আল-জাজিরা : লেবাননে চলমান ইসরায়েলি হামলার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত যুদ্ধবিরতির আলোচনায় দেশটির জনগণের মধ্যে তেমন কোনো আস্থা নেই। বরং এটি আত্মসমর্পণের আলোচনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
তবে কি ইরান-সমর্থিত লেবাননের প্রধান সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করাই এ আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু? গতকাল শনিবার দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমন মন্তব্য করেছেন বৈরুতভিত্তিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক রানিয়া খালেক। তিনি বলেন, লেবাননের অনেক মানুষ ওয়াশিংটনের এই আলোচনাকে প্রকৃত অর্থে শান্তি আলোচনা হিসেবে দেখছেন না।
বরং তাদের কাছে এটি আত্মসমর্পণের আলোচনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। খালেকের ভাষ্য অনুযায়ী, আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করা। অথচ লেবাননের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, বেসামরিক জনগণকে সুরক্ষা দেওয়া কিংবা ইসরায়েলি হামলা বন্ধ করার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে না।
তিনি আরো বলেন, লেবাননের শিয়া সম্প্রদায় বর্তমানে সবচেয়ে বেশি হামলা, বোমাবর্ষণ ও বাস্তুচ্যুত হলেও, তাদের প্রতিনিধিরা এই আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন না। তার দাবি, এ কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে আলোচনা নিয়ে কোনো বাস্তব প্রত্যাশা তৈরি হয়নি। বরং কেউ কেউ এই আলোচনাকে গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছেও না। ফলে তীব্র চাপের মধ্যেও দেশটিতে চলমান এ সংঘাত নিরসনের আলোচনা ভেস্তে যাচ্ছে। এদিকে সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ যুদ্ধবিরতি ও শান্তি প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে ইরান।
তবে একই সময়ে হরমুজ প্রণালিতে উভয় পক্ষের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা ও পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনাও ঘটছে। ফলে কূটনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি যুদ্ধ পরিস্থিতিও পুরোপুরি থেমে যায়নি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ইরানের নেতৃত্বকে ‘উন্মাদ’ আখ্যা দিয়ে সতর্ক করেন। তিনি বলেন, দ্রুত চুক্তিতে রাজি না হলে তেহরানকে আরো কঠোর সামরিক পদক্ষেপের মুখোমুখি হতে হবে।