ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, তেহরান যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বাস করতে পারে না। কারণ, তারা দুইবার আলোচনায় বসেছে এবং প্রত্যেকবারই আলোচনা চলাকালীন ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক আগ্রাসন চালিয়েছে; যা আলোচনার নামে ‘পিছন থেকে ছুরিকাঘাতের’ মতই। তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, হরমুজ প্রণালী নিয়ে যে কোন আলোচনার পূর্বে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক আরোপিত নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করতে হবে।

প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান তার ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সাথে এক ফোনালাপের সময় এ কথা বলেন বলে ইরানের প্রেসিডেন্ট কার্যালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়।

অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের কাছে ''ইরানের সঙ্গে তাঁর “খুব ভালো আলোচনা” হয়েছে এবং “একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনা খুব বেশি” বলে দাবি করলেও ইরানের সংবাদ সংস্থা আইএসএনএ-র বরাত দিয়ে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, যুদ্ধ শেষ করার মার্কিন প্রস্তাবটি এখনও “পর্যালোচনাধীন” রয়েছে এবং তেহরান “তাদের মতামত চূড়ান্ত করার পর” মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানকে তাদের জবাব জানাবে।

প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান তার ফরাসি প্রতিপক্ষ এমানুয়েল ম্যাক্রোঁকে বলেছেন যে, ওয়াশিংটনের আচরণ “কূটনীতির পথকে হুমকি, চাপ এবং নিষেধাজ্ঞার দিকে ঘুরিয়ে দিয়েছে।”

পেজেশকিয়ান বলেন, যেকোনো কার্যকর আলোচনার জন্য যুদ্ধের অবসান এবং ইরানের বিরুদ্ধে কোনো প্রতিকূল পদক্ষেপের পুনরাবৃত্তি না হওয়ার নিশ্চয়তা প্রয়োজন।

তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিরুদ্ধে ইরানের সামরিক পদক্ষেপের কথাও অস্বীকার করেন এবং বলেন যে, কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হলে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী তাদের অবস্থান স্পষ্টভাবে ঘোষণা করে।

হরমুজ প্রণালী খুলে দেয়া প্রসঙ্গে পেজেশকিয়ান বলেন, ইরান দীর্ঘদিন ধরে এই জলপথের নিরাপত্তার রক্ষক হিসেবে কাজ করে আসছে, কিন্তু নৌ অবরোধসহ মার্কিন কর্মকাণ্ড স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত করেছে।

তিনি বলেন, “হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণরূপে পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে যেকোনো আলোচনার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক আরোপিত নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করতে হবে।

বিবৃতি অনুসারে, ম্যাক্রোঁ যুদ্ধবিরতি কাঠামোর প্রতি প্যারিসের সমর্থন ব্যক্ত করেছেন এবং স্বীকার করেন যে মার্কিন নৌ অবরোধ ও লেবাননের ওপর ইসরায়েলি হামলা যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের শামিল। তিনি আরও বলেন যে, ফ্রান্স আলোচনাকে এগিয়ে নিতে এবং তেহরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে প্রস্তুত।