আম আদমি পার্টির জাতীয় আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়াল (Arvind Kejriwal) সরাসরি অভিযোগ করেছেন, ভারতীয় জনতা পার্টি দেশের গণতন্ত্রকে হাইজ্যাক করে ধ্বংস করে দিয়েছে। পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত সিং মানের উপস্থিতিতে কাপুরথালা হাউসে দলের বিধায়কদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, "যেভাবে বিজেপি গণতন্ত্রকে হাইজ্যাক এবং হত্যা করেছে... দেশজুড়ে আজ এক বড় সংকট তৈরি হয়েছে।"

অরবিন্দ কেজরিওয়াল বলেন, নির্বাচনে জিতলেও বিজেপির কাছে তার কোনো মূল্য নেই, কারণ তারা ইডি, সিবিআই-এর মতো এজেন্সি, অর্থশক্তি, বিধায়ক কেনাবেচা, দল ভাঙানো, সরকার ফেলে দেওয়া এবং নেতাদের জেলে পাঠানোর মাধ্যমে গণতন্ত্রকে শেষ করছে। তাঁর ভাষায়, "তারা ভোট কাটে, ভোট যোগ করে। পশ্চিমবঙ্গে যা হয়েছে, তা নির্বাচন ছিল না। একই কাজ হয়েছে বিহার, মহারাষ্ট্রে।"

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, যে গণতন্ত্রের জন্য ভগৎ সিং, সুভাষচন্দ্র বসুর মতো শহিদরা প্রাণ দিয়েছিলেন, আজ সেই গণতন্ত্রই হুমকির মুখে।

দিল্লির উদাহরণ: ৪২ হাজার ভোট উধাও

নিজের পরাজয়ের প্রসঙ্গ টেনে Arvind Kejriwal জানান, জেলে যাওয়ার আগে নয়াদিল্লি বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটার ছিল ১ লাখ ৪৮ হাজার, ফিরে এসে দেখেন ১ লাখ ৬ হাজার। ছয় মাসে ৪২ হাজার ভোট কেটে দেওয়া হয়েছে। আগেরবার তিনি ৩০ হাজার ভোটে জিতেছিলেন, এবার ৪২ হাজার ভোট বাদ পড়ায় ৩ হাজার ভোটে হেরে যান।

"সব ভোট কেটে দিলে আপনি জিতবেন কীভাবে? সারা দেশে এই বিশৃঙ্খলাই চলছে। আজ গণতন্ত্র সংকটে," তিনি বলেন।

পশ্চিমবঙ্গ-আসামে বিজেপির জয়কে 'গণতন্ত্র হত্যা'

কেজরিওয়াল পশ্চিমবঙ্গ ও আসামের সাম্প্রতিক ফলাফলকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন। বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে ২০৬টি আসন পেয়ে ঐতিহাসিক জয় পেয়েছে, যেখানে তৃণমূল ৮০ আসনে নেমে এসেছে। আসামে বিজেপি একাই দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। তিনি বলেন, এই জয় জনমতের প্রতিফলন নয়, বরং ভোটার তালিকা কারচুপির ফল।

পাঞ্জাবই থামাবে 'অশ্বমেধের ঘোড়া'

বক্তব্যে রামায়ণের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)-র জয়ের ধারা ছিল অশ্বমেধের ঘোড়ার মতো, যা দিল্লির মানুষ ২০১৫ সালে থামিয়েছিল। এখন আবার সেই ঘোড়া আসাম, বাংলা, বিহার, মহারাষ্ট্র, দিল্লি জয় করে এগোচ্ছে।

"আগামী ফেব্রুয়ারিতে পাঞ্জাব নির্বাচনে এই অশ্বমেধের ঘোড়া থামবে, এবং পাঞ্জাব নির্বাচনের পর মোদি সরকারের পতন হবে। মোদি সরকারের শেষ পাঞ্জাবের হাত ধরেই আসবে," তিনি ঘোষণা করেন।

তিনি বিধায়কদের সতর্ক করে বলেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে পাঞ্জাবের পানি হরিয়ানাকে দেবে, ভাকরা বাঁধ হরিয়ানাকে দেবে, চণ্ডীগড় হরিয়ানাকে দেবে, পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয় হস্তান্তর করবে এবং তিনটি কালো কৃষি আইন আবার চাপিয়ে দেবে। "বিজেপি পাঞ্জাবকে ঘৃণা করে। তারা রাজ্যটাকে ধ্বংস করে দেবে," তাঁর হুঁশিয়ারি।