প্রায় ৪০ দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর ঘোষিত দুই সপ্তাহের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বুধবার (২২ এপ্রিল) শেষ হতে চলেছে। মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে দীর্ঘ ২১ ঘণ্টা ব্যাপী উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পরও কোনো টেকসই চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান।

ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্য এখন নতুন এক অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়ে।

আল জাজিরার প্রতিবেদন এবং কূটনৈতিক সূত্র অনুযায়ী, সমঝোতা না হওয়ার পেছনে পাঁচটি প্রধান ইস্যু ‘বিষফোঁড়া’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

  • পারমাণবিক কর্মসূচি: ওয়াশিংটন চাচ্ছে তেহরান চিরতরে তাদের পারমাণবিক কার্যক্রম বন্ধ করুক। তবে ইরান বলছে, তারা কেবল একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য এই কার্যক্রম স্থগিত রাখতে পারে।
  • ইউরেনিয়াম মজুত: প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের হাতে থাকা প্রায় ৪০০ কেজি উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে দিতে হবে। তেহরান এই প্রস্তাবকে ‘সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত’ হিসেবে সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে।
  • হরমুজ প্রণালি ও বন্দর অবরোধ: ট্রাম্পের ঘোষণা অনুযায়ী, চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ইরানি বন্দরে অবরোধ বহাল থাকবে। অন্যদিকে ইরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, বন্দর থেকে অবরোধ প্রত্যাহার না করলে বিশ্ব বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ কোনোভাবেই খুলে দেওয়া হবে না।
  • জব্দ করা সম্পদ: তেহরান যেকোনো চুক্তির আগে তাদের জব্দ থাকা ২০ বিলিয়ন ডলার সমমূল্যের সম্পদ ফেরত এবং সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।
  • বিশাল ক্ষতিপূরণ দাবি: যুদ্ধের ফলে ইরানের সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনার যে ক্ষতি হয়েছে, তার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কাছে প্রায় ২৭০ বিলিয়ন ডলার যুদ্ধকালীন ক্ষতিপূরণ দাবি করছে ইরান।

গত ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে দুই দেশের প্রতিনিধিরা মুখোমুখি হলেও আস্থার সংকটে কোনো সমাধান আসেনি। হোয়াইট হাউস তাদের অবস্থানে অনড় রয়েছে, অন্যদিকে ইরানও হুমকির ছায়ায় কোনো সমঝোতায় যেতে নারাজ।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের কড়া অবস্থান থেকে সরে না আসে এবং ইরান যদি হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখে, তবে কাল যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার পরপরই বিশ্ববাজারে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ দুই পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানালেও তেহরান নতুন করে আলোচনায় অংশ নিতে এখনো কোনো সবুজ সংকেত দেয়নি।

ফলে আগামীকাল বুধবারের পর মধ্যপ্রাচ্য কি আবারও যুদ্ধের দাবানলে পুড়বে নাকি শেষ মুহূর্তে কোনো অলৌকিক সমঝোতা আসবে—তা নিয়ে পুরো বিশ্ব এখন গভীর উৎকণ্ঠায়।