বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের নজর এখন পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের দিকে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত নিরসনের লক্ষ্যে শনিবার (১১ এপ্রিল) সেখানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের শান্তি আলোচনা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আলোচনায় অংশ নিতে ইরানি প্রতিনিধি দল ইতোমধ্যে পাকিস্তানে পৌঁছেছে। অন্যদিকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সও উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল নিয়ে ইসলামাবাদের পথে রয়েছেন।
বৈঠককে কেন্দ্র করে ইসলামাবাদে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে সরকারি ভবন ও বিদেশি দূতাবাসঘেরা ‘রেড জোন’ এলাকায় সাধারণ মানুষের প্রবেশ ও যান চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা হয়েছে। দেশি-বিদেশি সাংবাদিকদের জন্য জিন্নাহ কনভেনশন সেন্টারে ব্যবস্থা করা হলেও গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে সেনাবাহিনী ও নিরাপত্তা বাহিনী কড়া নজরদারি চালাচ্ছে।
ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিমের বরাতে জানা গেছে, পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল শুক্রবার রাতেই ইসলামাবাদে পৌঁছায়। এই দলে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি, প্রতিরক্ষা কাউন্সিলের সচিব এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন কর্মকর্তা। অর্থনৈতিক ও সামরিক—উভয় দিক থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে তেহরান এই আলোচনায় অংশ নিচ্ছে।
অন্যদিকে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স বিশেষ বিমান ‘এয়ার ফোর্স টু’ করে পাকিস্তানের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। এই সফরকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে ব্যাপক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে দুই পক্ষই এখনো আলোচনার বিস্তারিত এজেন্ডা ও প্রতিনিধি তালিকা গোপন রেখেছে।
এত প্রস্তুতির পরও আলোচনার সাফল্য নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। এর মূল কারণ লেবাননে চলমান সংঘাত।
ইরানের দাবি, শান্তি প্রক্রিয়া সফল করতে হলে লেবানন ইস্যুকেও আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান হলো, বর্তমান সমঝোতায় লেবানন সরাসরি অন্তর্ভুক্ত নয়।
এই মতবিরোধের কারণে শেষ মুহূর্তে আলোচনার ফলাফল নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। ইসরায়েল এখনো এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।
ইসলামাবাদে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছিলেন, ইরান এই বৈঠকে ১০ দফা প্রস্তাব উপস্থাপন করবে। তবে পরে সেই পোস্টটি মুছে ফেলা হয় এবং এটিকে ‘সময়ের আগের তথ্য’ বলে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়।
সব পক্ষই আলোচনায় আশাবাদ ব্যক্ত করলেও, নিজ নিজ শর্ত পূরণ না হলে কঠোর অবস্থানের হুঁশিয়ারিও দিয়ে রেখেছে।