এপি, আল-জাজিরা : ইউক্রেন ও সিরিয়া নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান বনাম যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে কিয়েভ এই অঞ্চলে নিজেদের সামরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের প্রস্তাব দেওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে এই সমঝোতা হলো। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম এ খবর জানিয়েছে।

২০২৪ সালে বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর প্রথমবারের মতো দামেস্ক সফরে গিয়ে রবিবার সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার সঙ্গে বৈঠক করেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।

বৈঠক শেষে টেলিগ্রামে জেলেনস্কি লিখেছেন, দুই দেশের সমাজের নিরাপত্তা ও উন্নয়নের সুযোগ সৃষ্টিতে দুই নেতা একযোগে কাজ করতে সম্মত হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘সামরিক ও নিরাপত্তা বিষয়ক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ক্ষেত্রে আমাদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে।’

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান ও তার মিত্র গোষ্ঠীগুলো বিভিন্ন ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়ে আসছে। রাশিয়ার সঙ্গে চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধে ড্রোন হামলা মোকাবিলায় বিশেষ দক্ষতা অর্জন করেছে ইউক্রেন। জেলেনস্কি এই অঞ্চলের দেশগুলো সফরের সময় সেই দক্ষতা বিনিময়ের প্রস্তাব দিচ্ছেন। ইতোমধ্যে কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে বিশেষজ্ঞ দল পাঠিয়েছে কিয়েভ।

গত সপ্তাহে উপসাগরীয় দেশগুলো সফরের সময় সৌদি আরব ও কাতারের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক সহযোগিতা চুক্তি সই করেছেন জেলেনস্কি। বর্তমানে সিরিয়ার কাছে ইরানি ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলা করার মতো কোনও কার্যকর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নেই।

নিরাপত্তার পাশাপাশি খাদ্য নিরাপত্তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে দুই নেতার মধ্যে। জেলেনস্কি প্রেসিডেন্ট শারাকে আশ্বস্ত করেছেন যে, কিয়েভ একটি নির্ভরযোগ্য শস্য সরবরাহকারী দেশ। এ সময় তারা এই অঞ্চলে খাদ্য নিরাপত্তা শক্তিশালী করার যৌথ সুযোগগুলো নিয়েও আলোচনা করেন।

তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ জানিয়েছে, রবিবার দামেস্কে জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করেছেন তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। সেখানে সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ আল-শাইবানি এবং ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রেই সিবিহাও উপস্থিত ছিলেন।

দামেস্ক সফরের এক দিন আগে জেলেনস্কি তুরস্ক সফর করেন। সেখানে প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ানের সঙ্গে তার বৈঠকে নিরাপত্তা সহযোগিতার ক্ষেত্রে নতুন পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে একমত হন দুই নেতা। এ ছাড়া যৌথ গ্যাস অবকাঠামো প্রকল্প এবং গ্যাসক্ষেত্র উন্নয়নের বিষয়েও তাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।