গত ১৪ মার্চ শনিবার সন্ধ্যায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের বইমেলা প্রাঙ্গণে কবি শাহীন সৈকতের “জলের শব্দে তোমার ঘ্রাণ” কাব্যগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ, গবেষক, লেখক ও কবি ড. মাহফুজুর রহমান আখন্দ, পাবনা ক্যাডেট কলেজের বাংলা সাহিত্যের অধ্যাপক, গবেষক ও বাচিক শিল্পী কবি নির্ঝর আহমেদ প্লাবন, টইটই প্রকাশন এর কর্ণধার কবি সাহেদ বিপ্লব এবং লেখক হুসনা তাসনিমা আনজুম।

মাহফুজুর রহমান আখন্দ বলেন কবি শাহীন সৈকত তার কাব্যগ্রন্থের নাম নির্ধারণে যে মুন্সিয়ানার পরিচয় দিয়েছেন তাতে আমরা তার কাব্য প্রতিভার প্রমাণ পাই, তার কবিতার স্বাদের ভিন্নতা পাঠককে চুম্বকের মতো টানবে। তিনি শব্দের প্রয়োগে সাবধানে কলম চালিয়েছেন। কবি নির্ঝর আহমেদ প্লাবন বলেন, শাহীন সৈকত ৯০ এর দশকে বেড়ে ওঠা কবি, নব্বই এর কবিরা দাবি করেন তারা বাংলা সাহিত্যে যাদু বাস্তবতাকে বাঙময় করে তুলেছেন। সেই হিসেবে আমরা দেখতে পাই কবি শাহীন সৈকত তার কাব্যগ্রন্থের নামের মধ্যেও একধরনের যাদু রেখেছেন, পাঠককে নাম দিয়েই ঘোরের মধ্যে টেনে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন, তার কবিতা থেকে কবিতায় পরিভ্রমণের ক্ষেত্রেও পাঠক একধরনের ঘোরের মধ্যে দিয়ে যাত্রা করবেন বলে মনে করি। তিনি তার লেখনীতে চরমসুন্দর আর পরমসুন্দরের মেলবন্ধনের চেষ্টা করেছেন এর মধ্য দিয়ে কবি অস্তিত্ববাদী দর্শনের প্রকাশ ঘটিয়েছেন। জলের মধ্যদিয়ে তিনি স্রষ্টার অস্তিত্ব খূঁজেছেন। ভালবাসা অনুকম্পা আর দ্রোহের মিশেল এই কাব্যগ্রন্থ। কবি সাহেদ বিপ্লব বলেন, এমন একটা কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ করতে পারার আনন্দ আমার অনেক বেশি, আমি যখন প্রথম পান্ডুলিপি হাতে পাই তখনই মনে হয়েছে এই গ্রন্থ আরও আগে প্রকাশ হওয়া দরকার ছিল। কবি শাহীন সৈকত তার অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, প্রণয় এবং পরিণয়ের বহু বছর পর একটা শিশুর জন্ম হলে ওই শিশুর প্রতি মায়া ভালবাসা যেমন বেশি থাকে ঠিক তেমনই কবিতার সাথে আমার প্রণয় এবং পরিণতি বহুদিনের হলেও কাব্যগ্রন্থ এই প্রথম তাই আমার ভাললাগা, ভালোবাসা আর উচ্ছ্বাস এই কাব্যগ্রন্থকে ঘিরে অনেক বেশি। আশাকরি পাঠক সেই আনন্দ থেকে বঞ্চিত হবে না।

-আহমাদ জুনাইদ