বিচিত্র পৃথিবী। বৈচিত্র্যময় মানুষের জীবনও। জীবন চলার পথে আমরা যে কত বিচিত্র ঘটনার সাক্ষী হই এর কোনো পরিসংখ্যান কারো কাছেই থাকে না। বস্তুত, মানুষের জীবন সবসময় স্বস্তিদায়ক ও ইতিবাচক হয় না। নানা ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্যেই চলতে হয় মানুষকে; হতে হয় বিচিত্র অভিজ্ঞতা ও নানাবিধ বাধা-প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখিও। এতে যেমন সমৃদ্ধ হয় মানুষের জ্ঞানের পরিধি; তেমনি সঞ্চিত হয় নানাবিধ নেতিবাচক ও ইতিবাচক অভিজ্ঞতা। মূলত, সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, আনন্দ-কোলাহল, আর্তনাদ-আহাজারীর মিশেলেই মানুষের জীবন। এর কোনো ব্যত্যয় বা ব্যতিক্রম সচরাচর দেখা যায় না। দেখা গেলেও তা হয়তো কালেভদ্রে। কিন্তু ব্যতিক্রম কখনো ঐতিহ্য হয়ে ওঠে না।
মূলত, মানুষের জীবন কখনো গতিময়; আবার কখনো ছন্দহীন। সাগরের জোয়ার-ভাটার মত। সকালেই জোয়ার তো বিকেলেই আবার ভাটির টান। জীবনের প্রতিটি আঁকেবাঁকেই এসবের বাস্তব প্রতিফলন লক্ষ্য করা যায়। যা ক্ষেত্র বিশেষে মানুষকে যেমন হৃদ্য করে, আবার কাউকে কাউকে নির্মম বাস্তবতারও মুখোমুখি হতে হয়। এসবই তো বাস্তবতা; এই তো মানুষের জীবন। তেমনি কিছু বাস্তব অভিজ্ঞতায় আমার অনুভূতির কথা লিপিবদ্ধ করবো আজকের নিবন্ধে। যা কখলো বিস্মৃত হতে পারি না; হবার নয়।
যতদূর মনে পরে ৯০-এর দশকের কথা। উপনীত হয়েছি কৈশোরের একেবারে শেষ প্রান্তে। ছিলো অনাগত যৌবনের হাতছানি। কোনো এক জু’মাবারে জয়পুরহাটের কেন্দ্রীয় মসজিদে জু’মার নামাজ আদায় করতে হয়েছিলো। নামাজ শেষে মসজিদের সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামতে লক্ষ্য করলাম সিঁড়ির দু’ধারে সারিবদ্ধ সাহায্য প্রার্থী। জু’মাবারে মসজিদ চত্তরে এমন তো একেবারে চিরচেনা দৃশ্য। মানুষ যাতে সহানুভূতিশীল হয়ে তাদের হাতে কিছু ধরিয়ে দেয় এ জন্য তারা বিভিন্ন কায়দায়; নানা আবেদনময়ী ও বিনয়াবনত উপস্থাপনায় নামাজ ফেরৎ মুসল্লীদের কাছে সাহায্য প্রার্থণা করছেন। আমার সামনেই ছিলেন জয়পুরহাটের তদানীন্তন জেলা প্রশাসক জনাব মীর শাহাবুদ্দীন। তিনি তার অফিস সহায়কের মাধ্যমে প্রত্যেক সাহায্য প্রার্থীকেই নির্দিষ্ট মূল্যমানের নোট বিতরণ করলেন। কিন্তু পৌঁছাতে পারলেন না সবার হাতে। অনেক লোক। নির্ধারিত নোট ও মুদ্রা শেষ হয়ে এলো। অর্থ বিতরণের সমাপ্তিও ঘটলো সেখানেই। কারণ, এতো বিপুল সংখ্যক লোকের কাছে অর্থ পৌঁছানো কোনভাবেই সম্ভব ছিলো না। যারা পেলেন তারা খুশি হলেন। আর যারা পেলেন না তারা তো অখুশি হবারই কথা। কারণ, তারাও রক্তে-মাংসের অনুভূতি সম্পন্ন বনী আদম। ফলে আশাহত হওয়ার বেদনা তাদের মধ্যে লক্ষ্য করলাম।
জেলা প্রশাসক মহোদয়ের এমন মহানুভবতা আমি বেশ উপভোগ করেছিলাম। কারণ, আমাদের দেশের আমলাতন্ত্র সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে একটা নেতিবাচক ধারণা রয়েছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে এমন ধারণার যৌক্তিকতাও একেবারে উপেক্ষা করার মত নয়। কারণ, আমাদের দেশের আমলাতন্ত্র এখনও গণমুখী হয়ে ওঠেনি। যাহোক, এ ঘটনা দেখে আমার মধ্যেও একটা সুকৃতি জাগ্রত হলো। ভাবলাম আমারও যদি জেলা প্রশাসকের মত সামর্র্থ্য্য থাকতো তাহলে আমিও সে সুযোগ গ্রহণ করতাম। সাহায্য প্রার্থীদের এতো পরিমাণ সাহায্য দিতাম যে, তাদের আর কখনো মানুষের কাছে হাত পাততে হতো না। কিন্তু আমার সামর্থ্য নেই বলেই হয়তো এমন মানসিকতা বা অনুভূতির সৃষ্টি হয়েছে। যদি থাকতো তাহলে হয়তো পরিস্থিতি ভিন্নতর হতে পারতো। হয়তো আমার এসব অবাস্তব ও আকাশকুসুম চিন্তা। যাহোক, আমি শিক্ষার্থী; তখনো কৈশোরে বৃত্তে বৃত্তাবদ্ধ ছিলাম। নিজে কোনো উপার্জন করার সুযোগ ছিলো না বরং সবকিছুই ছিলো পরিবার নির্ভর। তাই ইচ্ছা থাকলেও আমার সামর্থ্য একেবারে শূন্যের কোটায়। তাই এমন বাস্তবতা ও সীমাবদ্ধতাকে উপেক্ষা করার কোন সুযোগ ছিলো না আমার পক্ষে।
এরপর আমার নজরে এলো ‘শান্ত’; এক মাঝ বয়সী ‘মা’। একেবারে শান্তশিষ্ট। অপরিচ্ছন্ন বসনা। এলোমেলো চুল। নেই চেহারায় লাবণ্য। তার কোলে পুরনো কাপড়ে জড়ানো দুগ্ধজাত শিশু-সন্তান। বয়স চল্লিশোর্ধ হবে বলে মনে হলো। ডিসি মহোদয়ের বিতরণকৃত টাকা তিনিও পেয়েছিলেন। তাকে বেশ ভারাক্রান্ত ও চেহারার মধ্যে একটা অসহায়ত্বের ছাপ লক্ষ্য করেছিলাম আমি; যা অন্যদের ক্ষেত্রে মনে হয়নি। ভাবলাম অন্য কাউকে কিছু দিতে না পারলেও এ অসহায় মায়ের জন্য সামর্থ্য অনুযায়ী কিছু দেয়া দরকার। অনুগ্রহ নয় বরং একটা দায়বদ্ধতা থেকেই আমার মধ্যে এমন অনুভূতি জাগ্রত হয়েছিলো। যদিও আমার তেমন সামর্থ্য ছিলো না। তারপরও মনের অজান্তেই হাতটা পকেটের দিকেই উঠেছিলো। একটা ছোট নোট ধরিয়ে দিয়েছিলাম আমার বিবেচনায় সে অসহায় ও ভারাক্রান্ত মায়ের হাতে। সে নোটের মূল্যমান ছিলো জেলা প্রশাসকের জনপ্রতি দেয়া মূল্যমানের চেয়ে বেশি। তিনি বিতরণ করেছিলেন অনেক মানুষের কাছে। আমি দিলাম শুধু একজনের হাতে।
এরপর যা হয়েছিলো তা কখনো ভোলা যায় না; বিস্মৃত হওয়ার মত নয়। তিনি আমার দিকে যেভাবে কৃতজ্ঞতার দৃষ্টিতে তাকিয়েছিলেন তা আমাকে আজও আন্দোলিত করে। হয়তো তিনি ভাবতেই পারেন নি একজন কিশোর তার জন্য একাজ করবেন। যতক্ষণ আমি তার দৃষ্টির আওতার মধ্যে ছিলাম ততক্ষণ তিনি আমাদের দিকে অপলকে ও মায়াভরা দৃষ্টিতে তাকিয়ে আমার জন্য আশীর্বাদ করছিলেন। যা আমার জন্য আজও সুখস্মৃতি।
এবার প্রসঙ্গটা পাল্টানো প্রয়োজন মনে করছি। প্রায় আট-বছর আগের কথা। আমি তখন রাজধানীর বাংলা মোটরে অফিস করতাম। বাসা ছিলো রাজধানীর পল্লবীতে। একদিন অফিসে আসার পথে রাস্তায় ‘মণি’ নামে এক সাহায্য প্রার্থীর দেখা পেয়েছিলাম আমি। শেঁওড়া পাড়ার রাস্তায় বাসের জানালা দিয়ে অভিনব কায়দায় সাহায্য প্রার্থনা করছিলেন তিনি। মুখাবয়বে সফেদ দাড়ি, লুঙ্গির ওপরে সাদা সার্ট পড়া এক সত্তরোর্ধ বয়সের ভারে নুব্জ এক বৃদ্ধ। চলাফেরায় বেশ আড়ষ্টতা লক্ষ্য করলাম। ঠিকমত হাঁটতে পারছিলেন না। বেশ কষ্ট করে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়েই হাটছিলেন মণি। সাহায্য প্রার্থীরা স্বাভাবিকভাবেই বিনয়ী হোন। কারণ, তারা তাদের অসহায়ত্ব প্রকাশ ও বিনয়ের মাধ্যমে মানুষের অনুগ্রহ তালাশ করে থাকেন। কিন্তু তারমধ্যে কোন বিনয় লক্ষ্য করা গেলো না বরং বেশ ঔদ্ধত্যভাবই লক্ষ্য করলাম। ভাষাও ছিলো রূঢ়-কর্কশ। যা কোনো সাহায্যপ্রার্থীর জন্য মোটেই কাক্সিক্ষত ও সঙ্গত ছিলো না। আমার দীর্ঘ জীবনে এ ধরনের সাহায্য প্রার্থীর দেখা আর কখনো পাইনি।
তার উপস্থাপনা ও অভিব্যক্তি ছিলো, ‘যাত্রী ভাই-বোনেরা। আপনারা সকলেই আমার কাছে ঋণী। আমি সকলের কাছেই টাকা পাই। কিন্তু সে ঋণ পরিশোধে কারো কোন গরজ নেই। যেহেতু আপনারা দেনাগ্রস্ত। তাই প্রত্যেকেরই উচিত ছিলো আমার বাড়িতে উপস্থিত হয়ে দায় পরিশোধ করা। কিন্তু আপনারা তা করেননি। বাধ্য হয়েই প্রাপ্ত ঋণ আদায়ে আমাকে রাস্তায় নামতে হয়েছে। আপনারা আমাকে আর কষ্ট দেবেন না। এখন সকলেই আমার ঋণ পরিশোধ করে দায়মুক্ত হোন’।
আমি প্রথমে মনে করেছিলেন তার যে ঔদ্ধত্য ও রূঢ় উপস্থাপনায় কেউ তার সাহায্যে এগিয়ে আসবে না বরং অর্ধচন্দ্র নিয়ে অসম্মানজনকভাবে বিদায় করবে। বাস্তবে তা হলো না। কিন্তু সকল জল্পনা-কল্পনা ও অনুমান-আন্দাজের বিপরীতে বিপুল সংখ্যক যাত্রীই স্বতঃস্ফূর্তভাবেই ঋণমুক্ত হওয়ার চেষ্টা করলেন। আমি বিস্ময়ের সাথে তাকাচ্ছিলাম একবার যাত্রীদের দিকে, আরেকবার সে লোকটির দিকে। ইচ্ছার বিরুদ্ধে হলেও আমাকেও সেদিন দায়মুক্তি কার্যক্রমে অংশ নিতে হয়েছিলো। সে পথে আমার আশা-যাওয়া ছিলো প্রায় ৫ বছর। কিন্তু লোকটি আমার চোখে আর কখনো পড়েনি।
একই রাস্তায় আরেক দিনের এক বিরল ঘটনা আজও আমার স্মৃতি থেকে মুছে যায়নি; আর কখনো যাবেও না। ঘটনাটি আগের ঘটনার খুব কাছাকাছি সময়ে হবে। ঘটনাস্থলও শেঁওড়া পাড়াতেই। ফেরি করতে বাসে উঠেছিলো ‘অপু’। এক প্রতিবন্ধী কলম বিক্রেতা। যাকে আমরা সচরাচর ফেরিওয়ালা বলে থাকি। এক পায়ে ভর। অপরটা কেন জানি চিকন হয়ে গেছে। সে পায়ে কোন শক্তি আছে বলে মনে হলো না। এক হাত দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়ার মত বাঁকানো-কোঁকড়াও। অপর হাতটিও স্বাভাবিক নয়। স্বাচ্ছন্দ্যে কিছু ধরার মত শক্তি সে হাতে আছে বলে মনে হলো না। কাধে ঝোলানো কাপড়ের ব্যাগ। ব্যাগের মধ্যে এক ডজন করে বান্ডিল করা কলম। তার উপস্থাপনার মধ্যে নিজের শারীরিক অক্ষমতার প্রসঙ্গটি কোনোভাবেই লক্ষ্য করলাম না। কথা ছিলো শুধু তার পণ্য বিষয়ক। যাত্রীরা হয়তো তার সীমাবদ্ধতা ও অসহায়ত্ব অনুভব করলেন। অনেকেই কলম কিনলেন। কেউ কেউ হয়তো অপ্রয়োজনেও কিনেছেন। কিন্তু বিপত্তি বাধলো অন্য জায়গায়।
একজন সহৃদয় যাত্রী তার কাছে কলম না কিনে এক ডজন কলমের সম পরিমাণ মূল্য তাকে সাহায্য দিতে চাইলেন। এতেই পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে মোড় নিলো। এ কথায় অপুর চোখ থেকে যেন আগুন ঠিকরে পড়তে শুরু করলো। সে ক্ষুদ্ধ হয়ে যাত্রীর এমন প্রস্তাব দৃঢ়তার সাথে প্রত্যাখ্যান করে রূঢ়ভাবে সজোরে বলে উঠলেন, ‘ভিক্ষা দেন কেন, আপনার প্রয়োজন থাকলে কলম কেনেন’।
আমি তার এমন প্রত্যুত্তরে একেবারে হতভম্ব হয়ে গেলাম। একজন প্রতিবন্ধী ফেরিওয়ালার অসাধারণ ব্যক্তিত্ব দেখে বিস্মিত না হয়ে কোন উপায় ছিলো না আমার। কারণ, তিনি যাত্রীর কাছে সাহায্য চাইলেন না বরং ব্যক্তিত্ব ও দৃঢ়তার সাথেই উচ্চারণ করলেন, ‘আপনার প্রয়োজন থাকলে কলম কিনুন’।
এবার আসি অন্য এক প্রসঙ্গে। প্রায় ২ বছর আগের কথা। কোন একদিন আমাকে জরুরি প্রয়োজনে পুরানা পল্টন যেতে হয়েছিলো। সময় হয়েছিলো জোহর নামাজের। নামাজ আদায়ের জন্য জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেইট হয়ে প্রবেশের সময় মসজিদের অভ্যন্তরের ফটকে আমার চোখে পড়েছিলো এক টুপি বিক্রেতা ‘অন্তু’। আপাদমস্তক কালো বোরখায় আবৃত মায়ের কোলে কাপড় মোড়ানো দুগ্ধজাত শিশু। শিশুটির বয়স এক-দেড় মাসের বেশি হওয়ার কথা নয়। কারণ, মাথা সোজা করার মত শক্তি তখনো শিশুটি রপ্ত করতে পারেনি। বোরখাবৃত্ত মাকে দেখে মনে হয়নি তার বয়স ত্রিশ পর্যন্ত পৌঁছেছে। পঁচিশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকার কথা।
‘অন্তু’ জাতীয় মসজিদের অভ্যন্তর ভাগের দরজায় তিনি টুপির পসরা নিয়ে বসেছেন শিশু সন্তানকে কোলে নিয়ে। মুখে বিক্রেতার মত কোন রাখঢাকও নেই। ক্রেতা সংগ্রহের কোন কসরতও দেখলাম না। সামনে একটা কাপড় বিছিয়ে কতগুলো সাদা টুপির পসরা সাজিয়েছেন জীবন সংগ্রামী এই তরুণী মা। যে বয়সে তার পারিবারিক বা স্বামীর তত্ত্বাবধানে আয়েশী জীবনযাপন করার কথা ছিলো। হয়তো স্বপ্নও ছিলো তেমনি। কিন্তু এক অজ্ঞাত কারণে মসজিদের দরজায় তাকে টুপির পসরা নিয়ে বসতে হয়েছে। মনে হয়েছিলো তিনি এক দুর্ভাগা নারী। কিন্তু তার জীবন সংগ্রামের অভিব্যক্তি আমাকে বেশ অভিভূত করেছিলো।
একপা-দু’পা করে এগিয়ে গেলাম অন্তুর কাছে। অবনত দৃষ্টি। হয়তো তার পণ্যগুলোই নিখুঁতভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন তিনি। মুখে কোন সারাশব্দ নেই। আমি সশ্রদ্ধ ও বিনীতভাবে জিজ্ঞেস করলাম, ‘দাম কত’? বিনম্র, শান্ত, প্রত্যয়ী ও দৃঢ়চেতা উত্তর এলো, ‘২০ টাকা’। আমার টুপি কেনার কোন প্রয়োজন না থাকলেও পকেট থেকে একটা ২০ টাকার নোট বের করে একটা টুপি কিনেছিলাম। আর সে টুপিতেই আমি সেদিন বায়তুল মোকাররাম জাতীয় মসজিদের জোহরের নামাজ আদায় করেছিলাম।
ঘটনাটি প্রায় ২ বছর আগের। একজন অসহায় মায়ের কাছে ২০ টাকায় একটা টুপি কিনে আহম্মকের মত বেশ পুলকবোধ ও আত্মতৃপ্তিতেই ভুগছিলাম সেদিন। কারণ, তখন আমার মনে হয়েছিলো একজন অসহায় মানুষকে বড় ধরনের সহযোগিতা করেছি; দেখিয়েছি বড় ধরনের মহানুভবতা। কিন্তু এ ঘটনা প্রায় ২ বছর হয়ে আসলেও নিজের দায়িত্বহীনতার আক্ষেপটা আমাকে প্রতিনিয়তই পীড়া দিচ্ছে। কী কারণে তিনি শিশু-সন্তান নিয়ে মসজিদ অভ্যন্তরে টুপি ফেরি করছেন, তিনি কী স্বামী পরিত্যক্তা, না বিধবা না অন্যকোনো সামাজিক বিভ্রমের শিকার তা জানা হয়ে উঠেনি। অনেকেই আমার মত টুপি কিনলেও তার কাছে হয়তো সে কথা কেউ জানতে চায়নি। আমার এখন মনে হচ্ছে, শুধুমাত্র একটা টুপি কিনে একজন অসহায় মা অন্তুর প্রতি কর্তব্য পালন শেষ করা ঠিক হয়নি। অন্তত আরো একটু কিছু করার সুযোগ ও সামর্থ্য আমার ছিলো। এটিই আমার অন্তুর জন্য আক্ষেপ।
সে পুরানা পল্টন আছে, আছে জাতীয় মসজিদ, রয়েছে দক্ষিণ গেইট; যাওয়া-আসাও আছে আমার। কিন্তু আমার চোখে পড়ে না অসহায় মা অন্তুকে। দিগন্তে তাকিয়ে থাকি। কিন্তু দৃষ্টিটা সে মা পর্যন্ত পৌঁছায় না। জানিনা এখন অন্তু কোথায় কী অবস্থায় আছেন ? এ আক্ষেপটা কোনোদিনই শেষ হবার নয়।
(ভিকটিমদের নাম প্রতীকি)
www.syedmasud.com