• সংকট মোকাবিলায় বিকল্প উৎস, বিদেশি বিনিয়োগ ও নতুন সরবরাহকারী খুঁজছে বাংলাদেশ

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি রক্ষা, শিল্প-কারখানার চাকা সচল রাখা এবং ক্রমবর্ধমান অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণে জ্বালানি খাত এখন দেশের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা, সরবরাহ ব্যবস্থার জটিলতা এবং রিজার্ভের ওপর চাপের প্রেক্ষাপটে সাময়িক সংকট সমাধানের পথ পেরিয়ে এক দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তার দিকে হাঁটছে বাংলাদেশ। এই লক্ষ্য অর্জনে বিদ্যমান প্রথাগত কূটনৈতিক ধারার বাইরে গিয়ে ‘জ্বালানি কূটনীতি’কে কেন্দ্রবিন্দুতে রেখে নতুন নীতিনির্ধারণ করছে বর্তমান বিএনপির সরকার। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে এইসব তথ্য জানাযায়। সেই লক্ষ্যে আজ সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) মিলনায়তনে জ্বালানি নিরাপত্তার এই বহুমুখী চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায় নিয়ে আয়োজন করা হয়েছে এক উচ্চপর্যায়ের জাতীয় সেমিনার। “ Energy Security in Bangladesh: From Crisis Management to Resilient Energy Transition” শীর্ষক এই সেমিনারে দেশের শীর্ষস্থানীয় নীতিনির্ধারক, জ্বালানি বিশেষজ্ঞ, কূটনীতিক এবং অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা অংশ নেবেন। সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। সেমিনারটি আয়োজন করছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস)।

এদিকে জ্বালানি কূটনীতির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে বিদেশি বিনিয়োগ। সরকার ইতোমধ্যে দেশের সমুদ্রসীমায় তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য ২০২৬ সালের অফশোর (সমুদ্রভিত্তিক তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের দরপত্র আহ্বান পর্ব) চালু করেছে। এতে ২৬টি অফশোর ব্লক আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে এবং আগের তুলনায় বিনিয়োগবান্ধব উৎপাদন অংশীদারিত্ব চুক্তি বা পিএসসি প্রস্তাব করা হয়েছে। ব্রিটিশ জ্বালানি কোম্পানি বিপি ও বাংলাদেশের অফশোর অনুসন্ধান কার্যক্রমে আগ্রহ দেখিয়েছে। শুধু তেল-গ্যাস অনুসন্ধান নয়, এলএনজি টার্মিনাল, দ্বিতীয় তেল শোধনাগার, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং অন্যান্য অবকাঠামোতেও বিদেশি বিনিয়োগ চায় সরকার। আজারবাইজানের বাকু এনার্জি ফোরামেও বাংলাদেশ এসব খাতে বিদেশি বিনিয়োগ আহ্বান করেছে।

সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, দেশের গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট প্রতিদিনের কাছাকাছি হলেও সরবরাহ তার চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে কম। আগস্টে একটি এলএনজি টার্মিনাল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ ২ হাজার ২০০ মিলিয়ন ঘনফুটের নিচে নেমে গিয়েছিল। ফলে শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎ উৎপাদন, পরিবহন ও সাধারণ গ্রাহক—সব ক্ষেত্রেই সংকট দেখা দেয়।

এদিকে দেশের কূটনীতিক ও অর্থনীতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংকটের মূলে রয়েছে আমদানিনির্ভরতা। বাংলাদেশের জ্বালানি ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো আমদানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা। দেশের নিজস্ব গ্যাস উৎপাদন একসময় অর্থনীতি ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের বড় অংশের চাহিদা পূরণ করলেও এখন পুরোনো গ্যাসক্ষেত্রগুলোর উৎপাদন কমছে। ফলে বিদ্যুৎকেন্দ্র, শিল্পকারখানা ও অন্যান্য খাতে গ্যাসের চাহিদা পূরণে এলএনজি আমদানি বাড়াতে হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতি শুধু সাময়িক এলএনজি সংকট নয়। দেশের পুরোনো গ্যাসক্ষেত্রগুলোর উৎপাদন কমে যাওয়া, নতুন অনুসন্ধানে দীর্ঘদিনের ঘাটতি এবং অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা সংকটকে দীর্ঘমেয়াদি রূপ দিয়েছে। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের সাম্প্রতিক আলোচনায় বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে দেশের অবশিষ্ট গ্যাস মজুত ২০৩১ সালের দিকে উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম গত ৫ সেপ্টেম্বর সোনারগাঁ হোটেলে এক বক্তব্যে জ্বালানি কূটনীতির একটি বিষয় স্পষ্ট—পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখন জ্বালানি নিরাপত্তাকে কূটনৈতিক অগ্রাধিকারের অংশ হিসেবে দেখছে। তিনি বলেছেন, সরকার জ্বালানির বিকল্প উৎস খুঁজছে এবং এলএনজির নতুন উৎসের পাশাপাশি আফ্রিকার দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতার সম্ভাবনা যাচাই করছে। এই বহুমুখীকরণ জ্বালানি কূটনীতি আরও বাড়াতে চায় সরকার। এর আগে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে শামা ওবায়েদ ইসলাম এমপি সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশ জ্বালানি আমদানির উৎস বহুমুখী করতে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। সৌদি আরব, ভারত, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মতো দেশের সঙ্গেও জ্বালানি নিয়ে আলোচনা চলছে বলে তিনি জানিয়েছিলেন। অর্থাৎ ভবিষ্যতের জ্বালানি কূটনীতিতে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং আফ্রিকার দেশগুলোকেও বিবেচনায় আনা হচ্ছে।

নতুন জ্বালানি কূটনীতির মাধ্যমে কাতার-ওমানের ওপর নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা: বাংলাদেশ ২০১৮ সাল থেকে খঘএ আমদানি শুরু করে। দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির ক্ষেত্রে কাতার ও ওমান গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহকারী। কিন্তু চলতি বছর মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন বাংলাদেশের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করেছে। ২০২৫ সালে কাতার বাংলাদেশকে প্রায় ৪ দশমিক ১৫ মিলিয়ন টন এলএনজি সরবরাহ করেছিল। কিন্তু ২০২৬ সালে সংঘাতের কারণে কাতার নির্ধারিত এলএনজি সরবরাহের পরিমাণ অর্ধেক করার সিদ্ধান্ত নেয়। এর ফলে বাংলাদেশকে স্পট মার্কেট থেকে অতিরিক্ত এলএনজি কিনতে হয়েছে। মার্চের পর কয়েক ডজন স্পট কার্গো আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এখানেই জ্বালানি কূটনীতির গুরুত্ব সামনে এসেছে। একটি বা দুটি দেশের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা থাকলে আন্তর্জাতিক সংকটের সময় বাংলাদেশ সরবরাহ ও দামের দুই দিক থেকেই ঝুঁকিতে পড়ে। এছাড়া স্পট মার্কেট থেকে বিভিন্ন দেশের সরবরাহকারীর এলএনজি কেনা হচ্ছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানাযায়, স্পট মার্কেটে এলএনজি কেনার জন্য ২৯টি কোম্পানিকে প্রাথমিকভাবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এর লক্ষ্য হচ্ছে প্রতিযোগিতা বাড়ানো এবং কোনো একটি সরবরাহকারীর ওপর নির্ভরতা কমানো।

এদিকে জ্বালানি তেলের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ একাধিক দেশের ওপর নির্ভরশীল। ২০২৬ সালের সরকারি ক্রয় পরিকল্পনায় চীন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ভারত, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় কোম্পানি থেকে পরিশোধিত জ্বালানি আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের দিকে বাড়ছে নজর: বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র জ্বালানি সহযোগিতার ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। চলতি বছরের মে মাসে দুই দেশ জ্বালানি খাতে কৌশলগত সহযোগিতা নিয়ে একটি সমঝোতা স্মারক সই করেছে। এর আওতায় তেল, গ্যাস, ভূ-তাপীয় শক্তি ও বায়োএনার্জি নিয়ে গবেষণা, জ্ঞান ও প্রযুক্তি বিনিময়ের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র থেকে খঘএ, খচএ ও অন্যান্য জ্বালানি পণ্য আমদানির সুযোগ তৈরির কথা বলা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এলএনজি বাংলাদেশের জন্য একটি সম্ভাবনাময় বিকল্প হতে পারে। তবে শুধু নতুন দেশ থেকে জ্বালানি কিনলেই হবে না; পরিবহন ব্যয়, চুক্তির ধরন, আন্তর্জাতিক বাজারদর, বন্দর সক্ষমতা এবং দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ নিশ্চয়তার বিষয়ও বিবেচনা করতে হবে।

বিশ্বব্যাংকের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এলএনজি-এর দাম ও সরবরাহে অস্থিরতা তৈরি করেছে এবং আমদানিনির্ভর বাংলাদেশ এতে বড় ধরনের আর্থিক চাপের মুখে পড়ছে। সংস্থাটি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশকে ৩৫০ মিলিয়ন ডলারের অতিরিক্ত অর্থায়নের অনুমোদন দিয়েছে।

অন্যদিকে সিনিয়র কূটনীতিক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ সাকিব আলী বলেছেন, বর্তমান সংকট মোকাবিলায় একই সঙ্গে স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থা নিতে হবে। দেশের নিজস্ব গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি প্রযুক্তি, অর্থায়ন ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা দূর করার ওপরও তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন। পাশাপাশি জ্বালানি খাতে কূটনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধি করতে হবে। নতুন দেশ থেকে জ্বালানি আমদানি ও বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীও বলেছেন, গ্যাসের সংকট স্থানীয় ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলোর একটি।

সংকট মোকাবিলায় করণীয় বিষয়ে ৫ পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের: আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. নজরুল ইসলাম এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ সাকিব আলীর মতে, প্রথমত, জ্বালানি আমদানির উৎস আরও বহুমুখী করতে হবে। কাতার, ওমান বা মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, আফ্রিকা, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও অন্যান্য সম্ভাবনাময় সরবরাহকারীর সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে।

দ্বিতীয়ত, শুধু সবচেয়ে কম দাম নয়—সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। সস্তা জ্বালানি কিনতে গিয়ে যদি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে শিল্প ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষতি তার চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে। তৃতীয়ত, কৌশলগত জ্বালানি মজুত বাড়াতে হবে। আন্তর্জাতিক বাজারে সংকট দেখা দিলে যেন কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাসের সরবরাহ ধরে রাখা যায়, সেই সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে। চতুর্থত, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান জোরদার করতে হবে। অফশোর ও অনশোর অনুসন্ধানে আন্তর্জাতিক কোম্পানিকে স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ায় যুক্ত করতে হবে। পঞ্চমত, এলএনজি অবকাঠামো বাড়াতে হবে। একটি বা দুটি টার্মিনালের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা ভবিষ্যতেও ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। সরকার ইতোমধ্যে নতুন FSRU স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে। আজারবাইজানের SOCAR এ বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. নজরুল ইসলাম বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। সৌরবিদ্যুৎ, ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ, বায়ু ও অন্যান্য উৎসকে জাতীয় জ্বালানি পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ করতে হবে। কারণ দীর্ঘমেয়াদে শুধু আমদানি করা তেল ও গ্যাস দিয়ে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন। বাংলাদেশের বর্তমান জ্বালানি সংকট নিঃসন্দেহে বড় চ্যালেঞ্জ। তবে একই সঙ্গে এটি দীর্ঘদিনের দুর্বলতা কাটিয়ে নতুন জ্বালানি কাঠামো তৈরির সুযোগও তৈরি করতে হবে। তিনি বলেন, বিশ্বের জ্বালানি বাজার এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি ভূরাজনীতিনির্ভর। একটি যুদ্ধ, একটি নৌপথ বন্ধ হওয়া কিংবা একটি বড় উৎপাদনকারী দেশের সিদ্ধান্তই জ্বালানির দাম ও সরবরাহে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশের জন্য তাই জ্বালানি নিরাপত্তা আর শুধু বাণিজ্যিক বিষয় নয়—এটি এখন সরাসরি কূটনৈতিক ও জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়।