যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় বাংলাদেশি দুই পিএইচডি শিক্ষার্থী হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। তদন্তকারীরা শিক্ষার্থীদের নিখোঁজ হওয়া থেকে শুরু করে হত্যাকাণ্ড পর্যন্ত বেশ কিছু ভয়াবহ ও চাঞ্চল্যকর তথ্য তুলে ধরেছেন।

মার্কিন গণমাধ্যমগুলোতে উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী, গত ১৬ এপ্রিল নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে যে রহস্যের দানা বেঁধেছিল, লিমনের মরদেহ উদ্ধার এবং তার রুমমেট হিশাম আবুঘারবিয়েহকে গ্রেপ্তারের পর সেই ঘটনার নেপথ্যের লোমহর্ষক তথ্যগুলো সামনে আসছে। আদালতের নথিপত্র এবং পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এই হত্যাকাণ্ড ছিল অত্যন্ত নৃশংস এবং পরিকল্পিত।

তদন্তকারীরা জানান, গত ১৬ এপ্রিল সকালে লিমনকে তার বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের কাছের বাসায় এবং বৃষ্টিকে ক্যাম্পাসের একটি ভবনে শেষবারের মতো দেখা গিয়েছিল।

এরপর ১৭ এপ্রিল তাদের নিখোঁজ হওয়ার খবর সামনে আসলে তদন্ত শুরু করে হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়। গত শুক্রবার টাম্পার হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড সেতু থেকে লিমনের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে লিমনের শরীরে ধারালো অস্ত্রের মাধ্যমে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে, যা থেকে স্পষ্ট হয় যে তাকে অত্যন্ত নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে।

হিলসবরো কাউন্টি আদালতের নথিতে প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, লিমনের রুমমেট হিশামই এই দ্বৈত হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা। তদন্তকারীরা লিমনের অ্যাপার্টমেন্টে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ রক্তের চিহ্ন খুঁজে পেয়েছেন। পুলিশের ধারণা, লিমনকে হত্যার পর বৃষ্টিকেও একই স্থানে বা একইভাবে হত্যা করা হয়েছে, যদিও বৃষ্টির মরদেহ এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে এ ঘটনায় লিমন ও বৃষ্টির ‘ফ্ল্যাট মেট’ হিশাম আবুঘরবেহকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে পূর্বপরিকল্পিতভাবে অস্ত্র ব্যবহার করে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) হিশাম আবুঘরবেহকে জামিন না দিয়ে কারাগারে আটক রাখার নির্দেশ দিয়েছেন ফ্লোরিডার আদালত। তার বিরুদ্ধে অস্ত্রসহ পূর্বপরিকল্পিত দুটি হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।

নিহত জামিল লিমন ও নাহিদা বৃষ্টি কেবল সহপাঠীই ছিলেন না, তাদের মধ্যে দীর্ঘদিনের গভীর সম্পর্ক ছিল। লিমনের ভাই জুবায়ের আহমেদ জানান, তারা বিয়ের কথা ভাবছিলেন এবং গ্রীষ্মের ছুটিতে বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনাও ছিল তাদের। লিমন ফল ২০২৪ সেমিস্টার থেকে পরিবেশ বিজ্ঞানে গবেষণা করছিলেন এবং বৃষ্টি ছিলেন কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের শিক্ষার্থী। মেধাবী এই দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা বাংলাদেশি শিক্ষার্থী সমাজ এবং তাদের দেশের বাড়িতে।