আনাদুলা এজেন্সি, আল-জাজিরা : দখলদার ইসরায়েলের হামলায় ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। এসব ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও অন্তত আট হাজার ফিলিস্তিনির লাশ রয়েছে। জাতিসংঘের এক কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে এই খবর জানিয়েছে ইসরায়েলের একটি গণমাধ্যম। তুরস্কের সংবাদ সংস্থাটি বলছে, দুই বছরব্যাপী যুদ্ধের পর গাজায় থাকা ধ্বংসাবশেষের এক শতাংশেরও কম এখন পর্যন্ত অপসারণ করা হয়েছে। ইসরায়েলের দৈনিক হারেৎজ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইউএনডিপির এক কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, ধ্বংসাবশেষ অপসারণের ধীরগতির কারণে পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে সাত বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। ওই কর্মকর্তা বলেন, “উপত্যকার বিভিন্ন স্থানে ধসে পড়া ভবনের নিচে এখনও হাজার হাজার মরদেহ চাপা পড়ে রয়েছে। পরিবারগুলো তাদের স্বজনদের মরদেহ উদ্ধার ও দাফনের অপেক্ষায় রয়েছে।” এই পরিসংখ্যানটি করা হয়েছে ফিলিস্তিনি সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষের তথ্যের ভিত্তিতে। তারা সতর্ক করে জানিয়েছে, সরঞ্জাম ও সক্ষমতার মারাত্মক ঘাটতির কারণে ব্যাপক ধ্বংসস্তূপ অপসারণের কাজ ধীরগতিতে এগোচ্ছে।
এদিকে, যুদ্ধবিরতি থাকলেও প্রায়শ তা ইসরায়েল লঙ্ঘন করছে বলে অভিযোগ গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের। তাদের তথ্যমতে, যুদ্ধবিরতির পর ইসরায়েলি হামলায় ৮২৮ ফিলিস্তিনি নিহত এবং দুই হাজার ৩৪২ জন আহত হয়েছেন। যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি গাজায় ইসরায়েলের দুই বছরব্যাপী হামলা বন্ধ করার উদ্দেশে করা হয়েছিল। দুই বছরের হামলায় ৭২ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। আহত হয়েছে এক লাখ ৭২ হাজার। ইসরায়েলের বর্বর হামলায় গাজার বেসামরিক অবকাঠামোর প্রায় ৯০ শতাংশ ধ্বংস হয়ে গেছে। জাতিসংঘের হিসেব অনুযায়ী, গাজা পুনর্গঠনের ব্যয় প্রায় ৭০ বিলিয়ন ডলার হতে পারে।
দক্ষিণ লেবাননে যুদ্ধরত ইসরাইলি সেনাদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি ও দোকানপাটে ব্যাপক লুটতরাজের অভিযোগ উঠেছে। শীর্ষ সামরিক কমান্ডারদের কড়া হুঁশিয়ারি সত্ত্বেও সেনাদের এই অনৈতিক কর্মকাণ্ড ঠেকাতে হিমশিম খাচ্ছে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী। ইসরাইলের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘ইয়েদিওথ আহরোনথ’ ও ‘হারেৎজ’-এর প্রতিবেদনে সেনাদের এই লুটপাটের চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন রিজার্ভ সেনা সদস্যের বরাত দিয়ে ইয়েদিওথ আহরোনথ জানায়, সীমান্ত এলাকায় মোতায়েন থাকা অনেক রিজার্ভ ইউনিটকে নির্বিচারে লুটতরাজ করতে দেখা গেছে।
ওই সেনা সদস্যের ভাষ্যমতে, সেনারা অস্ত্রশস্ত্র থেকে শুরু করে স্মৃতিচিহ্ন, অলঙ্কার, কম্বল এবং ব্যক্তিগত ছবি—যা সামনে পাচ্ছে তাই সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছে। এমনকি জনশূন্য ব্যক্তিগত ঘরবাড়ি এবং দোকানপাট থেকেও মূল্যবান সামগ্রী হাতিয়ে নিচ্ছে তারা।
একটি ঘটনায় দেখা গেছে, একজন ইসরাইলি কমান্ডার তার অধীনে থাকা সেনাদের লুট করা মালামাল নিয়ে ইসরাইলে ফিরতে বাধা দিচ্ছেন। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যমগুলো আরও উল্লেখ করেছে যে এর আগে গাজা যুদ্ধের সময়ও দেশটির সেনাদের বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ উঠেছিল। সম্প্রতি ইসরাইলি সেনাপ্রধান ইয়াল জামির সিনিয়র সামরিক কর্মকর্তাদের এক সভায় সেনাদের এই লুটপাটের ঘটনা নিয়ে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন। তবে মাঠ পর্যায়ের চিত্র বলছে, কমান্ডিং অফিসারদের এই নির্দেশ মানার ক্ষেত্রে সেনাদের মধ্যে চরম উদাসীনতা বিরাজ করছে, যা ইসরাইলি বাহিনীর শৃঙ্খলা ও ভাবমূর্তিকে সংকটে ফেলেছে।