এপি : ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত ও হরমুজ প্রণালিতে সৃষ্ট অচলাবস্থা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সতর্ক করেছেন মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র সাবেক পরিচালক বিল বার্নস। তার মতে, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখার দায়িত্ব ইউরোপীয় মিত্র বা উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর ওপর চাপিয়ে দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র নিজেকে সরিয়ে নিতে পারে। ফরেন অ্যাফেয়ার্স ম্যাগাজিনের এক পডকাস্টে সাবেক এই গোয়েন্দা প্রধান বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের প্রধান তেল টার্মিনাল খার্গ দ্বীপ বা হরমুজ প্রণালি সংলগ্ন এলাকা দখলে নিতে স্থল অভিযান চালাতে পারেন, তবে এর প্রতিটি পদক্ষেপেই চরম ঝুঁকি রয়েছে।
সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী কলিন পাওয়েলের ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধ-পূর্ববর্তী বিখ্যাত ‘পটারি বার্ন রুল’ (আমরা ভেঙেছি, তাই মালিকানা আমাদের)-এর প্রসঙ্গ টেনে বার্নস বলেন, এবার পরিস্থিতি উল্টো হতে পারে। তার ভাষায়, এবার নীতিটি হতে পারে এমন, ‘আমরা ভেঙেছি, এখন দায়ভার তোমাদের’। অর্থাৎ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখার দায়িত্ব ইউরোপীয় মিত্র বা উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর ওপর চাপিয়ে দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র নিজেকে সরিয়ে নিতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল মিলে ইরানের বিরুদ্ধে যে যুদ্ধ শুরু করেছে, তাকে ‘পছন্দমাফিক যুদ্ধ’ বলে অভিহিত করেছেন বার্নস। তিনি মনে করেন, এই যুদ্ধ ইরানের কট্টরপন্থিদের আরও শক্তিশালী করে তুলতে পারে। ওবামা শাসনামলে ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তির আগে তেহরানের সঙ্গে গোপন আলোচনায় অংশ নেওয়া এই অভিজ্ঞ কূটনীতিক বলেন, ইরান সরকার অর্থনীতি ব্যবস্থাপনার মতো অনেক বিষয়ে অদক্ষ হতে পারে, কিন্তু তারা নিজেদের টিকিয়ে রাখতে এবং অভ্যন্তরীণ দমন-পীড়ন চালাতে পারদর্শী। এমনকি শীর্ষ নেতৃত্বকে সরিয়ে দিলেও তারা টিকে থাকার ক্ষমতা রাখে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ শীর্ষ নেতাদের নিহতের ঘটনায় দেশটিতে ‘শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন’ হয়েছে বলে ডোনাল্ড ট্রাম্প যে দাবি করেছেন, তার সঙ্গে একমত নন বিল বার্নস। তিনি বলেন, কিছু দিক থেকে এই শাসনব্যবস্থা দুর্বল হয়েছে ঠিকই, কিন্তু এটি এখন আরও বেশি উগ্র, কট্টর ও রক্ষণশীল হয়ে উঠেছে। ইরানি নেতাদের কাছে টিকে থাকাই হলো বিজয়। বিল বার্নস আরও বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্বাস করি যে এই শাসনব্যবস্থা পতনের দিকেই যাচ্ছে। কিন্তু আমার আশঙ্কা হচ্ছে, এই যুদ্ধের মাধ্যমে আমরা সেই পতনের মুহূর্তকে ত্বরান্বিত করার বদলে উল্টো কিছুটা ধীর করে দিয়েছি।