্যতার শক্তি। ৩,০০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে নিরবচ্ছিন্নভাবে টিকে আছে এ সভ্যতা। এটি বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন অবিচ্ছিন্ন সংস্কৃতির দেশ এবং সমগ্র ইতিহাসজুড়ে, যে সাম্রাজ্যই ইরানকে স্থায়ীভাবে পরাধীন করার চেষ্টা করেছে, তারাই ব্যর্থ হয়েছে। পতিত হয়েছে। কিন্তু ইরান টিকে থেকেছে।
আসুন, আরেকটু গভীরে খতিয়ে দেখি। এ ধারাটি কেন বিদ্যমান? এটা শুধু ভাগ্যের বিষয় নয়; নিছক জিওগ্রাফিও নয়। ইরানের হাতে সাম্রাজ্যগুলোর পরাজয়ের সুনির্দিষ্ট কাঠামোগত কারণ আছে। প্রথম কারণ, কৌশলগত গভীরতা। ইরান একটি বিশাল দেশ। আয়তনে ইরাকের চারগুণ। জনসংখ্যা ৯ কোটি। এর পশ্চিমে জাগ্রোস এবং উত্তরে আলবোরিস পর্বতমালা। এর আছে বিস্তৃত মরুভূমি। সর্বত্রই দুর্গম ভূখণ্ড। নেপোলিয়নের একটি বিখ্যাত উক্তি ছিল, “কখনো মস্কোর দিকে এগিয়ো না।” তিনি এটাও বলতে পারতেন, “কখনো তেহরানের দিকে হাত বাড়িও না।” আমরা বিশ্লেষণ থেকে জানি যে, ইরান দখল করতে হলে ন্যূনতম ৩০ থেকে ৪০ লাখ সৈন্যের প্রয়োজন হবে। সমগ্র সক্রিয় মার্কিন সামরিক বাহিনীতে সৈন্য আছে প্রায় ১৩ লাখ। সুতরাং, হিসাব মেলে না। এমন কোনো পরিস্থিতি হতে পারে না যেখানে ইরানের ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ করার জন্য আমেরিকার কাছে যথেষ্ট সৈন্য থাকবে।
দ্বিতীয় কারণ, উল্টো সামরিক পিরামিড। এ ধারণাটি একটু ব্যাখ্যা করি, কারণ এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একটি সাধারণ সামরিক বাহিনীতে, যাকে আমি বলি ব্যয় পিরামিড, (cost pyramid) থাকে। এর একেবারে নিচের সবচেয়ে বড় দলটিতে থাকে পদাতিক সৈন্যরা। তারা কম ব্যয়সাপেক্ষ, নমনীয়; যেকোনো জায়গায় সরিয়ে নেওয়া সম্ভব। এদের উপরে থাকে সাঁজোয়া যান, অর্থাৎ ট্যাঙ্কবহর। তারও উপরে থাকে নৌ শক্তি এবং একেবারে শীর্ষে থাকে, সবচেয়ে ব্যয়বহুল ও কম নমনীয় বিমান শক্তি।
সাধারণত, যুদ্ধ হলো ক্ষয়কারী। সম্পদ ক্ষয়ের যুদ্ধে জিততে হলে আপনাকে সবচেয়ে সস্তা এবং সবচেয়ে নমনীয় সম্পদ, অর্থাৎ পদাতিক সৈন্যদের ওপরই আপনার কৌশলের ভিত্তি গড়তে হবে। ইতিহাসে প্রতিটি সফল সাম্রাজ্য এভাবেই যুদ্ধ করেছে। কিন্তু আমেরিকার একটি উল্টো পিরামিড রয়েছে। এর ভিত্তিমূলেই আছে বিমান শক্তি। সব কৌশলই বিমান শক্তিকে কেন্দ্র করে তৈরি। আর কেন আমেরিকা এমনটা করেছে? কারণ সামরিক-শিল্প। বিমান শক্তি সবচেয়ে ব্যয়বহুল। বোয়িং, লকহিড মার্টিন, র্যাথন- যারা সবচেয়ে বেশি অর্থ উপার্জন করে। এটিই মূল কারণ। আমেরিকার পুরো সামরিক কৌশল যুদ্ধ জেতার জন্য নয়, বরং ব্যয়বহুল সামরিক সরঞ্জাম বা অস্ত্র ব্যবস্থা (weapon systems) বিক্রির জন্য নির্মিত। একারণেই তার আছে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান, যার প্রতিটির দাম ১০০ মিলিয়ন ডলার; তৈরি করতে লেগেছে ২৬ বছর, আর ইরানিরা একটিকে গুলি করে ভূপাতিত করেছে; আছে জেরাল্ড ফোর্ড বিমানবাহী রণতরী, যার দাম ১৩ বিলিয়ন ডলার এবং পারস্য উপসাগরে পৌঁছানোর ৩ সপ্তাহ পরেই এটিকে সেখান থেকে পালিয়ে যেতে হয়। একারণেই তার আছে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা। শত শত কোটি ডলারের এ ক্ষেপণাস্ত্রের পাশ দিয়ে অবাধে উড়ে যাচ্ছে সস্তা ইরানি ড্রোনগুলো।
আমেরিকান সামরিক বাহিনী যুদ্ধ জেতার জন্য তৈরি নয়। এর উদ্দেশ্য সামরিক-শিল্প কমপ্লেক্সের জন্য মুনাফা অর্জন।
তৃতীয় কারণ, ব্যয়ের অসম বণ্টন। সম্ভবত এটাই আমেরিকার সামনে এ মুহূর্তে সবচেয়ে বিধ্বংসী কৌশলগত বাস্তবতা। এটা ভালোভাবে বুঝে নিন, কারণ এভাবেই ইরান বৃহৎ সাম্রাজ্য ধ্বংস করে। তলোয়ার বা ঘোড়া দিয়ে নয়, বরং গণিত দিয়ে। ভেবে দেখুন, একটি ইরানি ড্রোনের দাম সর্বোচ্চ ৫০ হাজার ডলার। একটি আমেরিকান ইন্টারসেপ্টর মিসাইলের দাম সিস্টেমভেদে ৩০ লাখ থেকে ১ কোটি ডলারের মধ্যে। সুতরাং, প্রতিবার যখন ইরান একটি ড্রোন ছোঁড়ে এবং আমেরিকা সেটা ভূপাতিত করার চেষ্টা করে, তখন আমেরিকা ইরানের চেয়ে কমপক্ষে ৬০ গুণ বেশি অর্থ ব্যয় করে। ৬০ গুণ। কিন্তু ইরান একটি ড্রোন ছোঁড়ে না। এক সাথে শত শত ড্রোন ছোঁড়ে, যা আমেরিকার বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে পরাস্ত করে। আমরা দেখেছি, একটিমাত্র ইরানি ব্যালিস্টিক মিসাইলকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছিল ১১টি ভিন্ন আমেরিকান ইন্টারসেপ্টর। ১১টিই লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। একটি মাত্র মিসাইল থামাতে আমেরিকার কয়েক কোটি ডলারের সামরিক সরঞ্জাম নষ্ট হয়েছে। এখন ইন্টারসেপ্টর শেষ হয়ে যাওয়ার আগেই আমেরিকা তার লক্ষ্য পূরণের জন্য মরিয়া হয়ে দৌড়াচ্ছে। মানব ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনী অস্ত্র শেষ হয়ে যাওয়ার আগে সময়ের সাথে পাল্লা দিচ্ছে। এটাই এ যুদ্ধের বাস্তবতা। প্রসঙ্গত, এটা প্রাচীন পারস্যেরও কৌশল ছিল। সাম্রাজ্যের সাথে সরাসরি যুদ্ধ করা যায় না। ধীরে ধীরে এর শক্তি ক্ষয় করতে হয়। এর সম্পদ নিঃশেষ করে দেওয়া হয়। এর মনোবল ভেঙে দেওয়া হয়। পার্থেশিয়ানরা ৩০০ বছর ধরে রোমের সাথে যা করেছিল, আজ ইরানিরা আমেরিকার সাথে ঠিক সেটাই করছে।
চতুর্থ কারণ, লড়াই করার ইচ্ছা। আর এটাই আমাদের নিয়ে আসে সম্ভবত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত বিষয়ে। সেটি হলো ইচ্ছাশক্তি। আপনারা ইরানি সভ্যতা সম্পর্কে একটি বিষয় বুঝে নিন। এটি শুধু একটি সরকারের যুদ্ধ নয়। এটি এমন এক সভ্যতা যা ৩,০০০ বছর ধরে তার অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই করে আসছে। ইরানি শাস্ত্রতত্ত্বে, তাদের ধর্মীয় উপলব্ধিতে, আমেরিকা ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধটি আক্ষরিক অর্থেই মহা শয়তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ। এটি অস্তিত্বের প্রশ্ন। এটি পবিত্র।
আমরা জানি, যেকোনো যুদ্ধে তিনটি জিনিস প্রয়োজন : ঐক্য, সক্ষমতা এবং সংকল্প। ইরানের এই তিনটিই আছে। আমেরিকার কী অবস্থা? আমরা জানি যে মাত্র ৪০% আমেরিকান নাগরিক এ যুদ্ধ সমর্থন করেন। ট্রাম্প এমন এক কংগ্রেসের কাছে ২০০ বিলিয়ন ডলারের যুদ্ধ বাজেট চাইছেন যা গভীরভাবে বিভক্ত। রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার ভয়ে পেন্টাগন হতাহতের সংখ্যা পর্যন্ত প্রকাশ করতে ভয় পাচ্ছে। আমেরিকান সৈন্যরা মারা যাচ্ছে, আর সরকার সংখ্যা গোপন করছে।
বৈসাদৃশ্য এর চেয়ে বেশি প্রকট হতে পারে না। একদিকে আছে এমন একটি সভ্যতা যারা ২০ বছর ধরে এ যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়েছে, আমেরিকান কৌশল অধ্যয়ন করেছে, ড্রোন কারখানা তৈরি করেছে, মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিটি আমেরিকান ঘাঁটির মানচিত্র তৈরি করেছে। অন্যদিকে আছে এমন একটি প্রশাসন যাদের প্রাথমিক বোমা হামলা ছাড়া আর কোনো পরিকল্পনা ছিল না এবং তারা ধরে নিয়েছিল, ইরান সহজেই আত্মসমর্পণ করবে। ইরান পাল্টা আক্রমণ করবে এটা ছিল তাদের কল্পনার বাইরে। ঠিক এই পর্যায়ের ঔদ্ধত্য ও দাম্ভিকতা আমরা দেখতে পাচ্ছি।
এখন আমরা এমন একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে চাই যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যুদ্ধ শুধু যুদ্ধক্ষেত্রেই হয় না। যুদ্ধ চারটি মাত্রায় সংঘটিত হয়: সামরিক মাত্রা, অর্থনৈতিক মাত্রা, রাজনৈতিক মাত্রা এবং আখ্যান বা বয়ানগত মাত্রা। আর এখানেই মূল বিষয়টি নিহিত। আমেরিকা যেখানে তার সামরিক কৌশলের সাথে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং আখ্যানগত দিকগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের কোশেস করছে, ইরান তখন তার সামরিক কৌশল ব্যবহার করে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং আখ্যানগত দিকগুলোর নিজস্ব রূপ দিচ্ছে। এগুলো সম্পূর্ণ বিপরীতধর্মী পন্থা। আর ইরানের পথটা অনেক বেশি পরিশীলিত। বিষয়টি ব্যাখ্যা করা যাক। আমেরিকার কৌশলটি সহজ। বোমা মেরে ইরানকে বশ্যতা স্বীকারে বাধ্য করা। আত্মসমর্পণে বাধ্য করা, সেখানে একটি মিত্র সরকার প্রতিষ্ঠা করা, তেলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া- ব্যস, এটুকুই। এটাই পুরো পরিকল্পনা। আর এটা সফল করতে আমেরিকার প্রয়োজন অর্থনীতির স্থিতিশীলতা, মিত্রদের আনুগত্য এবং গণমাধ্যমের সমর্থন। কিন্তু আসলে কী ঘটছে? অর্থনীতি বিপর্যস্ত হচ্ছে। তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। বিশ্বের বৃহত্তম সম্পদ ব্যবস্থাপনা সংস্থা ব্ল্যাক রকের প্রধান, যিনি ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন ডলার নিয়ন্ত্রণ করেন, সেই ল্যারি ফ্রিঙ্ক বিবিসিকে বলেছেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখে, তাহলে তেলের দাম বছরের পর বছর ধরে ১৫০ ডলারে অবস্থান করতে পারে। এর অর্থ বিশ্বব্যাপী মন্দা। বিশ্বের বৃহত্তম বিনিয়োগ সংস্থার প্রধান এ যুদ্ধের কারণে মন্দার বিষয়ে বিবিসি-তে সতর্ক করছেন। এটি সামরিক কৌশলকে সমর্থনকারী কোনো স্থিতিশীল অর্থনীতি নয়। এটি এমন একটি অর্থনীতি যা ইরানের সামরিক কৌশলের কাছে জিম্মি হয়ে আছে।
ইরানের কৌশল এখন সম্পূর্ণ ভিন্ন। ইরানের সামরিক পদক্ষেপ একই সাথে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং প্রচারণামূলক লক্ষ্য অর্জনের জন্য পরিকল্পিত। তারা হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণ করে। কিন্তু কৌশলগতভাবে, চীনা জাহাজগুলো অবাধে চলাচল করছে, কারণ চীন হলো ইরানি তেলের প্রধান ক্রেতা। কাতার এবং ওমানের মতো মিত্র দেশগুলোকে সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। এটি কোনো এলোমেলো আগ্রাসন নয়।
এটি এক সুনির্দিষ্ট, পরিকল্পিত ভূ-রাজনৈতিক কৌশল। রাজনৈতিকভাবে, ইরান উপসাগরীয় দেশগুলোকে বিভক্ত করছে। কাতার এবং ওমান আমেরিকার অবস্থান থেকে সরে যাচ্ছে। এমনকি সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত, যারা ইরানে শাসন পরিবর্তন চেয়েছিল, তারাও এখন উদ্বিগ্নভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে, কারণ তাদের পানি সরবরাহ এবং খাদ্য আমদানি হুমকির মুখে পড়েছে। আর প্রচারণার দিক থেকে, ইরান বিশ্ববাসীর সমর্থন পাচ্ছে। বিপুল সংখ্যক আমেরিকান এই যুদ্ধে প্রকাশ্যে ইরানকে সমর্থন করছে।
এ এক অনন্যসাধারণ ঘটনা। আগে কখনো আমেরিকার কোনো যুদ্ধে এমনটা ঘটেনি। আর এতেই স্পষ্ট যে, এ যুদ্ধের প্রচারণার দিকটি কোন দিকে যাচ্ছে।
তাহলে আসুন, এখন আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলো ফেলা যাক। কারণ এই যুদ্ধ শুধু ইরানকে নিয়ে নয়। যুদ্ধটি আমেরিকার বিশ্বশক্তির সমগ্র কাঠামোকে কেন্দ্র করে। আর আমেরিকার বিশ্বশক্তি হওয়ার কেন্দ্রে রয়েছে এমন এক ব্যবস্থা, যাকে বলা হয় ‘পেট্রো-ডলার সিস্টেম।’ এটি যেভাবে কাজ করে তা হলো : ১৯৭৩ সাল থেকে বিশ্বের সমস্ত তেল মার্কিন ডলারে লেনদেন হয়ে আসছে।
এ বিষয়ে আমেরিকা ও সৌদি আরবের মধ্যে একটি চুক্তি হয়েছিল। সৌদিরা শুধু ডলারে তেল বিক্রি করবে এবং আমেরিকা সৌদি শাসনব্যবস্থাকে সুরক্ষা দেবে, কারণ সবারই তেল প্রয়োজন। সবারই ডলার প্রয়োজন। ফলে মার্কিন ডলারের স্থায়ী বৈশ্বিক চাহিদা তৈরি হয়, যা আমেরিকাকে টাকা ছাপাতে, ঘাটতি অব্যাহত রাখতে এবং তার সাম্রাজ্যের অর্থায়নে সক্ষমতা দেয়। পেট্রোডলার ব্যবস্থা ছাড়া আমেরিকা তার সামরিক বাহিনীর খরচ বহন করতে পারে না। সামরিক বাহিনী ছাড়া আমেরিকা তার সাম্রাজ্য টিকিয়ে রাখতে পারে না। কিন্তু, এ যুদ্ধে কী ঘটছে?
হরমুজ প্রণালী, যা এখন ইরান কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে, তা দিয়ে বিশ্বের ২০% তেল সরবরাহ হয়। ইরান বিশ্বকে দেখাচ্ছে যে মধ্যপ্রাচ্যের তেলের প্রবাহ আমেরিকা নয়, বরং তারাই নিয়ন্ত্রণ করে। এটি চলতে থাকলে পেট্রোডলার ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা দুর্বল হবে। উপসাগরীয় দেশগুলো, যারা পেট্রোডলার ব্যবস্থার মূল স্তম্ভ, সরাসরি হুমকির মুখে রয়েছে। আমরা জানি, জিসিসি তার ৯০% খাদ্য আমদানি করে হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে। আমরা জানি, সাগরের লবণাক্ত পানি পরিশোধন কেন্দ্রগুলো, যা জিসিসি-র ৬০% মিঠা পানির জোগান দেয়, তা ৫০ হাজার ডলার মূল্যের ইরানি ড্রোনের কাছে ঝুঁকিপূর্ণ। যদি সেসব কেন্দ্রে হামলা হয়, তাহলে দুই সপ্তাহের মধ্যে কোটি মানুষের শহরে খাবার পানি ফুরিয়ে যাবে। উপসাগরীয় দেশগুলো আতঙ্কিত। আর এ তো নিশ্চিত যে, কোনও আতঙ্কিত উপসাগরীয় দেশ, যে তার নিজের অস্তিত্বের নিশ্চয়তা দিতে পারে না, সে আর আমেরিকান শেয়ার বাজার এবং এআই ডেটা সেন্টারে পেট্রোডলার পুনর্ব্যবহার করতে ইচ্ছুক থাকবে না। যদি সেটি ঘটে তাহলে এ বুদবুদটি ফেটে যাবে। আমেরিকার আর্থিক পঞ্জি স্কিমটি (প্রতারণামূলক আর্থিক ব্যবস্থা, একজনের বিনিয়োগ নিয়ে আরেকজনের অর্থ শোধ দেওয়া) উন্মোচিত হয়ে যাবে।
ইরান এভাবেই সাম্রাজ্য ধ্বংস করে- জয় করার মাধ্যমে নয়, বরং সাম্রাজ্যের আর্থিক কাঠামো ভেতর থেকে ধসিয়ে দিয়ে, সাম্রাজ্যের ব্যয়ভার অসহনীয় করে তোলার মাধ্যমে। এর নজির আমাদের কাছে আছে। সোভিয়েত ইউনিয়ন ঠাণ্ডা যুদ্ধে এ কারণে হারেনি যে, আমেরিকা তাকে সামরিকভাবে পরাজিত করেছিল। বরং এটি হেরেছিল সাম্রাজ্য টিকিয়ে রাখার ব্যয়ভার বহন অসম্ভব হয়ে ওঠায়। আফগানিস্তান তারই অংশ ছিল। ইরান হয়তো আরও অনেক বড় পরিসরে আমেরিকার আফগানিস্তান হয়ে উঠতে পারে।
এখন আমরা এমন এক বিষয়ে কথা বলতে চাই, যা আমাদের মতে, আমেরিকা কেন পরিস্থিতির সাথে খাপ খাওয়াতে পারছে না তা বোঝার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেউ বলতে পারেন, আচ্ছা, পরিস্থিতি যদি এতই খারাপ, তাহলে আমেরিকা কেন সহজভাবে কৌশল পরিবর্তন করছে না? আমেরিকা কেন আলোচনা করছে না? কেন বিকল্প পথ খুঁজছে না? উত্তর হলো, আমেরিকার শাসনের মান ভেঙে পড়েছে। বিষয়টি ভেবে দেখুন। চীন এইমাত্র তাদের ১৫শ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা সম্পন্ন করেছে। এর পেছনে ছিল দু’বছরের আলোচনা, বিশেষজ্ঞ কমিটি, দেশজুড়ে থিঙ্ক ট্যাঙ্ক এবং শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাবিদদের মতামত। সবার অবদান। এটি ১৪০ কোটি মানুষের ভবিষ্যতের জন্য একটি বিস্তারিত, গুরুত্বপূর্ণ এবং ব্যাপক পরিকল্পনা।
আমেরিকার কী আছে? স্টেট অফ দ্য ইউনিয়ন একটি টেলিভিশন শো-তে পরিণত হয়েছে। কোনো কর্ম-পরিকল্পনা নেই। কোনো কৌশলগত পরিকল্পনা নেই, বিশ্লেষণাত্মক কাঠামো নেই। ২০২৫ সালের শুল্ক যুদ্ধ, যা বিশ্ব অর্থনীতিকে বিপর্যস্ত করে, তা চার-পাঁচজন লোক একটি এক পৃষ্ঠার নথি দিয়ে তৈরি করেছিল, যা প্রথম বর্ষের অর্থনীতির কোনও শিক্ষার্থীও করবে না। আর এটিই সে প্রশাসন যারা ইরানে বোমা ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রাথমিক হামলার বাইরে তাদের কোনো পরিকল্পনা ছিল না। এখন, এর সাথে ইরানের তুলনা করুন।
ইরান ২০ বছর ধরে এই যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়েছে। তারা মার্কিন সামরিক বাহিনীকে বিশ্লেষণ করেছে। প্রতিটি মার্কিন ঘাঁটির মানচিত্র তৈরি করেছে। ড্রোন তৈরির কারখানা বানিয়েছে। আমেরিকানদের মনস্তত্ত্ব নিয়ে গবেষণা করেছে। তারা বুঝেছিল, আমেরিকার রাজনৈতিক ইচ্ছাশক্তি ভঙ্গুর। বুঝেছিল, আমেরিকার উৎপাদন সক্ষমতা সীমিত। বুঝেছিল, আমেরিকা অন্য সবকিছুর চেয়ে হতাহতের ঘটনাকে বেশি ভয় পায়। আর ঠিক এ দুর্বলতাগুলোকে কেন্দ্র করেই তারা নিজের কৌশল তৈরি করেছে। এটাই সভ্যতার শক্তির সাথে একটি সাম্রাজ্যের পার্থক্য। সভ্যতাটি প্রতিটি আক্রমণ থেকে শিক্ষা নিয়ে, নিজেদের মানিয়ে নিয়ে ৩,০০০ বছর ধরে টিকে আছে এবং সে সাম্রাজ্যের সাথেও, যা ৮০ বছর ধরে বিশ্বব্যাপী আধিপত্য বিস্তার করার কারণে এখন রণকৌশল নিয়ে গুরুত্ব সহকারে ভাবতেও ভুলে গেছে।
আচ্ছা, এখন আমি এ সবকিছু একসাথে তুলে ধরছি। কারণ আমি আপনাদের কাছে আমার ভবিষ্যদ্বাণীটি কোনো ভবিষ্যদ্বাণী হিসেবে নয়, বরং একটি বিশ্লেষণাত্মক কাঠামো হিসেবে উপস্থাপন করতে চাই। আমি ২০২৪ সাল থেকে তিনটি ভবিষ্যদ্বাণী করেছি। প্রথমত, ট্রাম্প দ্বিতীয়বার নির্বাচনে জিতবেন। সেটা ঘটেছে। দ্বিতীয়ত, আমেরিকা ইরানের সাথে যুদ্ধে জড়াবে। সেটাও ঘটেছে। তৃতীয়ত, আমেরিকা এই যুদ্ধে হেরে যাবে এবং এটি বিশ্বব্যবস্থাকে চিরতরে বদলে দেবে। আমার বিশ্বাস, এখন ঠিক সেটাই ঘটছে।
পরাজয় বলতে কী বোঝাতে চাইছি, তা স্পষ্ট করি। আমি বলছি না যে, ইরান প্রচলিত অর্থে যুদ্ধক্ষেত্রে আমেরিকাকে পরাজিত করবে। ইরান তা করতে পারে না। আমেরিকা এখনও বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক শক্তি। যা বলতে চাই তা হলো, আমেরিকা দেখবে যে এই যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার খরচ - অর্থ, রাজনৈতিক সদিচ্ছা, হতাহতের সংখ্যা, বৈশ্বিক খ্যাতি এবং অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের দিক থেকে অসহনীয় হয়ে উঠবে এবং আমেরিকা মধ্যপ্রাচ্য থেকে পিছু হটতে বাধ্য হবে। আর যখন তা ঘটবে, যখন আমেরিকান সাম্রাজ্য মধ্যপ্রাচ্য থেকে পিছু হটবে, তখন দুটি আঞ্চলিক শক্তি টিকে থাকবে, ইসরায়েল ও ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্য এই দুটি শক্তিকে কেন্দ্র করে পুনর্গঠিত হবে।
এখন, আমি আপনাদের একটি গভীরতর ঐতিহাসিক সত্য জানাতে চাই। প্রতিটি সাম্রাজ্যেরই পতন হয়। এটাই ইতিহাসের শিক্ষা। রোমের পতন হয়েছিল। মোঙ্গল সাম্রাজ্যের পতন হয়েছিল। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের পতন হয়েছিল। সোভিয়েত সাম্রাজ্যের পতন হয়েছিল। কোনো একটি নির্ণায়ক যুদ্ধে সামরিকভাবে পরাজিত হওয়ার কারণে নয়, বরং সাম্রাজ্যের ব্যয়ভার বহন করতে না পারার কারণে। তারা তাদের সক্ষমতার অতিরিক্ত বিস্তার ঘটিয়েছিল। কারণ তাদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, তাদের দুর্নীতি, তাদের উদ্দেশ্যহীনতা, তাদের ঔদ্ধত্য তাদের গ্রাস করেছিল। আমেরিকা এই মুহূর্তে এই সবকিছুরই সম্মুখীন।
এমন এক সামরিক বাহিনী যা যুদ্ধ জেতার চেয়ে মুনাফা অর্জনের জন্যই তৈরি। এমন এক সরকার যা পরবর্তী সংবাদ চক্রের বাইরে পরিকল্পনা করতে পারে না। এমন এক রাজনৈতিক ব্যবস্থা যা এতটাই দুর্নীতিগ্রস্ত যে পেন্টাগনের বাজেট থেকে দুই ট্রিলিয়ন ডলার উধাও হয়ে যায় এবং এর জন্য কাউকে জবাবদিহি করতে হয় না। এমন এক ভঙ্গুর আর্থিক ব্যবস্থা যা উপসাগরীয় দেশগুলোর পেট্রোডলারের ওপর নির্ভরশীল, যা স্টক মার্কেটের বুদবুদে রূপান্তরিত হয়। আর ইরান, প্রাচীন পারস্য, কেবল তাই করছে যা সে সবসময় করে এসেছে। সে অপেক্ষা করছে। সে ধীরে ধীরে সাম্রাজ্যের রক্তক্ষরণ ঘটাচ্ছে। সে ধৈর্য ধরছে কারণ ইরানের হাতে সময় আছে। ইরানের হাতে সবসময়ই সময় ছিল। ইরান তার ওপর আক্রমণকারী প্রতিটি সাম্রাজ্যের মোকাবিলা করে টিকে থেকেছে এবং মার্কিন সাম্রাজ্যের মোকাবিলা করেও টিকে যাবে।
মহান আলেকজান্ডার, রোমান সাম্রাজ্য, দুর্ধর্ষ মোঙ্গল, সোভিয়েত ইউনিয়নের পর এবার আমেরিকার পালা। সাম্রাজ্যের কবরস্থান আফগানিস্তান নয়। সাম্রাজ্যের কবরস্থান হলো, প্রাচীনতম সভ্যতার লীলাভূমি, সবচেয়ে ধৈর্যশীল ইরান।
লেখক : চীনা-কানাডিয়ান ভাষ্যকার, ইউটিউবার।