ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। আজ শনিবার তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করবেন।

নতুন মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচনে গতকাল শুক্রবার কলকাতায় বিজেপির নেতৃত্বাধীন সংসদীয় দলের বৈঠক হয়। সেখানে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দুর নাম প্রস্তাব করেন বিজেপির সাবেক রাজ্য প্রধান দিলীপ ঘোষ। এ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা অমিত শাহ। তাকে বৈঠকের প্রধান পর্যবেক্ষক হিসেবে রাখা হয়। আর উপ-পর্যবেক্ষক হিসেবে ছিলেন ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চড়ন মাঝি। এনডিটিভি, এএনআই, রয়টার্স, বিবিসি।

শুভেন্দুকে সংসদীয় দলের মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে মমতা ব্যানার্জির ১৫ বছরের শাসনামলের সমাপ্তি ঘটেছে।

গত ২৩ ও ২৯ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার ভোটগ্রহণ হয়। এরপর ৪ মে ভোটগণনা হয়। এতে সেখানকার ২৯৪টি আসনের মধ্যে একক দল হিসেবে ২০৭টি আসনে জয় পায় বিজেপি।

শুভেন্দু অধিকারী নিজে এক সময় মমতার তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনীতি করতেন এবং ওই দলের মন্ত্রীও ছিলেন। এছাড়া মমতার সঙ্গে তার বেশ ভালো সম্পর্ক ছিল। কিন্তু ২০২০ সালে তিনি তৃণমূল ছেড়ে হিন্দুত্ববাদী বিজেপিতে যোগ দেন।

তিনি ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মমতা ব্যানার্জিকে নন্দিগ্রাম আসন থেকে হারান। আর এবার হারিয়েছেন ভবানিপুর থেকে। সেখানে মমতার চেয়ে ১৫ হাজারের বেশি ভোট পেয়েছেন তিনি। এই ভবানিপুর মমতার দুর্গ হিসেবে পরিচিত ছিল। বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে দুজন উপ-মুখ্যমন্ত্রীও নিয়োগ দেবে। গত দুই দশকে সেখানে কাউকে উপ-মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব দেয়া হয়নি।

থালাপতি বিজয় কংগ্রেস বামদের সমর্থনে সরকার গঠন করছে টিভিকে : ভারতের দক্ষিণাঞ্চলের রাজ্য তামিলনাড়ুতে সরকার গঠন করছে থালাপতি বিজয়ের দল তামিলাগা ভেটরি কাজাগাম (টিভিকে)। কংগ্রেস, স্থানীয় দল ভিসিকে ও বামপন্থীদের দুই দল সিপিআই ও সিপিএমের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করছে তারা। আজ শুক্রবার বিকেলে দলগুলো টিভিকেকে সমর্থন জানিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে গত চার দিন ধরে তামিলনাড়ুতে সরকার গঠন নিয়ে চলা অচলাবস্থার অবসান ঘটেছে।

গত সোমবার বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণায় তামিলনাড়ুতে সবচেয়ে বেশি আসন পায় চিত্রনায়ক থেকে রাজনীতিতে এসে চমক দেখানো থালাপতি বিজয়ের দল টিভিকে। তারা পায় ১০৭টি আসন। কিন্তু ২৩৪ আসনের বিধানসভায় সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ছিল ১১৮টি আসন। তামিলনাড়ুতে প্রভাবশালী দুই দল ডিএমকে ও এআইএডিএমকে নিজেদের মধ্যে বিভেদ ঘুচিয়ে জোটবদ্ধ হয়ে সরকার গঠনের আলোচনা শুরু করে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত থালাপতি বিজয়ই শেষ হাসি হাসছেন।

তেলেঙ্গানায় আজহারউদ্দিন ও কোদান্দারামের এমএলসি নিয়োগে হস্তক্ষেপ করবে না হাইকোর্ট : এদিকে তেলেঙ্গানার রাজ্যপাল কোটায় সাবেক ক্রিকেটার মোহাম্মদ আজহারউদ্দিন এবং অধ্যাপক এম কোদান্দারাম রেড্ডিকে বিধান পরিষদের সদস্য (এমএলসি) হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন তেলেঙ্গানা হাইকোর্ট।

আদালত স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন, এই নিয়োগ সংক্রান্ত কোনো আপত্তি থাকলে তা দেশের সর্বোচ্চ আদালত বা সুপ্রিম কোর্টে তোলা উচিত। হায়দরাবাদের বাসিন্দা সৈয়দ হায়দার সরকারের গত ২৬ এপ্রিলের এক আদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদনটি করেছিলেন। আবেদনকারীর অভিযোগ ছিল, সরকার সুপ্রিম কোর্টে একটি মামলা ঝুলে থাকার বিষয়টি জানলেও ইচ্ছাকৃতভাবে নিয়োগের আদেশে মামলার নম্বর বা বিস্তারিত তথ্য গোপন করেছে।

বিচারপতি নাগেশ ভীমপাকার আদালতে শুনানির সময় আদালত পর্যবেক্ষণ করেন যে, সরকারি আদেশেই স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে এই নিয়োগগুলো সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন মামলার চূড়ান্ত রায়ের ওপর নির্ভর করবে। যেহেতু বিষয়টি ইতিমধ্যে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের বিবেচনাধীন রয়েছে, তাই এই পর্যায়ে হাইকোর্টের এখানে হস্তক্ষেপ করার কোনো এখতিয়ার নেই। আদালত আবেদনকারীকে পরামর্শ দিয়েছেন যে, এই নিয়োগ নিয়ে কোনো অভিযোগ থাকলে তিনি যেন সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। এই পর্যবেক্ষণের পরই হাইকোর্ট পিটিশনটি বন্ধ করে দেন।