আল জাজিরা : তুরিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের অধ্যাপক লরেঞ্জো কামেল মনে করেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের যেসব দেশগুলোতে মার্কিন বাহিনী অবস্থান করছে, তাদের মাধ্যমে ‘সামরিকীকৃত স্থিতিশীলতার আউটসোর্সিং’ (নিরাপত্তার জন্য বাইরের দেশের ওপর নির্ভরতা) ওই অঞ্চলের একটি অন্যতম সমস্যা, যা সমাধান করা জরুরি।’ গতকাল মঙ্গলবার কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল-জাজিরাকে কামেল বলেন, ‘ইতিহাস যদি আমাদের কিছু শিখিয়ে থাকে, তবে তা হলো-বহিরাগত দেশগুলোর ওপর নিরাপত্তার দায়িত্ব ছেড়ে দিলে তা কখনোই স্থায়ী শান্তি বয়ে আনবে না...আমরা এই অঞ্চলে প্রকৃত শান্তি দেখতে চাই, কোনো সশস্ত্র স্থিতিশীলতা নয়।’ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার শান্তি আলোচনার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘যতক্ষণ পর্যন্ত সব পক্ষ স্পষ্টভাবে এটি বুঝতে না পারবে যে, একটি রাজনৈতিক সমস্যার কোনো সামরিক সমাধান নেই, ততক্ষণ এই আলোচনা কোনো ইতিবাচক ফলাফল বয়ে আনবে না।’ তিনি উল্লেখ করেন, গত কয়েকশ’ বছর ধরে পশ্চিমা দেশগুলো মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের ‘নিয়ন্ত্রণ’ বজায় রাখার জন্য তাদের জন্য ‘উপযোগী শাসনব্যবস্থাগুলোকে’ সমর্থন দিয়ে টিকিয়ে রেখেছে। কামেল আরও যোগ করেন, ‘এটি একটি কাঠামোগত সমস্যা। যতক্ষণ পর্যন্ত এই সমস্যার সমাধান না হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত যেকোনো আলোচনা কেবল উপরিভাগেই সীমাবদ্ধ থাকবে (মূলে পৌঁছাতে পারবে না)।’ উল্লেখ্য-যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির মধ্যেই সংযুক্ত আরব আমিরাতের ওপর হামলা ঘটেছে। এতে উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে যুদ্ধের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।