বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা মহানগরী আমীর অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান বলেছেন, জামায়াত সবসময় দল-মত, জাতি, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে সকল ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করে। জামায়াত ইসলামীর চার দফা কর্মসূচির মধ্যে একটি অন্যতম কর্মসূচি হচ্ছে সমাজসেবা ও সমাজ সংস্কার। মানুষের কল্যাণে কাজ করা এটা আমাদের ঈমানী দায়িত্ব ও কর্তব্য বলে আমরা বিশ্বাস করি। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে যেকোন বিপদ আপদ ও দূর্যোগে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সারাবছরই মানুষের পাশে থাকে। মানবতার পাশে আমরা আছি সবসময় থাকব ইনশাআল্লাহ। তিনি বলেন, মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও সুখি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে আমরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। নাগরিকের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার কাজে আমরা সব সময়ে সোচ্চার। আমরা এদেশকে ইসলামের সুমহান আদর্শের আলোকে ন্যায় ও ইনসাফ ভিত্তিক একটি কল্যাণরাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য রাজনীতি করি। যেখানে মানুষের মৌলিক অধিকার বাস্তবায়ন হবে। মানুষের জান-মালের নিরাপত্তা থাকবে। এই রাষ্ট্র ব্যবস্থার সুফল হিসেবে মানুষ তাদের স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশের অধিকার সুনিশ্চিত হবে এবং মানবতার পাশে সকলে দাঁড়াবে। তিনি সকলকে সেই কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পাশে থাকার উদাত্ত আহবান জানান। গত ৮ এপ্রিল রাতে নগরীর খালিশপুরের ক্রিসেন্ট জুট মিলস গেট সংলগ্ন বাসাবাড়িতে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত অটোচালক মোহাম্মদ রিপন, ভ্যানচালক মোহাম্মদ বাবু ও বাসের হেলপার মোহাম্মদ সাকিবের হাতে গতকাল শুক্রবার সকালে নগদ অর্থ তুলে দিয়ে তিনি এ আহবান জানান। এ সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্থদের পরিবারের সার্বিক খোঁজখবর নেন।
এ সময় তার সঙ্গে খুলনা মহানগরী জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি ও শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের মহানগরী সভাপতি আজিজুল ইসলাম ফারাজী, খালিশপুর থানা আমীর মাওলানা আব্দুল্লাহ আল মামুন, সেক্রেটারি আব্দুল আউয়াল, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের মহানগরী সহ-সভাপতি এস এম মাহফুজুর রহমান, ৮ নং ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর আমীর সাইদুর রহমান, মানজুরুল ইসলাম, আব্দুর রাজ্জাক, তানভীর, এডভোকেট আবু সাঈদ, জাহাঙ্গীর হোসেন, বদরুর রশিদ মিন্টু, বিপ্লব হোসেন, বাবু, শহিদুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
মহানগরী আমীর আরও বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একটি জনকল্যাণমূলক রাজনীতিক দল। এর আগেও যেকোন মানবিক বিপর্যয়ে সাধ্য অনুযায়ী সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। এরই ধারাবাহিকতায় আগুনে ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করা হয়। আগামীতেও এধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, মানুষ যেখানেই বিপদগ্রস্ত হয়, সেখানেই জামায়াতে ইসলামী ছুটে যায়। জামায়াতে ইসলামীর মূল উদ্দেশ্যই হলো মানুষের কল্যাণ সাধন করে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা। জামায়াতে ইসলামীর কর্মী মানেই একজন সমাজকর্মী।