লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি বাহিনীর অবিরাম বিমান হামলায় শনি ও রোববার অন্তত ২৪ জন নিহত হয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তজনা এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার পরোক্ষ সংঘাতের আবহে এই হামলা চালানো হয়। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ লেবাননের টায়ার জেলাসহ বেশ কয়েকটি জনবহুল এলাকা এই ধ্বংসযজ্ঞের শিকার হয়েছে। আসন্ন কূটনৈতিক আলোচনার আগে এই ব্যাপক সামরিক তৎপরতা অঞ্চলটিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলেছে।
গত শনিবার থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি বিমান হামলায় লেবাননের বিভিন্ন সীমান্ত শহর ও গ্রাম লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। বিশেষ করে টায়ার (Tyre) জেলার মানসুরি, রামাদিয়া এবং সামাইরা শহরে ড্রোন ও যুদ্ধবিমান থেকে মুহুর্মুহু হামলা চালানো হয়। এতে অন্তত ২৪ জন প্রাণ হারান এবং বহু মানুষ আহত হন। হামলার কারণে অনেক বেসামরিক ঘরবাড়ি ও একটি পোল্ট্রি ফিড কারখানা ধ্বংস হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, তারা হিজবুল্লাহর সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে এই 'অপারেশন ইটারনাল ডার্কনেস' পরিচালনা করছে। তবে লেবানিজ কর্তৃপক্ষের মতে, নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুসহ বেসামরিক নাগরিকের সংখ্যাই বেশি। অন্যদিকে, এই হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো উত্তর ইসরায়েলে রকেট হামলা অব্যাহত রেখেছে, যা পরিস্থিতিকে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ও বৈশ্বিক প্রতিক্রিয়া
এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের মধ্যেই আগামী ১৪ ও ১৫ মে ওয়াশিংটনে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে একটি শান্তি ও নিরাপত্তা চুক্তির বিষয়ে আলোচনার কথা রয়েছে। তবে মাঠপর্যায়ে হামলার তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় এই আলোচনার সফলতা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। ইরান ইতিমধ্যে মার্কিন স্বার্থে আঘাত হানার হুমকি দিয়েছে, যার ফলে লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলেও বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।