সরকারের বিভিন্ন পর্যায় থেকে ঝিমিয়ে পড়া সার্ক (সাউথ এশিয়ান এসোসিয়েশন ফল রিজিওন্যাল কো-অপারেশন) কার্যক্রম পুনরুজ্জীবিত করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করা হচ্ছে। বলা হচ্ছে, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সমঝোতা সৃষ্টির মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে সার্ক কার্যক্রম গতিশীল করা যেতে পারে। বিশ্বের বিভিন্ন এলাকায় গঠিত আঞ্চলিক অর্থনৈতিক জোটগুলো সদস্য দেশগুলোর অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের জন্য ভূমিকা রেখে চলেছে। সার্কও ঠিক সেভাবেই এ অঞ্চলের দেশগুলোর অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখতে পারে। উল্লেখ্য,বর্তমান সরকার তার নির্বাচন ম্যানুফেস্টোতে আগামী ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশের জিডিপি’র পরিমাণ এক ট্রিলিয়ান মার্কিন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে পুরো মাত্রায় কাজে লাগাতে হবে। সরকারের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সার্ক বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশের উদ্যোগেই সর্বপ্রথম দক্ষিণ এশিয়ার সন্নিহিত এলাকার দেশগুলোকে নিয়ে একটি অর্থনৈতিক জোট গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।

আশির দশকের শুরুতে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সার্ক গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তিনি এ এলাকার দেশগুলোর সঙ্গে প্রাথমিক যোগাযোগ শুরু করেছিলেন। তার উদ্দেশ্য ছিল দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোকে একটি ফোরামের অধীনে এনে দ্বিপাক্ষিক সমস্যাগুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা এবং দেশগুলোর অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগানো। কিন্তু প্রেসিডেন্ট জিয়া নির্মমভাবে নিহত হলে এ উদ্যোগ কিছুটা হলেও থেমে যায়। পরবর্তীতে এরশাদ আমলে পুনরায় সার্ক গঠনের উদ্যোগ নেয়া হয়। ১৯৮৫ সালের ডিসেম্বর মাসে ঢাকায় অনুষ্ঠিত দক্ষিণ এশিয়ার সাতটি দেশের (বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, ভুটান ও নেপালের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের সম্মেলনে সার্ক গঠন করা হয়। কিন্তু সার্কের প্রথম সম্মেলনে ভারত শর্ত দেয় যে, সার্কে কোন দ্বিপাক্ষিক বিষয় আলোচিত হতে পারবে না। ভারতের দেয়া এ অযৌক্তিক শর্তের কারণে সার্ক কার্যত একটি নিস্ফল প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। এক পর্যায়ে আফগানিস্তান সার্কে যোগদানের ফলে বর্তমানে সার্কের সদস্য সংখ্যা ৮।

সার্ক কাক্সিক্ষত সফলতা অর্জন করতে না পারার পেছনে একটি বড় কারণ হিসেবে কাজ করেছে ভারত ও পাকিস্তানের উপস্থিতি। দ্বন্দমুখর চিরবৈরি এ দু’টি দেশ কোন ব্যাপারেই ঐকমত্যে আসতে পারে না। আর ভারত হচ্ছে এমন একটি দেশ যার সঙ্গে কোন প্রতিবেশি দেশের সুসম্পর্ক নেই। কর্তৃত্ব পরায়ণ এ দেশটি সব সময় প্রতিবেশিদের উপর ছড়ি ঘুরাতে চায়। ভারত এবং পকিস্তানকে সমন্বিত করে যে কোন সংস্থা গঠন করা হোক না কেন তার সফলতার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। অথচ একটি আঞ্চলিক জোট সফল হবার জন্য যেসব উপকরণ প্রয়োজন হয় তার প্রায় সবাই সার্কে রয়েছে। ২০২৪ সালের জনসংখ্যা জরিপের তথ্য মোতাবেক সার্কের মোট জনসংখ্যা হচ্ছে ১শ’ ৯৭ কোটি, যা মোট বিশ্ব জনসংখ্যার ২১ শতাংশ। সার্ক দেশগুলোর সম্মিলিত আয়তন হচ্ছে ২ মিলিয়ন মাইল, যা বিশ্ব আয়তনের ৩ শতাংশ। সার্ক দেশগুলোর মোট জিডিপি’র পরিমাণ ৩ দশমিক ৬৭ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বিশ্ব জিডিপি’র ৪ দশমিক ২১ শতাংশ। সার্ক দেশগুলোর আন্তঃবাণিজ্যের পরিমাণ মাত্র ৫ শতাংশ। অর্থাৎ সার্ক দেশগুলো প্রতি বছর যে বিপুল পরিমাণ পণ্য ও সেবা আমদানি এবং রপ্তানি করে তার মাত্র ৫ শতাংশ নিজেদের মধ্যে সম্পাদন করে। ২০১৮ সালে সার্ক দেশগুলোর আন্তঃবাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ২৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০০৬ সালে সাউথ এশিয়ান প্রেফারেন্সিয়াল ট্রেড এগ্রিমেন্ট (সাপটা) গঠন করা হয়। সাপটা গঠনের উদ্দেশ্য ছিল সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে আন্তঃবাণিজ্য বৃদ্ধির মাধ্যমে অংশিভুক্ত দেশগুলোর অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা। এ লক্ষ্যে শুল্ক অবাধ বাণিজ্য চালু করার পরিকল্পনা থাকলেও তা কার্যকর হয়নি। ভারত বাংলাদেশকে বেশকিছু পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে শুল্কমুক্ত সুবিধা দিয়েছে। কিন্তু এ সুবিধা কার্যত কাগজে কলমেই সীমাবদ্ধ। কারণ ভারত বাংলাদেশী রপ্তানি পণ্যের উপর নানা ধরনের অশুল্ক বাধা সৃষ্টি করে পণ্য রপ্তানির সুযোগ বন্ধ করে দেয়। আজ থেকে ৪১ বছর আগে সার্ক গঠিত হয়েছিল। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ে সার্কের উল্লেখযোগ্য কোন অর্জন নেই। অথচ এ সময়ে অনেকগুলো শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। যে লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশ সার্ক গঠনের উদ্যোগ নিয়েছিল তা কার্যত ব্যর্থতার পর্যবসিত হয়েছে।

১৯৯৭ সালে ভারত, বাংলাদেশ, থাইল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কা সমন্বয়ে একটি বিমসটেক (বে-অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টি সেক্টরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশন) নামে একটি পৃথক অর্থনৈতিক জোট গঠন করা হয়। অনেকেই মনে করেন, মূলত সার্ককে অকার্যকর করার জন্যই এমন একটি জোট গঠনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। কিন্তু এ অর্থনৈতিক জোট তার কার্যকারিতা প্রমাণ করতে পারেনি। যে কোন অর্থনৈতিক জোট গঠন এবং সফল করতে হলে সদস্যভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক মতাদর্শগত মিল থাকতে হয়। রাজনৈতিক মতাদর্শগত ভিন্নতা কখনোই সম্মিলিত সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য অনুকূল নয়। সার্কে যদি ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যে কোন একটি দেশ অন্তর্ভুক্ত থাকতো তাহলে এ জোটের সফলতার সম্ভাবনা বেশি থাকতো। কিছু কিছু দেশ আছে যারা অন্যের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে সম্মান দিতে চায় না। তারা সর্বক্ষেত্রে নিজেদের আধিপত্য প্রদর্শন করতে তৎপর থাকে।

বৃটিশ গভর্নর জেনারেল লর্ড ডালহৌসি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক তৈরির ক্ষেত্রে একটি নীতি অনুসরণ করতেন, যার নাম ছিল ‘অধীনতামূলক মিত্রতা’ নীতি। এ নীতির মূল দর্শণ ছিল তোমার সঙ্গে আমার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকবে তবে তোমাকে আমার অধীনতা স্বীকার করে নিতে হবে। সার্কের মধ্যে কোন কোন দেশের এমন আদর্শিক নীতির কারণে সার্ক কার্যকারিতা হারিয়েছে। অথচ সার্কের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা বিশ্বের যে কোন অর্থনৈতিক জোটের সমতুল্য ছিল। কিন্তু আমরা সে অমিত সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পারিনি। সার্কের আওতায় ভবিষ্যতে এ সম্ভাবনা কাজে লাগানো যাবে তারও কোন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার ভারতের সঙ্গে চোখে চোখ রেখে কথা বলতে পারেনি। ফলে ভারত বাংলাদেশ থেকে এক তরফাভাবে সুবিধা আদায় করে নিয়েছে। গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুৎ এবং ভারতে পালিয়ে যাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একবার প্রসঙ্গক্রমে বলেছিলেন, ভারতকে আমরা যা দিয়েছি তা তাদের সারা জীবন মনে রাখতে হবে। এটা কোন আদর্শবান প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য হতে পারে না। ভারতে যা দিয়েছি তা চিরদিন স্মরণ রাখতে হবে। কিন্তু এর বিপরীতে ভারত বাংলাদেশকে কি দিয়েছে?

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করেছে। এ সরকারের নিকট সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা অনেক বেশি। অতীতে যে সব ভুলভ্রান্তি হয়েছে তা থেকে শিক্ষা নিয়ে এ সরকার জাতীয় অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখবেন এটাই প্রত্যাশিত। নতুন করে সার্ক পুনরুজ্জীবনের বিষয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে বিদ্যমান অবস্থায় সার্ক কখনোই কার্যকর একটি অর্থনৈতিক জোটে পরিণত হবার সম্ভাবনা নেই। কারণ ভারত এবং পাকিস্তানের মতো দ্বন্দমুখর দু’টি দেশ একত্রিত হয়ে কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না। এ অবস্থায় সার্ক পুনরুজ্জীবনের প্রচেষ্টা হবে ব্যর্থ প্রয়াশ মাত্র। কাজেই সার্ক পুনরুজ্জীবনের প্রচেষ্টা বাদ দিয়ে নতুন করে আঞ্চলিক সহযোগিতা ফোরাম গঠনের উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে।

সন্নিহিত এলাকায় অবস্থিত রাজনৈতিকভাবে সমমনোভাবাপন্ন দেশগুলোকে একত্রিত করে নতুন একটি অর্থনৈতিক জোট গঠনের উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে। এক্ষেত্রে চীন, মালয়েশিয়া, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা এবং মালদ্বীপকে সদস্যভুক্ত করে আট সদস্যভুক্ত একটি অর্থনৈতিক জোট গঠনের উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে। বর্ণিত দেশগুলো পরস্পর শ্রদ্ধাশীল এবং বিভিন্ন ইস্যুতে একই মনোভাব প্রদর্শন করে থাকে। এ ধরনের নতুন একটি অর্থনৈতিক জোট গঠন করা হলে তা আশিয়ানের পাশাপাশি একটি শক্তিশালি অর্থনৈতিক জোট হিসেবে তৎপর হতে পারে। প্রস্তাবিত জোটের নেতৃত্বে থাকতে পারে চীন এবং মালয়েশিয়া।

চীন বিশ্ব অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। চীন কয়েক বছর আগে বিশ্ব অর্থনীতিতে দ্বিতীয় শক্তি হিসেবে আবির্ভুত হয়েছে। বিগত ৪৫ বছর ধরে জাপান বিশ্ব অর্থনীতিতে দ্বিতীয় বৃহত্তম শক্তি হিসেবে অবস্থান করছিল। চীন তাদের সে আধিপত্যকে খর্ব করে দ্বিতীয় স্থানে চলে এসেছে। পারচেজিং পাওয়ার প্যারেটি (পিপিপি) বিবেচনায় চীন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকেই অতিক্রম করে গেছে। একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার মতে, চীন যেভাবে বিশ্ব অর্থনীতিতে তার অবস্থান করে নিচ্ছে তাতে ২০৫০ সালের মধ্যে দেশটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে অতিক্রম করে বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রথম স্থানে উঠে আসবে। বিশ্ব অর্থনীতিতে শীর্ষ স্থান হারানোর আশঙ্কাতেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চীনকে কোনঠাসা করে রাখার চেষ্টায় রত রয়েছে।

প্রস্তাবিত নতুন অর্থনৈতিক জোট গঠিত হলে চীনের নিকট থেকে সদস্য দেশগুলো নানাভাবে উপকৃত হতে পারবে। এমনকি মালয়েশিয়ার নিকট থেকেও অভিজ্ঞতা অর্জন করে উন্নয়ন কাজে তা ব্যবহার করতে পারবে। প্রস্তাবিত জোটের প্রথম কাজ হবে সদস্যভুক্ত দেশগুলোর জন্য শুল্কমুক্ত অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য ব্যবস্থা চালুকরণ। জোটের অভ্যন্তরে যদি আন্তঃবাণিজ্য বাড়ানো যায় তাহলে আমাদের মতো দেশগুলোকে পণ্য রপ্তানির জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল হয়ে থাকতে হবে না। পণ্য রপ্তানির পাশাপাশি চীন এবং মালয়েশিয়া থেকে বিনিয়োগ আহরণ করা যাবে। পরবর্তীতে এ জোট ইউরোপীয় ইউনিয়ন, আশিয়ানসহ অন্যান্য অর্থনৈতিক জোটের সঙ্গে সহযোগিতার মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত করতে পারবে। এ ধরনের একটি জোট গঠনের প্রয়োজনীয়তা কেন তা বুঝতে হলে আমাদের মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে কিছুটা আলোচনা করা যেতে পারে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল বাহিনী ইরানের উপর যুদ্ধ চাপিয়ে দেবার ফলে ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ¦ালানি তেল সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে বিশ্বব্যাপী জ¦ালানি তেলের জন্য হাহাকার শুরু হয়েছে।

বাংলাদেশসহ এ অঞ্চলের দেশগুলোতেও জ¦ালানি তেলের সঙ্কট শুরু হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার যদি জ¦ালানি তেলের বৃহৎ মজুত থাকতো তাহলে সহজেই এই সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যেতো। বাংলাদেশ বা ছোট ছোট দেশগুলো ইচ্ছে করলেই নিজস্ব ওয়েল রিজার্ভার তৈরি করতে পারবে না। কিন্তু চীন ইচ্ছে করলেই এ ধরনের একটি ওয়েল রিজার্ভার তৈরি করতে পারে। সঙ্কটকালিন সময় জোটভুক্ত দেশগুলো এ ওয়েল রিজার্ভার থেকে স্বল্পমূল্যে প্রয়োজনীয় জ¦ালানি তেল সংগ্রহ করতে পারতো। একই সঙ্গে খাদ্য ভান্ডার গড়ে তোলা যেতে পারে। মালয়েশিয়ায় ভোজ্য তেলের বিশাল ভান্ডার গড়ে তোলা যায়। অর্থাৎ অর্থনীতির প্রতিটি ক্ষেত্রে পরস্পর সহযোগিতার মাধ্যমে সঙ্কট মোকাবেলা করা যেতে পারে। শুধু অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে নয় প্রয়োজনে জোট পরস্পর সামরিক ক্ষেত্রেও সহযোগিতা করতে পারে।

লেখক : সাবেক ব্যাংকার ও প্রাবন্ধিক।