এপি, তাসনিম নিউজক
ইসলামাবাদে মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদের সংলাপ ব্যর্থ হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাাম্পের নির্দেশে হরমুজ প্রণালি, পারস্য উপসাগর ও ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ জারি করে মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকোম)। এ অবরোধের উদ্দেশ্য ছিল ইরানকে তেল রপ্তানি থেকে বিরত রাখা। তবে যে উদ্দেশ্যে এই অবরোধ জারি করেছিল যুক্তরাষ্ট্র, সেটি পূরণ হচ্ছে কি না তা নিয়ে ইতোমধ্যে সংশয় দেখা দিয়েছে। কারণ যুক্তরাজ্যভিত্তিক অ্যানালিটিক্স সংস্থা ভোরটেক্সা জানিয়েছে, অবরোধের ১০ দিনে প্রায় ১০ লাখ ৭০ হাজার ব্যারেল তেল পারস্য উপসাগর দিয়ে দেশের বাইরে পাঠিয়েছে ইরান।
ভোরটেক্সার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলমান মার্কিন অবরোধের মধ্যেই পারস্য উপসাগর দিয়ে নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত এবং ইরানের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত ট্যাংকার জাহাজগুলোর ৩৪টি চলাচলের রেকর্ড রয়েছে তাদের কাছে। যার মধ্যে ১৯টি ছিল বহির্গামী এবং ১৫টি ছিল আগমনী যাত্রা। এই ১৯টি বহির্গামী যাত্রার মধ্যে অন্তত ৬টি তেলবোঝাই যাত্রা ছিল বলে জানিয়েছে ভোরটেক্সা।
এসব বহির্গামী যাত্রাতেই এই ১০ লাখ ৭০ হাজার ব্যারেল তেলের চালান ইরান দেশের বাইরে পাঠিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এই চালানের তেলগুলো বিক্রি করা হয়েছে কি-না কিংবা বিক্রি করলেও এই তেলের ক্রেতা কারা সে সম্পর্কিত কোনো তথ্য জানা যায়নি।
গতকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় স্কট বেসেন্ট বলেছিলেন, মার্কিন অবরোধ চলাকালে কোনো দেশের বিরুদ্ধে যদি ইরানের তেল ক্রয়ের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে সেই দেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হবে। এদিকে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে আরোপ করা টোলের প্রথম অর্থ পেয়েছে ইরান। দেশটির পার্লামেন্টের উপ-স্পিকার জানিয়েছেন, টোল থেকে নেওয়া অর্থ তাদের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে ঢুকেছে। উপ-স্পিকার হামিদরেজা হাজিবাবেই বলেছেন, “হরমুজ থেকে পাওয়া টোলের প্রথম অর্থ ইরানের সেন্ট্রাল ব্যাংকে ঢুকেছে।”
যুক্তরাষ্ট্র নৌ-অবরোধ না তুললে হরমুজ খোলা সম্ভব নয় : ঘালিবাফ ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার এবং দেশটির অন্যতম মুখপাত্র মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ বলেছেন, ইরানের বন্দরগুলো থেকে যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ তুলে না নিলে হরমুজ প্রণালি সবার জন্য উন্মুক্ত করা সম্ভব নয় তেহরানের পক্ষে। গতকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এ তথ্য জানিয়েছেন তিনি। ইরানের নৌ-বন্দরগুলোতে জারি থাকা মার্কিন অবরোধকে ‘চলমান যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন’ উল্লেখ করে এক্সবার্তায় ঘালিবাফ বলেছেন, “একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি কেবল তখনই অর্থপূর্ণ হয়ে উঠবে যখন নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া হবে এবং আন্তর্জাতিক অর্থনীতিকে জিম্মি করার মতো কোনো ঘটনা ঘটার আশঙ্কা শূণ্যে নেমে আসবে।
সেই সঙ্গে একটি সফল ও কার্যকর যুদ্ধবিরতির আরেকটি শর্ত হলো রণাঙ্গণের সব এলাকায় ইহুদিবাদীদের যুদ্ধবাজি বন্ধ করা।” “যুদ্ধবিরতির এমন খোলাখুলি লঙ্ঘন যদি একটি পক্ষ করেই যেতে থাকে, তাহলে হরমুজ প্রণালির পুনরায় উন্মুক্ত হওয়া সম্ভব নয়।” “সামরিক আগ্রাসনের মাধ্যমে তারা যে লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি, ভয়ভীতি দেখিয়েও তা পারবেনা।”