মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া সর্বশেষ শান্তি প্রস্তাবের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। রোববার (১০ মে) ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ইরনা (IRNA) নিশ্চিত করেছে যে, পাকিস্তানের কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে এই জবাব পাঠানো হয়েছে। এই আলোচনার প্রাথমিক ও প্রধান লক্ষ্য হলো অঞ্চলে চলমান শত্রুতা বন্ধ করা এবং একটি টেকসই শান্তি কাঠামো তৈরি করা।
ইসলামাবাদে নিয়োজিত আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, পাকিস্তান সরকার ইতিমধ্যে ইরানের বার্তাটি গ্রহণ করেছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এই প্রতিক্রিয়াটি দ্রুততম সময়ের মধ্যে ওয়াশিংটনের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। মূলত দুই দেশের মধ্যে সরাসরি কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকায় পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে এই মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে আসছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই শান্তি প্রস্তাবটি মূলত দুই ধাপে সাজানো হয়েছে। প্রথম ধাপে উভয় পক্ষ সব ধরনের সামরিক তৎপরতা এবং হামলা বন্ধে সম্মত হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর দ্বিতীয় ধাপে আরও জটিল ও কৌশলগত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হবে। এর মধ্যে রয়েছে:
হরমুজ প্রণালী: বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটি পুনরায় উন্মুক্ত করা।
পারমাণবিক কর্মসূচি: ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সময়সীমা নির্ধারণ। যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ২০-২৫ বছরের সীমাবদ্ধতা চাইছে, সেখানে ইরান তা ৩-৫ বছরে সীমাবদ্ধ রাখার পক্ষে।
অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা:ইরানের ওপর আরোপিত কঠোর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং বিদেশে জব্দকৃত ইরানি অর্থ ফেরত দেওয়া।
উল্লেখ্য যে, ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসের শুরুর দিকে পাকিস্তানের সক্রিয় মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল। তবে সেই সময় উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে অস্ত্রবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলে। বিশেষ করে লেবানন ও সিরিয়া সীমান্তে ইসরায়েলি কর্মকাণ্ড এবং ইরানের পাল্টা হুমকি এই প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করেছিল। এবারের প্রস্তাবটি সেই পূর্ববর্তী তিক্ততা কাটিয়ে নতুন করে কূটনীতিকে সচল করার একটি চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রশাসন থেকেও ইতিবাচক সংকেত পাওয়া গেছে, যদিও ওয়াশিংটন এখনও ইরানের সর্বশেষ জবাব নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি।