ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনীকে (বিএসএফ) এক হাজার একরের বেশি জমি হস্তান্তর করেছে পশ্চিমবঙ্গের শুভেন্দু অধিকারী নেতৃত্বাধীন সরকার। ক্ষমতায় আসার ৬৫ দিনের মধ্যেই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির একটি বড় অংশ বাস্তবায়ন করা হয়েছে বলে দাবি করেছে রাজ্য সরকার।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সীমান্তে বেড়া নির্মাণের জন্য জমি হস্তান্তরের তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার করা এবং সীমান্ত সুরক্ষিত করা তাঁর সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে শুভেন্দু জানান, ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তের বিভিন্ন অংশে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরির জন্য বিএসএফের কাছে জমি দেওয়ার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ১৭২ দশমিক ৬ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় বেড়া নির্মাণের জন্য মোট ১ হাজার ২৪ দশমিক ৭৫ একর জমি হস্তান্তর করা হয়েছে।
এর আগে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় রাজ্যপাল আরএন রবি জানিয়েছিলেন, সীমান্ত অবকাঠামো উন্নয়নের অংশ হিসেবে সরকার বিএসএফকে জমি দেওয়ার কাজ শুরু করেছে। তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারী দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই কয়েক দফায় জমি হস্তান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, নয়টি জেলার সীমান্ত এলাকায় এই জমি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি জমি হস্তান্তর করা হয়েছে মুর্শিদাবাদ জেলায়। সেখানে প্রায় ৪৫ দশমিক ৪ কিলোমিটার সীমান্তে বেড়া নির্মাণের জন্য বিএসএফকে ৩৩৭ একর জমি দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে জলপাইগুড়িতে সবচেয়ে কম জমি হস্তান্তর হয়েছে।
রাজ্য সরকারের দাবি, সীমান্তে বেড়া নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় জমির বড় অংশই এখন বিএসএফের হাতে পৌঁছে গেছে। একজন সরকারি কর্মকর্তা বলেন, নির্ধারিত সময়ের আগেই এক হাজার একরের বেশি জমি হস্তান্তর করা হয়েছে।
নির্বাচনী প্রচারের সময় বিজেপি সীমান্ত সুরক্ষাকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে তুলে ধরেছিল। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ অভিযোগ করেছিলেন, আগের তৃণমূল কংগ্রেস সরকার জমি দিতে অনীহা দেখানোর কারণে সীমান্তে বেড়া নির্মাণের কাজ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। বিজেপি ক্ষমতায় এলে দ্রুত জমি দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিল দলটি।
শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক সীমান্তে বেড়া নির্মাণ শেষ করতে বিএসএফকে রাজ্য সরকার প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিয়ে যাবে। তাঁর মতে, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নাগরিকদের নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করা সরকারের অন্যতম দায়িত্ব।
এদিকে, মঙ্গলবার হুগলি জেলার তারকেশ্বরে এক অনুষ্ঠানে শুভেন্দু অধিকারী পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকারকে সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, আগের সরকার নির্দিষ্ট কিছু নীতির কারণে উন্নয়নমূলক কাজে ভারসাম্য রাখতে পারেনি। একই অনুষ্ঠানে তিনি তারকেশ্বরকে আরও বড় তীর্থকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান।