১৭ দিনের ব্যবধানে আবারও বাড়ল এলপিজি ও অটোগ্যাসের দাম। ১২ কেজিতে ২১২ টাকা বাড়িয়ে ১৯৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে ২এপ্রিল ৩৮৭ টাকা বাড়িয়ে ১৭২৭ টাকা করেছিল বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।
গতকাল রোববার এলপিজির দাম বৃদ্ধির আদেশে আমদানিতে জাহাজ ভাড়া, প্রিমিয়াম চার্জ ও ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণ উল্লেখ করেছে বিইআরসি। অর্থাৎ এক মাসে ৫৯৯ টাকা বাড়ল ১২ কেজিতে।
মূল্য বৃদ্ধির আদেশে বলা হয়েছে, জাহাজ ভাড়া ও ট্রেডার প্রিমিয়াম প্রতি টনে ১২০ ডলার বিবেচনায় ১৭২৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়। ইরান যুদ্ধের কারণে জাহাজ ভাড়া ও প্রিমিয়াম খরচ বেড়ে গেছে। এলপিজি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে জাহাজ ভাড়া ও ট্রেডার প্রিমিয়াম প্রতি টনে ২৫০ ডলার বিবেচনায় নতুন দর ঘোষণা করা হলো। অন্যদিকে যানবাহনে ব্যবহৃত অটোগ্যাস লিটার প্রতি ৭৯.৭৭ টাকা থেকে ৮৯.৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এপ্রিলের শুরুতে ১২ কেজি এলপি গ্যাসের দাম ৩৮৭ টাকা বাড়িয়ে ১৭২৮ টাকা নির্ধারণ করে। একইসঙ্গে অটোগ্যাস ৬১.৮৩ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭৯.৭৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
যদিও গত ৬ মাস ধরে বিইআরসি ঘোষিত দরের কোন কার্যকারিতা নেই। বলা যায় নজিরবিহীন অরাজকতা চলছে এলপিজি খাতে। বিক্রেতারা ইচ্ছে মাফিক দাম আদায় করছে। মার্চের দর ১৩৪১ টাকা থাকলেও ১৮০০ থেকে ২০০০ টাকায় বেচাকেনার খবর পাওয়া গেছে।
এলপি গ্যাস সংকটকে পুঁজি করে একের পর এক সুবিধা দেওয়া হয় আমদানিকারকদের। আমদানিসীমা বাড়িয়ে দেওয়া, ট্যাক্সকমানো এবং এলসি ঋণ সুবিধার ধারাবাহিকতায় ফ্রেইটচার্জও (জাহাজ ভাড়া) টন প্রতি ১০৮ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১২০ডলার করা হয়। শুধু এসব সুবিধা নয়, আমদানিকারকদের দাবির প্রেক্ষিতে ঋণে এলসি খোলার অনুমতি প্রদান করা হয়েছে।
ভোক্তাপর্যায়ে বেসরকারি খাতের তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম ফের বাড়ানো হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ২১২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৯৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিইআরসির ঘোষণা অনুযায়ী, এবার প্রতি কেজি এলপিজিতে দাম বেড়েছে ১৭ টাকা ৬২ পয়সা। এর আগে চলতি মাসের শুরুতেই প্রতি কেজিতে দাম বাড়ানো হয়েছিল ৩২ টাকা ৩০ পয়সা। সেই হিসেবে এক মাসের মধ্যেই দ্বিতীয় দফায় দাম বাড়ল এলপিজির।
নতুন দাম অনুযায়ী, ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৭২৮ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৯৪০ টাকা করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রতি সিলিন্ডারে গ্রাহককে অতিরিক্ত ২১২ টাকা গুনতে হবে।
বিইআরসি জানায়, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্থানীয় বাজারে এই দাম সমন্বয় করা হয়েছে, যা আজ সন্ধ্যা থেকে কার্যকর হবে।