টোলো নিউজ

উত্তর-পূর্ব চীনের শিনজিয়ান প্রদেশের রাজধানী উরুমচিতে গতকাল বুধবার আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিষয়টি সম্পর্কে জানেন আফগানিস্তানের এমন কয়েকজন সাংবাদিক ও কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। দুই দেশের মধ্যে এক মাসের বেশি সময় ধরে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটছে। সেই সংঘাতের অবসানের লক্ষ্যেই প্রাথমিকভাবে এই আলোচনা শুরু হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাতেই বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রথম আলোকে জানানো হয়, আফগানিস্তানের একটি প্রতিনিধিদল চীনে পৌঁছে গেছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার ইতিমধ্যেই চীনে পৌঁছেছেন। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর বৈঠকও হয়েছে।

আফগান সরকারের একটি দপ্তরে কর্মরত এক কর্মকর্তা প্রথম আলোকে জানান, পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আফগানিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকির ইতিমধ্যে বৈঠক হয়েছে। ওই কর্মকর্তা আবার সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগের দায়িত্বও পালন করে থাকেন। তিনি বলেন, দুই দেশ পরস্পরের দেশে রাষ্ট্রদূত পাঠাতে, অর্থাৎ কূটনৈতিক পর্যায়ে সম্পর্ক স্থিতিশীল করতে একমত হয়েছে। আফগান সরকারের এক কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে ওই কর্মকর্তা বলেছেন, দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হলে তা দক্ষিণ এশিয়ার কূটনীতিতে একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা বলে চিহ্নিত হবে। ওই কর্মকর্তা বলেন, দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একটি বিবৃতিও প্রকাশিত হবে। তবে তা যৌথ হবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। আফগানিস্তানের প্রধান সংবাদমাধ্যম টোলো নিউজ আজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অবশ্য জানিয়েছে, ‘দুপক্ষের এই আলোচনায় আফগানিস্তানের পক্ষ থেকে প্রতিনিধিদলে কারা থাকছেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ইসলামি আমিরাত ও পাকিস্তান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এই আলোচনার বিষয়ে এখন পর্যন্ত কিছু জানায়নি।’

তবে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা যে হচ্ছে, পাকিস্তান ইতিমধ্যে চলমান সংঘাত নিয়ে তুরস্ক ও সৌদি আরবের সঙ্গে আলোচনা করেছে। তবে কোনো সমাধান হয়নি। পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে এক মাসের বেশি সময় ধরে সংঘাত চলছে। এতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ইরান যুদ্ধের মতো না হলেও সীমান্ত অঞ্চলে কয়েক শ মানুষ গত এক মাসে প্রাণ হারিয়েছেন, হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পদ বিনষ্ট হয়েছে এবং বহু মানুষ আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

আফগানিস্তান এই যুদ্ধে পিছিয়েই আছে বলা যায়। কারণ, তারা পাকিস্তানের সীমান্ত অঞ্চলেই আঘাত আনতে পেরেছে, যেখানে পাকিস্তান আফগানিস্তানের প্রধান শহর কাবুলেও হামলা চালিয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আফগানিস্তানের দিকেই বেশি।

তবে চীন এখন দুপক্ষকেই কথাবার্তা বলার জন্য এক জায়গায় আনতে পেরেছে বলে সংবাদমাধ্যমের খবরে জানা যাচ্ছে। চীনের পত্রিকা পিপলস ডেইলি গতকাল মঙ্গলবার জানিয়েছে, চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরানোর লক্ষ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন তিনি। পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সম্পর্কের উন্নয়নে চীনের বড় ধরনের স্বার্থ রয়েছে।

কারণ, চীন থেকে পাকিস্তান পর্যন্ত একটি করিডর বানানোর চেষ্টা করছে সি চিন পিংয়ের সরকার। আফগানিস্তানের পূর্বে চীনের সঙ্গে একটি ক্ষুদ্র সীমান্ত রয়েছে। আর আফগানিস্তানের পূর্ব ও দক্ষিণে রয়েছে পাকিস্তান সীমান্ত। অর্থাৎ চীন-পাকিস্তান করিডর হতে গেলে তা যেতে হবে আফগানিস্তানের ওপর দিয়ে। এই করিডর বাস্তবায়ন করতে চায় চীন। চীনের উদ্দেশ্য, এটির মাধ্যমে বৃহৎ বিআরআই (বেল্ট অ্যান্ড রোড) প্রকল্পের সঙ্গে বিভিন্ন দেশকে যুক্ত করা। এই আলোচনার বিস্তারিত চলতি সপ্তাহেই জানা যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।