• হরমুজ প্রণালীতে সাবমেরিন মোতায়েন
  • ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রাশিয়ায় সংরক্ষণ করার প্রস্তাব

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের অবসানে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া প্রস্তাবের বিপরীতে নিজেদের জবাব পাঠিয়ে দিয়েছে ইরান। গতকাল রোববার মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের মাধ্যমে এই জবাব পাঠানো হয়েছে বলে ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা ইরনার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী আলোচনার প্রথম ধাপে যুদ্ধ পরিস্থিতি ও শত্রুতার অবসানের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছে তেহরান। পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ থেকে কাতার-ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিনিধি কামাল হায়দার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবের বিপরীতে ইরানের পাঠানো প্রস্তাব পাওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছে পাকিস্তান।ইরনা বলেছে, ‘‘যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত সর্বশেষ খসড়ার বিপরীতে রোববার পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে তাদের জবাব পাঠিয়েছে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান।’’ তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত আর কোনও তথ্য জানায়নি দেশটির এই সরকারি সংবাদমাধ্যম। যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবের বিপরীতে ইরানের জবাব হাতে পাওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছে পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ। এখন দেখার বিষয় পাকিস্তান কবে নাগাদ এটি ওয়াশিংটনের কাছে পৌঁছে দেয় এবং সেটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া কী হয়। আনাদোলু এজেন্সি, রয়টার্স, তাসনিমা নিউজ এজেন্সি।

কাতার-কুয়েত-আমিরাতে ড্রোন হামলা॥ জাহাজে আগুন

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মাঝে মধ্যপ্রাচ্যের তিন দেশ ড্রোন হামলা হয়েছে। এই হামলায় কাতারে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে আগুন ধরে গেলেও কুয়েত এবং আমিরাতে তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির কোনও তথ্য জানা যায়নি। এতে বলা হয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া অন্তত দু’টি ড্রোনকে নিজেদের আকাশে শনাক্ত এবং বাধা দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সামরিক বাহিনী। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘‘ইরানের এসব প্রকাশ্য হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখন পর্যন্ত মোট ৫৫১টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ২৯টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২ হাজার ২৬৫টি ড্রোন মোকাবিলা করেছে।’’এদিকে, একই দিনে কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, রোববার আবুধাবি থেকে দেশটির জলসীমায় প্রবেশ করা একটি বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। এতে জাহাজটিতে সামান্য আগুন ধরে গেলেও হতাহতের কোনও ঘটনা ঘটেনি। এছাড়া কুয়েতের সামরিক বাহিনী গতকাল রোববার ভোরের দিকে দেশটিতে ড্রোন হামলা হয়েছে বলে জানিয়েছে।

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা দেশগুলোকে যে হুঁশিয়ারি দিল ইরান

আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেই ইরান এক কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, যেসব দেশ তেহরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে সহায়তা করবে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াতের সময় তারা নিশ্চিতভাবে ‘অসুবিধার’ সম্মুখীন হবে। গতকাল রোববার ইরানের সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়। দেশটির আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আকরামি নিয়ার এই বক্তব্যটি প্রচার করা হয়েছে।জেনারেল আকরামি নিয়া এক বিবৃতিতে দাবি করেন, ইরানকে দমানোর জন্য শত্রুপক্ষ যেসব লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল, তার একটিও অর্জিত হয়নি। চলমান সংকটের মধ্যেও ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থার ভারসাম্য অটুট রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শত্রুদের কোনো ষড়যন্ত্রই সফল হতে দেওয়া হয়নি। গত মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘোষণা করেন, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনতে মার্কিন সামরিক বাহিনী তাদের ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখবে। তবে তিনি এটিও স্পষ্ট করে দেন যে ইরানের ওপর মার্কিন নৌ-অবরোধ পূর্ণ শক্তিতে বহাল থাকবে। যুক্তরাষ্ট্রের এই অনমনীয় অবস্থানের পাল্টা জবাব হিসেবেই ইরান এখন প্রণালিটি দিয়ে যাতায়াতকারী দেশগুলোর বিরুদ্ধে সরাসরি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রচ্ছন্ন হুমকি দিল, যা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার এবং নৌ-চলাচলের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

হরমুজ প্রণালিতে সাবমেরিন মোতায়েন করল ইরান

কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে শত্রুপক্ষের রণতরী মোকাবিলায় সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি বিশেষ হালকা সাবমেরিন মোতায়েন করেছে ইরান। দেশটির নৌবাহিনী প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল শাহরাম ইরানি রোববার (১০ মে) এই ঘোষণা দিয়ে জানান, নৌবাহিনীর কর্মকর্তারা ভালোবেসে এই সাবমেরিনগুলোকে ‘পারস্য উপসাগরের ডলফিন’ বলে ডাকেন। বর্তমান হুমকি এবং অপারেশনাল প্রয়োজন মাথায় রেখে এই অত্যাধুনিক ডুবোজাহাজগুলো হরমুজ প্রণালির সমুদ্রতটে সুকৌশলে অবস্থান নিয়েছে।রিয়ার অ্যাডমিরাল ইরানি বলেন, এই হালকা সাবমেরিনগুলো অত্যন্ত শক্তিশালী এবং এগুলো হরমুজ প্রণালির গভীর সমুদ্রতটে দীর্ঘ সময় ঘাপটি মেরে পড়ে থাকতে সক্ষম। সেখান থেকেই তারা শত্রুপক্ষের যেকোনো সন্দেহভাজন ভেসেল বা রণতরীকে ট্র্যাক করতে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নিমেষেই ধ্বংস করে দিতে পারে। ইরানের ক্রমবর্ধমান সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা শক্তির অংশ হিসেবে এই সাবমেরিন বহরকে আরও সম্প্রসারিত করা হচ্ছে।

সম্প্রতি ‘ডেনা’ ডেস্ট্রয়ারের শহীদদের স্মরণে আয়োজিত এক বিশেষ সামরিক অভিযানের সময় এই ‘ডলফিন’ সাবমেরিনগুলো সমুদ্রের উপরিভাগে ভেসে উঠে নিজেদের সক্ষমতার জানান দেয়।

ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রাশিয়ায় নিয়ে সংরক্ষণ করার প্রস্তাব দিলেন পুতিন

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন বলেছেন, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত পরিবহন ও সংরক্ষণ করতে মস্কো প্রস্তুত।

মস্কোতে এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে পুতিন এ কথা বলেন। তিনি বলেন, রাশিয়া ২০১৫ সালে ইরান থেকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম স্থানান্তর করেছিল, মস্কো সেই অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি করতে প্রস্তুত।

সাম্প্রতিক ইরান যুদ্ধে জড়িত সব পক্ষই তেহরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশটির বাইরে স্থানান্তরের বিষয়ে একমত হয়েছিল বলে জানান পুতিন। তিনি বলেন, ‘কিন্তু পরে যুক্তরাষ্ট্র তাদের অবস্থান কঠোর করে এবং দাবি করে যে (ইরানের) ইউরেনিয়াম শুধু মার্কিন ভূখণ্ডেই পরিবহন করতে হবে। এরপর ইরানও কঠোর অবস্থানে চলে যায়।’

মস্কো ওয়াশিংটন ও তেহরানের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে জানিয়ে পুতিন আরও বলেন, যত দ্রুত সম্ভব এ যুদ্ধ শেষ হবে বলে তিনি আশা করছেন। ইরান তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।