চাঁদের ঐতিহাসিক ফ্লাইবাই সম্পন্ন করার পর আর্টেমিস-২ এর নভোচারীরা তাদের ১০ দিনের মিশনের শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছেন। আজ শুক্রবার পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ ও সমুদ্রে অবতরণের মাধ্যমে এই মিশনের সমাপ্তি ঘটবে। খবর এবিসি নিউজ

মিশনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও চ্যালেঞ্জিং ধাপ হলো পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ। এই সময় মহাকাশযানকে প্রচণ্ড তাপ ও গতির মধ্যে দিয়ে নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরতে হয়—যা যেকোনো নভোচারী যাত্রার সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত।

তবে বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ শুরু হলে প্রায় ৬ মিনিটের জন্য মিশন কন্ট্রোলের সঙ্গে নভোচারীদের যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন থাকবে। এই সময়টিকে “ব্ল্যাকআউট পিরিয়ড” বলা হয়, যেখানে মহাকাশযানের চারপাশে সৃষ্ট তাপীয় প্লাজমা যোগাযোগে বাধা সৃষ্টি করে।

এই গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার মাধ্যমেই প্রমাণিত হবে, মহাকাশযানটি নিরাপদে নভোচারীদের পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম কিনা।

সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী সম্পন্ন হলে, মিশনের সফল সমাপ্তির মাধ্যমে ভবিষ্যতে মানুষকে আবার চাঁদে পাঠানোর পথে বড় একটি অগ্রগতি অর্জিত হবে।

পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে ঢোকার সময় ওরিয়ন–এর গতি থাকবে ঘণ্টায় প্রায় ২৪,০০০ মাইলের বেশি। বায়ুমণ্ডল ঘন হতে থাকলে ঘর্ষণের কারণে গতি কমবে, তবে সৃষ্টি হবে তীব্র তাপ—প্রায় ৫,০০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট, যা আগ্নেয়গিরির লাভার তাপমাত্রার দ্বিগুণেরও বেশি।

এই তাপে মহাকাশযানটি আগুনের গোলার মতো দেখাবে।

মহাকাশ থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগো উপকূল পর্যন্ত সমুদ্রে অবতরণ করতে প্রায় ১৩ মিনিট সময় লাগবে।

পুনঃপ্রবেশের সময় বায়ুমণ্ডলের ঘর্ষণ ও সংকোচনের ফলে মহাকাশযানের চারপাশে তৈরি হয় প্লাজমার একটি স্তর। এই প্লাজমা বুদবুদই রেডিও সিগন্যালকে ঢুকতে বা বের হতে বাধা দেয়।

অন্যদিকে চাঁদের পেছনে যাওয়ার সময় যে ৪০ মিনিট যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছিল, সেটি ছিল চাঁদের কারণে সিগন্যাল বাধাপ্রাপ্ত হওয়ায়—কিন্তু এবার কারণ সম্পূর্ণ ভিন্ন।

সাবেক নাসা নভোচারী ব্যারি উইলমোর বলেন, এই সময় আতঙ্কিত হওয়ার সুযোগ নেই। নভোচারীরা পুরোপুরি মনোযোগ দেন মহাকাশযানের সিস্টেম পর্যবেক্ষণে। তারা আগেই সব ধরনের জরুরি পরিস্থিতির প্রশিক্ষণ নিয়ে থাকেন, তাই নির্ধারিত কাজেই মনোযোগ ধরে রাখাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

এই ৬ মিনিটেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজটি করে তাপ ঢাল। মহাকাশযানের নিচে থাকা এই সুরক্ষা স্তর তীব্র তাপ থেকে নভোচারীদের রক্ষা করে। পাশাপাশি ম্যানুভারিং জেটগুলো নিশ্চিত করে, যাতে হিট শিল্ড সবসময় সঠিক দিকে থাকে।

ব্ল্যাকআউট শেষ হওয়ার পরও মহাকাশযানের গতি অনেক বেশি থাকে। তখন বিশেষভাবে তৈরি প্যারাশুট খুলে গতি কমিয়ে আনা হয় প্রায় ২০ মাইল প্রতি ঘণ্টায়। এরপরই প্রশান্ত মহাসাগরে নিরাপদ অবতরণ সম্পন্ন হবে।

সবকিছু ঠিক থাকলে, শুক্রবার সান ডিয়েগো উপকূলের কাছে এই ঐতিহাসিক মিশনের সফল সমাপ্তি ঘটবে।