দুর্নীতি ও ঘুষ নেওয়ার দায়ে চীনের দুই সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে দুই বছরের স্থগিতাদেশসহ মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে দেশটির একটি আদালত। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। মূলত চীনের সশস্ত্র বাহিনী থেকে দুর্নীতি ও আনুগত্যহীনতা দূর করতে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের নেওয়া শুদ্ধি অভিযানে সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে এই দুই জেনারেলই এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ পদমর্যাদার কর্মকর্তা।
আইনি পরিভাষায় ‘দুই বছরের স্থগিতাদেশসহ মৃত্যুদণ্ড’ দেওয়া হলেও অপরাধীদের এখনই ফাঁসিতে ঝোলানো হচ্ছে না। চীনে সাধারণত এ ধরনের সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা দুই বছর কারাগারে ভালো আচরণ দেখালে বিচারকেরা তাদের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়ে থাকেন। ফলে এই দুই সাবেক মন্ত্রীকে সম্ভবত বাকি জীবন কারাগারেই কাটাতে হবে।
চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদসংস্থা সিনহুয়ার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে জানানো হয়, দণ্ডিত দুই সাবেক মন্ত্রীর একজন হলেন জেনারেল ওয়েই ফেংহে। তাঁর বিরুদ্ধে বড় অঙ্কের ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। অন্যজন হলেন জেনারেল লি শাংফু। তাঁর বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার পাশাপাশি অন্যকে ঘুষ দেওয়ারও প্রমাণ পেয়েছে আদালত। তবে তাদের বিরুদ্ধে ওঠা এই দুর্নীতির বিষয়ে বিস্তারিত আর কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি বেইজিং।
প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং চীনের সামরিক বাহিনীকে আধুনিক ও দুর্নীতিমুক্ত করার যে ব্যাপক অভিযান শুরু করেছিলেন, তার শুরুতেই ফেঁসে যান এই দুই প্রভাবশালী জেনারেল। কয়েক বছর আগে যখন এই শুদ্ধি অভিযান জোরদার হয়, তখনই তাদের পদ থেকে সরিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ‘সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ’ (সিএসআইএস)-এর সাম্প্রতিক এক পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, শি জিনপিংয়ের এই শুদ্ধি অভিযান শুরুর পর থেকে চীনের সামরিক বাহিনীর প্রায় ১০০ জন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে অথবা তারা রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, নিখোঁজ হওয়া এই কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও গোপনে তদন্ত চালাচ্ছে বেইজিং।