পাকিস্তানের কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানকে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর চিকিৎসার জন্য শুক্রবার (২০ আগস্ট) মধ্যরাতের পর কড়া নিরাপত্তার মধ্যে তাকে ইসলামাবাদের শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে নেয়া হয়।

সংবাদমাধ্যম দ্য ডন বলছে, ইমরান খানের নিরাপত্তায় বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ৮০০ জনের বেশি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। চিকিৎসা পরীক্ষা শেষে তাকে আবারও কারাগারে ফেরত নেয়ার কথা রয়েছে।

তোশাখানার উপহারের তথ্য গোপনের অভিযোগে ২০২৩ সালের ৫ আগস্ট থেকে কারাগারে আছেন ইমরান খান। ১৯ কোটি পাউন্ডের দুর্নীতি মামলাটি আল-কাদির ট্রাস্ট মামলা নামেও পরিচিত এবং এই মামলায় তাকে ১৪ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। বর্তমানে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে সাজা ভোগ করছেন তিনি। তবে কারাগারে থাকার সময় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। এ নিয়ে তার দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

এদিকে ইমরান খান হাসপাতালে পৌঁছানোর পর ইসলামাবাদের পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) সৈয়দ আলী নাসির রিজভি আবারও সেখানে যান। তিনি হাসপাতালের নিরাপত্তাব্যবস্থা পরিদর্শন করেন। এর আগে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাতেও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর হাসপাতালে আসাকে কেন্দ্র করে প্রস্তুতি ও নিরাপত্তাব্যবস্থা দেখতে সেখানে গিয়েছিলেন তিনি।

দ্য ডন বলছে, বৃহস্পতিবার গভীর রাতেই ইমরানের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেয়ার প্রস্তুতি শেষ করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, রাজধানী প্রশাসন, পুলিশ, কারা কর্তৃপক্ষ ও রেঞ্জার্সসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার প্রতিনিধিরা নিরাপত্তা ও অন্যান্য প্রস্তুতি চূড়ান্ত করতে হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন।

ইসলামাবাদ পুলিশের জারি করা একটি নিরাপত্তা নির্দেশনা অনুযায়ী, ওই এলাকায় বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ৮০০ জনের বেশি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। তাদের চারটি মূল দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এগুলো হলো—নাগরিকদের ‘জীবন, সম্পদ ও মর্যাদা’ রক্ষা করা, সন্ত্রাসী হামলা থেকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, জনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ওই এলাকায় পার্কিং ও যান চলাচলের ব্যবস্থা করবেন রাজধানীর প্রধান ট্রাফিক কর্মকর্তা। পাশাপাশি পরিত্যক্ত গাড়ি ও মোটরসাইকেলও তল্লাশি করা হবে।

হাসপাতালের দিকে যাওয়ার সড়কগুলোতে নিরাপত্তাচৌকি বসানো হয়েছে। একই সঙ্গে হাসপাতালের নিরাপত্তাব্যবস্থাও পর্যালোচনা করা হয়েছে। এর আগে ইমরানকে কারাগার থেকে হাসপাতালে নেয়ার জন্য রাজধানী পুলিশ ও প্রশাসনের সদস্যদের নিয়ে বিশেষ দলও গঠন করা হয়।

সূত্রগুলো জানায়, মেডিকেল টেস্ট ও শারীরিক অবস্থা যাচাইয়ের জন্য আদিয়ালা কারাগার থেকে ইমরানকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব ছিল পুলিশের। পরীক্ষা শেষে তাকে আবার কারাগারে ফিরিয়ে নেয়ার কথা রয়েছে।

পাকিস্তানে অস্থিরতা বাড়ছেই, ইমরান খানকে মুক্তি দিতে চলছে গোপন আলোচনা তবে চিকিৎসার জন্য ইমরানকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট কক্ষ, ওয়ার্ড বা পুরো একটি তলাকে সাব-জেল হিসেবে ঘোষণা করতে পারবেন প্রধান কমিশনার। এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। তখন আদিয়ালা কারাগারের কর্মকর্তাদেরও হাসপাতালে মোতায়েন করা হবে।