রয়টার্স : সৌদি আরবের তেল স্থাপনায় হামলার ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে তথ্য প্রকাশ এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ থাকায় গতকাল শুক্রবার বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়েছে।
তবে এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি এবং লেবাননের সঙ্গে ইসরাইলের সরাসরি আলোচনার ইঙ্গিতে তেলের দাম গত সপ্তাহের তুলনায় কিছুটা কমেছে। লেনদেনের শুরুতে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৫৮ সেন্ট (০ দশমিক ৬০ শতাংশ) বেড়ে ৯৬ দশমিক ৫০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৪৯ সেন্ট (০ দশমিক ৫০ শতাংশ) বেড়ে ৯৮ দশমিক ৩৬ ডলারে পৌঁছেছে।
সব মিলিয়ে চলতি সপ্তাহে তেলের দাম ১১ শতাংশ কমেছে, যা ২০২৫ সালের জুনের পর এক সপ্তাহে সর্বোচ্চ দরপতন।সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এসপিএ জানিয়েছে, দেশটির তেল স্থাপনায় হামলায় প্রতিদিন প্রায় ৬ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এ ছাড়া ‘ইস্ট-ওয়েস্ট’ পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল সরবরাহ দৈনিক ৭ লাখ ব্যারেল কমেছে। এ খবরের পর বাজারে তেল সরবরাহে আরও বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। গত মঙ্গলবার পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও সংঘাত পুরোপুরি থামেনি।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বাজারে উদ্বেগ কাটবে না। গতকাল বৃহস্পতিবার এই পথ দিয়ে স্বাভাবিকের চেয়ে ১০ শতাংশ কম জাহাজ চলাচল করেছে। ইরান দাবি করেছে, এ পথ দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে তাদের জলসীমার নিয়ম মেনে চলতে হবে। এমনকি শান্তি চুক্তির অংশ হিসেবে জাহাজ চলাচলে ফি বা মাশুল আদায়ের প্রস্তাবও দিয়েছে তেহরান, যদিও পশ্চিমা দেশগুলো ও জাতিসংঘ এর বিরোধিতা করছে। জ্বালানি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ‘স্ট্রাটাস অ্যাডভাইজরস’-এর প্রেসিডেন্ট জন পাইসি জানান, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহ বর্তমানের মতো স্থবির থাকলে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৯০ ডলারে গিয়ে ঠেকতে পারে। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরাইল–যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় ৫০টি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেপি মরগানের তথ্যমতে, এর ফলে দৈনিক ২৪ লাখ ব্যারেল তেল পরিশোধন ক্ষমতা নষ্ট হয়েছে।